ঝালকাঠি শহরে সাবেক পৌর মেয়র ও আওয়ামী লীগ নেতা লিয়াকত আলী তালুকদারের মালিকানাধীন একটি ভবনে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) জেলা কার্যালয় চালু করা হয়েছে। তবে কার্যালয়ের জন্য নেওয়া কক্ষটি আগে আওয়ামী লীগের দলীয় কার্যালয় ছিল কি না, তা নিয়ে ভবনমালিকের পরিবার ও এনসিপি নেতাদের মধ্যে ভিন্ন বক্তব্য পাওয়া গেছে।
শহরের ৭ নম্বর কোর্ট রোডের ভবনটির তৃতীয় তলায় বুধবার (২১ অক্টোবর) রাতে নতুন কার্যালয়ের উদ্বোধন করা হয়। এ উপলক্ষে সেখানে এনসিপির সাইনবোর্ড স্থাপন করা হয় এবং দলীয় কার্যক্রম শুরুর ঘোষণা দেওয়া হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য ও এনসিপির দক্ষিণাঞ্চলের যুগ্ম মুখ্য সংগঠক ডা. মাহমুদা মিতু। বিশেষ অতিথি ছিলেন শহীদ শরিফ ওসমান হাদির বোন মাসুমা হাদি। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জেলা এনসিপির আহ্বায়ক প্রকৌশলী এইচ এম জাকির হোসেন। এ সময় দলের স্থানীয় নেতাকর্মীরাও উপস্থিত ছিলেন।
ভবনটির মালিক লিয়াকত আলী তালুকদার ঝালকাঠি পৌর আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি ও সাবেক মেয়র। তাঁর ছেলে মো. মিঠু তালুকদারের দাবি, তৃতীয় তলায় আগে পৌর আওয়ামী লীগের কার্যালয় পরিচালিত হতো। আওয়ামী লীগের কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর কক্ষটি একটি বিমা প্রতিষ্ঠানের কাছে ভাড়া দেওয়া হয়েছিল। প্রতিষ্ঠানটি চলে যাওয়ার পর জায়গাটি কিছুদিন অব্যবহৃত ছিল। পরে সেটি আবার ভাড়া দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
তবে এ বক্তব্যের সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করেছেন জেলা এনসিপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক মোস্তফা কামাল। তাঁর ভাষ্য, চলতি মাসে তাঁরা কক্ষটি ভাড়া নিয়েছেন। এর আগে সেখানে বিমা প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম চলত। আওয়ামী লীগের কার্যালয় হিসেবে কক্ষটি ব্যবহারের দাবি তিনি নাকচ করেছেন।
এনসিপির দক্ষিণাঞ্চলের যুগ্ম মুখ্য সংগঠক ডা. মাহমুদা মিতুও জানিয়েছেন, তাঁরা দলীয় কার্যালয়ের জন্য জায়গাটি ভাড়া নিয়েছেন, দখল করেননি। তবে কক্ষটিতে আগে আওয়ামী লীগের কার্যালয় ছিল কি না, সে বিষয়ে তাঁর জানা নেই।
কার্যালয় উদ্বোধনের পর ভবনটির পূর্ববর্তী ব্যবহার এবং মালিকের রাজনৈতিক পরিচয় নিয়ে স্থানীয় রাজনৈতিক মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও এ নিয়ে বিভিন্ন দাবি সামনে এসেছে। ফেসবুকে সাঈদ আহমেদ নামের এক ব্যক্তি দাবি করেছেন, তৃতীয় তলায় আগে পৌর আওয়ামী লীগের কার্যালয় ছিল এবং সেটি উদ্বোধন করেছিলেন আওয়ামী লীগ নেতা আমির হোসেন আমু। তবে এ দাবির পক্ষে স্বাধীনভাবে যাচাই করা কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
স্থানীয় কয়েকজনের বক্তব্যেও ভবনমালিকের রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। তাঁদের কেউ কেউ মনে করছেন, নতুন রাজনৈতিক দলের কাছে ভবন ভাড়া দেওয়ার পেছনে রাজনৈতিক হিসাব থাকতে পারে।
সদ্য সংবাদ/এসএস