আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠেয় জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে রিটার্নিং কর্মকর্তাদের যাচাই-বাছাইয়ে যাদের মনোনয়ন বাতিল হয়েছিল, তাদের আপিল শুনানির শেষ দিন রোববার। একই সঙ্গে দ্বৈত নাগরিকত্ব থাকা প্রার্থীরা জাতীয় নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন কি না, সে বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানাবে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।
রোববার নির্বাচন কমিশনে দ্বৈত নাগরিকত্ব নিয়ে শুনানির সময় ফেনী-৩ আসনের বিএনপির প্রার্থী আবদুল আউয়াল মিন্টু ও হাসনাত আবদুল্লাহর মধ্যে বাগ্বিতণ্ডার ঘটনা ঘটে।
ইসি সূত্র জানায়, অপেক্ষমাণ আবেদনগুলোর প্রায় সবই দ্বৈত নাগরিকত্বসংক্রান্ত। এ বিষয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত দেওয়া হয়নি। রোববার এসব আবেদন নিষ্পত্তি করবে কমিশন।
এদিকে শনিবার আপিল শুনানির অষ্টম দিনে ৪৪ জন প্রার্থী তাঁদের প্রার্থিতা ফিরে পেয়েছেন। এতে আট দিনে প্রার্থিতা ফিরে পাওয়া প্রার্থীর সংখ্যা প্রায় ৪০০ জনে দাঁড়িয়েছে। তবে কুমিল্লা-৪ আসনের বিএনপির প্রার্থী মঞ্জুরুল আহসান মুন্সি তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী জাতীয় নাগরিক পার্টির প্রার্থী মো. আবুল হাসনাতের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে প্রার্থিতা হারান। একই সঙ্গে হাসনাতের মনোনয়নের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে মঞ্জুরুল আহসান মুন্সির করা আবেদন খারিজ করে দেয় কমিশন।
ইসি জানায়, শনিবার মোট ১১২টি আপিলের শুনানি হয়। এর মধ্যে ৪৫টি আবেদন মঞ্জুর, ৩৭টি নামঞ্জুর হয়। ১৯টি আবেদন অপেক্ষমাণ থাকে। নয়টি আবেদন প্রত্যাহার করায় উত্থাপিত হয়নি এবং দুটি আপিলের আবেদনকারী শুনানিতে অনুপস্থিত ছিলেন। নির্ধারিত সময়ে ইসিতে মোট ৬৪৫টি আপিল জমা পড়েছিল।
শুনানি শেষে নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ জানান, রোববার দুপুর ১২টা থেকে সব মুলতবি আবেদনের শুনানি শুরু হবে।
এদিন যাঁরা প্রার্থিতা ফিরে পেয়েছেন, তাঁদের মধ্যে রয়েছেন জামালপুর-৩ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী ফারজানা ফরিদ, গাজীপুর-২ আসনের জনতার দলের প্রার্থী মো. শরিকুল ইসলাম সীমান্ত এবং খাগড়াছড়ি আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী ও সাবেক জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান জিরুনা ত্রিপুরা।
এ ছাড়া সংসদ নির্বাচনে লালমনিরহাট-২ আসনে মনোনয়ন দেওয়া সাত প্রার্থীর বিরুদ্ধে বিএনএফ প্রার্থী বাদশা মিয়ার করা আপিলের শুনানিও শনিবার শেষ হয়। শুনানি শেষে নির্বাচন কমিশন সাত প্রার্থীর মনোনয়নই বৈধ ঘোষণা করেছে।