বর্তমানে এসএসসি পরীক্ষা ফেব্রুয়ারি এবং এইচএসসি পরীক্ষা এপ্রিল মাসে শুরু হয়। তবে বৈরী আবহাওয়া ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে প্রায়ই এই সময়সূচি ব্যাহত হয়। ফলে পরীক্ষা পিছিয়ে যাওয়া, ফল প্রকাশে বিলম্ব এবং উচ্চ মাধ্যমিক শেষে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি প্রক্রিয়ায় দীর্ঘ বিরতির মতো সমস্যার সৃষ্টি হয়। এতে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার ধারাবাহিকতা ব্যাহত হচ্ছে।
শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক জানান, ডিসেম্বরের মধ্যে পরীক্ষা সম্পন্ন করা গেলে সিলেবাস, কারিকুলাম, ক্লাস টেস্ট ও বোর্ড পরীক্ষার পুরো কার্যক্রম একটি নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে শেষ করা সম্ভব হবে। এতে শিক্ষার্থীরা জানুয়ারিতেই পরবর্তী শ্রেণিতে ভর্তি হতে পারবে এবং দুই বছরের মধ্যে নির্ধারিত পাঠক্রম শেষ করতে পারবে।
নতুন পরিকল্পনা অনুযায়ী, ডিসেম্বর মাসকে অ্যাকাডেমিক ক্যালেন্ডারের শেষ মাস হিসেবে নির্ধারণ করা হবে এবং এই মাসেই সব পাবলিক পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। সংশ্লিষ্ট শিক্ষা বোর্ডগুলোকে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পরীক্ষা গ্রহণ ও দ্রুত ফল প্রকাশ নিশ্চিত করতে নির্দেশনা দেওয়া হবে। ফল প্রকাশের পরপরই বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি প্রক্রিয়া শুরু করা যাবে।
শিক্ষামন্ত্রী আরও জানান, প্রস্তাবিত কাঠামো বাস্তবায়িত হলে শিক্ষার্থীরা ১৬ বছর বয়সে এসএসসি এবং ১৮ বছর বয়সে এইচএসসি পাস করতে পারবে। এতে সেশনজট ছাড়াই তারা সরাসরি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার সুযোগ পাবে।
তবে এই নতুন সময়সূচি ২০২৭ সালের এসএসসি থেকে কার্যকর হবে কিনা, তা নির্ভর করবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সিলেবাস সম্পন্ন করার সক্ষমতার ওপর। এ বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, আগে পরিকল্পনা বাস্তবায়নের রূপরেখা ঠিক করতে হবে, এরপর ধাপে ধাপে তা কার্যকর করা হবে।
এদিকে শিক্ষাবিদরা মনে করছেন, দেশের আবহাওয়া ও ভৌগোলিক বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে পাবলিক পরীক্ষার সময়সূচি নির্ধারণ করে একটি কার্যকর ও সময়োপযোগী অ্যাকাডেমিক ক্যালেন্ডার প্রণয়ন করা জরুরি।