প্রত্যক্ষদর্শীদের ধারণ করা ভিডিওতে দেখা যায়, নির্মাণাধীন ক্রেনটি হঠাৎ ভেঙে পড়ে সরাসরি চলন্ত মহাসড়কের ওপর আছড়ে পড়ে। এতে কয়েকটি গাড়ি দুমড়েমুচড়ে যায় এবং পুরো এলাকা ধুলোবালি ও ধ্বংসাবশেষে ঢেকে যায়। দুর্ঘটনার পরপরই উদ্ধার তৎপরতা শুরু হলেও ঘটনাস্থলেই দুইজনের মৃত্যু নিশ্চিত করা হয়।
মাত্র এক দিন আগেই থাইল্যান্ডের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় নাখোন রাটচাসিমা প্রদেশে আরও একটি ভয়াবহ ক্রেন দুর্ঘটনায় ৩২ জন প্রাণ হারান। ওই ঘটনায় একটি নির্মাণাধীন ক্রেন চলন্ত ট্রেনের ওপর ভেঙে পড়ে, আহত হন অন্তত ৬০ জনের বেশি মানুষ। পরপর দুই দিনে একই ধরনের প্রাণঘাতী দুর্ঘটনা দেশজুড়ে ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দিয়েছে।
দুটি দুর্ঘটনাই থাইল্যান্ডের অন্যতম বৃহৎ নির্মাণ প্রতিষ্ঠান ইটালিয়ান-থাই ডেভেলপমেন্ট কোম্পানির প্রকল্পে ঘটেছে। এর ফলে প্রতিষ্ঠানটির নির্মাণ নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও দায়িত্বহীনতা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন উঠেছে।
থাইল্যান্ডে নির্মাণাধীন প্রকল্পে দুর্ঘটনা নতুন নয়। দুর্বল নিরাপত্তা মানদণ্ড এবং আইনের শিথিল প্রয়োগের কারণে এ ধরনের ঘটনা প্রায়ই ঘটছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। গত সাত বছরে ব্যাংকক থেকে দেশের দক্ষিণাঞ্চল পর্যন্ত একটি সড়ক উন্নয়ন প্রকল্পেই প্রাণ হারিয়েছেন অন্তত ১৫০ জন।
যেখানে দুর্ঘটনাটি ঘটেছে, সেই এক্সপ্রেসওয়েটি গত কয়েক বছরের অসংখ্য দুর্ঘটনার কারণে স্থানীয়দের কাছে ‘মৃত্যু সড়ক’ বা ‘ডেথ রোড’ নামে পরিচিত। গত বছরের মার্চে ব্যাংককে ভূমিকম্পের সময় একটি আকাশচুম্বী ভবন ধসে পড়ার ঘটনাতেও একই কোম্পানির সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ উঠেছিল।
এ অবস্থায় থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী অনুতিন চার্নভিরাকুল জানিয়েছেন, নির্মাণকাজে কোনো ধরনের অবহেলা হয়েছে কি না, তা সরকার গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখবে এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এরই মধ্যে স্টেট রেলওয়ে অব থাইল্যান্ড জানিয়েছে, তারা ইটালিয়ান-থাই ডেভেলপমেন্ট কোম্পানির বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নিতে যাচ্ছে। একের পর এক প্রাণহানির ঘটনায় দেশটির সাধারণ মানুষ ও মানবাধিকারকর্মীরা দায়ীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
সূত্র: বিবিসি