বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) জাতীয় সংসদের অধিবেশনে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আনীত ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে এসব বলেন তিনি।
বক্তব্যের শুরুতে তিনি বঙ্গবন্ধুকে স্বাধীনতার অন্যতম নায়ক উল্লেখ করে শ্রদ্ধা জানিয়ে বলেন, 'আমি প্রথমেই শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছি স্বাধীনতার অন্যতম নায়ক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানকে ও আরেকজন নেতা স্বাধীন বাংলাদেশের অগ্রদূত, যিনি ১৯৭০ সালে জাতীয় নির্বাচনে বয়কট করে ঘোষণা দিয়েছিলেন ‘ব্যালট বাক্সে লাথি মারো, পূর্ব পাকিস্তান স্বাধীন করো’, সেই জননেতা মাওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানীর প্রতি শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করছি।'
সংবিধানে স্বাধীনতার ঘোষকের প্রসঙ্গে মো. আবদুল ওয়ারেছ বলেন, 'মাননীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, সংবিধানে মহা অসত্য রয়েছে। তিনি ন্যায্যভাবে সংবিধানের ব্যাখ্যা দিচ্ছেন। কিন্তু সংবিধানে এখনো স্বাধীনতার ঘোষক হিসেবে শেখ মুজিবের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। আমি নিন্দা জানাচ্ছি, তীব্র আপত্তি করছি। ঘোষক শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান এখন পর্যন্ত কেন সংসদে লিপিবদ্ধ করা হলো না? তাই আমি দাবি করছি, এই মেয়াদের মধ্যেই শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানকে স্বাধীনতার ঘোষক হিসেবে সংসদে লিপিবদ্ধ করা হোক।'
নিজের নির্বাচনী এলাকার সমস্যা প্রসঙ্গে এমপি বলেন, 'সাঘাটা ও ফুলছড়ি উপজেলার একাধিক ইউনিয়ন যমুনা নদীভাঙনের কবলে পড়েছে। নদী শাসন কার্যক্রম জোরদার করার পাশাপাশি দ্রুত স্থায়ী বাঁধ নির্মাণের দাবি জানাই।'
একইসঙ্গে উত্তরবঙ্গের উন্নয়নে ফুলছড়ি থেকে বাহাদুরাবাদ পর্যন্ত দ্বিতীয় যমুনা সেতু নির্মাণের দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, 'এটি বাস্তবায়িত হলে শিল্পায়ন ও কৃষিপণ্য পরিবহন সহজ হবে। এতে বোনারপাড়া রেলওয়ে জংশন ও হাসপাতাল পূর্ণোদ্যমে চালু হবে।'
স্বাস্থ্যখাতের দুরবস্থার বিষয়ে সংসদ সদস্য বলেন, 'সাঘাটা ও ফুলছড়ি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে জনবল সংকট তীব্র, বহু পদ শূন্য রয়েছে। দ্রুত নিয়োগ দিয়ে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার আহ্বান জানাই। পাশাপাশি গাইবান্ধায় একটি কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ও মেডিকেল কলেজ প্রতিষ্ঠার দাবি জানাই।'