নির্বাচনে প্রশাসনের নিরপেক্ষতা নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন কুমিল্লা-৪ আসনের প্রার্থী ও এনসিপির দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ। তিনি বলেন, প্রশাসনের আচরণ দেখে মনে হচ্ছে তারা বিএনপির দিকে ঝুঁকে গেছে। প্রশাসনের এই দ্বিচারিতামূলক ভূমিকার কারণে নিরপেক্ষ, সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন কতটা সম্ভব—তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
শুক্রবার ২ জানুয়ারি কুমিল্লা জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় তিনি এসব মন্তব্য করেন। হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, নির্বাচনে প্রশাসন কতটা নিরপেক্ষ থাকবে, তা নিয়েই সবচেয়ে বড় শঙ্কা।
তিনি অভিযোগ করে বলেন, পর্যাপ্ত যুক্তি ও তথ্য থাকার পরও একজন প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল করা হয়নি। ওই প্রার্থী বিভিন্ন সময় বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান থেকে ঋণ নিয়েছেন, কিন্তু তা পরিশোধ করেননি। এসব তথ্য তিনি হলফনামায় গোপন করেছেন। এমনকি তাঁর বিরুদ্ধে থাকা হাইকোর্টের স্থগিতাদেশের বিষয়টিও উল্লেখ করা হয়নি। এসব বিষয় স্পষ্টভাবে ব্যক্তিগত তথ্য গোপনের আওতায় পড়ে।
হাসনাত আবদুল্লাহ আরও বলেন, নির্বাচনী বিধিমালায় পরিষ্কারভাবে বলা আছে, কোনো প্রার্থী যদি প্রয়োজনীয় ব্যক্তিগত তথ্য গোপন করেন, তাহলে তাঁর প্রার্থিতা বাতিলের বিধান রয়েছে।
এর আগে মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই চলাকালে হাসনাত আবদুল্লাহ ও তাঁর আইনজীবী ওই আসনের বিএনপি প্রার্থী মঞ্জুরুল আহসান মুন্সীর বিরুদ্ধে হলফনামায় তথ্য গোপনের অভিযোগ তোলেন। এ সময় উভয় পক্ষের মধ্যে প্রায় আধা ঘণ্টা ধরে বাগবিতণ্ডা হয়। পরে রিটার্নিং কর্মকর্তা তাদেরকে আইন অনুযায়ী নির্ধারিত প্রক্রিয়ায় অভিযোগ দাখিলের পরামর্শ দেন।
যাচাই-বাছাই শেষে রিটার্নিং কর্মকর্তা মু. রেজা হাসান কুমিল্লা-৪ আসনে হাসনাত আবদুল্লাহ ও মঞ্জুরুল আহসান মুন্সী—উভয়ের মনোনয়নপত্রই বৈধ ঘোষণা করেন।