প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর এটি তার প্রথম সিলেট সফর। এর আগে সকালে তিনি বিমানযোগে ঢাকা থেকে সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান।
সিলেট সিটি করপোরেশন (সিসিক) সূত্রে জানা গেছে, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে নগরীর বন্যা নিয়ন্ত্রণ ও পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থায় উল্লেখযোগ্য উন্নতি হবে। ফলে দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতার ভোগান্তি থেকে অনেকটাই মুক্তি পাবেন নগরবাসী।
ভৌগলিকভাবে টিলা ও নদীবেষ্টিত সিলেট নগরীর ভেতর দিয়ে প্রবাহিত ১৩টি প্রাকৃতিক ছড়া সরাসরি সুরমা নদীতে গিয়ে মিশেছে। বর্ষা মৌসুমে উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল ও অতিবৃষ্টির কারণে এসব ছড়া দিয়ে নদীর পানি উল্টো নগরীতে প্রবেশ করে দীর্ঘস্থায়ী জলাবদ্ধতার সৃষ্টি করে। ২০২২ থেকে ২০২৪ সালের ভয়াবহ বন্যার অভিজ্ঞতা এবং পানি বিশেষজ্ঞ ড. আইনুন নিশাতের পরামর্শের ভিত্তিতে প্রকল্পটি প্রণয়ন করা হয়েছে।
প্রকল্পের আওতায় কাজীরবাজারের বৈঠাখাল, ছড়ারপাড়ের গোয়ালীছড়া এবং বোরহানউদ্দিন এলাকার হলদিছড়ায় আধুনিক স্লুইস গেট ও উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন পাম্প স্থাপন করা হবে। এর মাধ্যমে নদীর পানি নগরীতে প্রবেশ রোধের পাশাপাশি বৃষ্টির পানি দ্রুত নিষ্কাশন করা সম্ভব হবে।
এছাড়া শাহপরাণ সেতু থেকে বাদাঘাট সেতু পর্যন্ত সুরমা নদীর দুই তীরের প্রায় সাড়ে ১৭ কিলোমিটার এলাকা উঁচু করা হবে। যেখানে পাড় উঁচু করা সম্ভব নয়, সেখানে নির্মাণ করা হবে বন্যা প্রতিরক্ষামূলক দেয়াল (ফ্লাড ওয়াল)।
সিসিক জানায়, প্রকল্পের প্রথম ধাপে সরকার ৪ হাজার ৬৩৫ কোটি টাকা বরাদ্দ দেবে। বিদেশি সহায়তায় প্রকল্পটি বাস্তবায়নের পরিকল্পনা রয়েছে।
উদ্বোধনের আগে সকাল সাড়ে ১০টায় প্রধানমন্ত্রী হযরত শাহজালাল (রহ.)-এর মাজার জিয়ারত করেন। এরপর দুপুরে সিলেট সদর উপজেলার কান্দিগাঁও এলাকায় বাসিয়া খাল খননকাজের উদ্বোধন করার কথা রয়েছে। বিকেল ৩টায় তিনি সিলেট জেলা স্টেডিয়ামে ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস ২০২৬’ উদ্বোধন করবেন এবং বিকেল ৫টায় জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে দলীয় সভায় অংশ নেবেন।