শেরপুরের ঘটনায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এবং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে নির্বাচন কমিশন। বৃহস্পতিবার বিকেলে গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে আলাপকালে নির্বাচন কমিশনের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ এ তথ্য জানান।
এর আগে জামায়াত নেতা রেজাউল করিমের হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২৪ ঘণ্টার মধ্যে শেরপুর-৩ আসনের সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট থানার ওসিকে সরানোর দাবি জানান জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল আব্দুল হালিম। দুপুরে জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের উত্তর গেটে আয়োজিত এক প্রতিবাদ সভায় তিনি এই দাবি তোলেন।
প্রতিবাদ সভায় বক্তারা বলেন, হত্যাকাণ্ডের ২৪ ঘণ্টা পার হলেও এখনো কোনো অপরাধী গ্রেপ্তার হয়নি। এমন ঘটনা নির্বাচনী পরিবেশের নিরপেক্ষতার সম্পূর্ণ ব্যতিক্রম। সুষ্ঠু নির্বাচনের স্বার্থে জনগণ এ ঘটনার দ্রুত বিচার চায়।
বুধবার বিকেলে ঝিনাইগাতী উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে আয়োজিত নির্বাচনী ইশতেহার পাঠ অনুষ্ঠানে বিভিন্ন দলের প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীরা মঞ্চে অবস্থান নেন। এ সময় চেয়ারে বসাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় বিএনপি ও জামায়াতের কয়েকজন কর্মী-সমর্থকের মধ্যে হট্টগোল শুরু হয়। একপর্যায়ে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বেধে গেলে শতাধিক মানুষ আহত হন।
পরে স্থানীয়রা রেজাউল করিমসহ আহতদের উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও জেলা সদর হাসপাতালে ভর্তি করেন। অবস্থার অবনতি হলে রেজাউল করিমকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে তিনি মারা যান।
এদিকে রাজধানীর গুলশানে বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে দলের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির মুখপাত্র ও চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা মাহদী আমিন বলেন, এই সংঘাত এড়ানো যেত কি না, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। নির্ধারিত সময়ের আগে একটি দল কেন সব চেয়ার দখল করে রাখল, কেন সেখানে লাঠিসোঁটা জড়ো করা হলো এবং সবার অনুরোধ উপেক্ষা করে কেন সংঘাতের পথ বেছে নেওয়া হলো—এসব বিষয়ে দ্রুত ও সুষ্ঠু তদন্ত হওয়া উচিত।
তিনি আরও বলেন, এই সংঘর্ষে একজন মানুষ নিহত হয়েছেন, তিনি যে দলেরই হোন না কেন, এমন ঘটনা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এ ছাড়া বিএনপির ৪০ জনের বেশি নেতাকর্মী আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। নিহত ও আহত সবাই একটি শান্তিপূর্ণ রাষ্ট্রব্যবস্থা ও সহিংসতামুক্ত নির্বাচন প্রত্যাশা করেছিলেন।