সরেজমিনে দেখা যায়, কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলার রায়গঞ্জ এলাকায় আধুনিক ভবন ও অবকাঠামো থাকলেও নেই পর্যাপ্ত শিক্ষক, ল্যাবরেটরি ও প্রশিক্ষণ সরঞ্জাম। হাতে-কলমে পাঠদানের জন্য যেসব উপকরণ থাকা প্রয়োজন, তার অধিকাংশই অনুপস্থিত।
২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষে ল্যাবরেটরি মেডিসিন ও রেডিওগ্রাফি, দুটি বিভাগে ভর্তি কার্যক্রম শুরু হয়। ভর্তি কার্যক্রম শুরুর পর তিন শিক্ষাবর্ষে ৫০ জন করে মোট ১৫০ জন শিক্ষার্থী ভর্তি করা হয়। প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম শুরুতে একজন অধ্যক্ষ, দুজন শিক্ষক ও একজন অফিস সহায়ক থাকলেও প্রায় এক বছর ধরে অধ্যক্ষের পদটি রয়েছে শূন্য অবস্থায়। মাত্র দুইজন শিক্ষক দিয়ে বর্তমানে চলছে সব ক্লাস।
রেডিওগ্রাফি বিভাগের শিক্ষার্থী ইমরান আল তাসিন বলেন, 'অনেক স্বপ্ন নিয়ে ভর্তি হয়েছিলাম। কিন্তু শিক্ষক আর ল্যাব না থাকায় হাতে-কলমে শেখার সুযোগ পাচ্ছি না। দ্রুত শিক্ষক নিয়োগ ও প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম সরবরাহের দাবি জানাই।'
প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক সামিউল বাশির বলেন, 'তিন সেশনে দেড়শ শিক্ষার্থী পড়ছে। আবাসিক সুবিধা থাকলেও শিক্ষক সংকট চরমে। দ্রুত পদ সৃষ্টি ও ল্যাব স্থাপন হলে কার্যক্রম গতিশীল হবে।'
প্রতিষ্ঠানের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ডা. সুভাস চন্দ্র সরকার বলেন, 'জনবলের পদ সৃষ্টি না হওয়ায় একজন সিনিয়র লেকচারার ও একজন মেডিকেল টেকনোলজিস্ট নিয়ে পাঠদান চালানো হচ্ছে। গেস্ট টিচারের সহায়তায় প্রথম বর্ষে ক্লাস নেওয়া সম্ভব হলেও দ্বিতীয় বর্ষ থেকে কার্যক্রম চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে।'
জানা গেছে, টানা তিন বছর শিক্ষার্থী ভর্তি করা হলেও ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষে নতুন ভর্তি কার্যক্রম বন্ধ রাখা হয়েছে। শিক্ষক ও সরঞ্জাম সংকট নিরসনে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপই এখন সময়ের দাবি। এমন মত শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকদের।
সদ্য সংবাদ/আতিকুর রহমান