বকেয়া বিল পরিশোধ না করায় মৌলভীবাজার জেলা পরিষদ ভবন বোমা মেরে উড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে এক বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় নিজের ও পরিবারের নিরাপত্তা চেয়ে থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা শামীমা খন্দকার।
অভিযুক্ত তোফায়েল আহমেদ তোয়েল মৌলভীবাজার সদর উপজেলার ১১ নম্বর মোস্তফাপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান প্রার্থী, সদর উপজেলা বিএনপির সাবেক প্রচার সম্পাদক এবং জেলা পরিষদের একজন ঠিকাদার।
জিডি নম্বর ১৩২-এর তথ্য অনুযায়ী, গত ১৯ বছর ধরে জেলা পরিষদের ঠিকাদারি করছেন তোয়েল। সম্প্রতি মৌলভীবাজার রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির ভবন নির্মাণ প্রকল্পে স্থানীয় সরকার বিভাগের অনুমোদনবিহীন রিকাস্ট অংশের বিল পরিশোধের জন্য তিনি প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার ওপর চাপ দিয়ে আসছিলেন। ৫ আগস্টের আগের সময়ের ওই বকেয়া বিলের ফাইল প্রক্রিয়াধীন থাকা সত্ত্বেও তিনি জেলা পরিষদ কার্যালয়ে গিয়ে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন বলে জিডিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
জিডিতে আরও বলা হয়, একপর্যায়ে ক্ষুব্ধ হয়ে জেলা পরিষদ কার্যালয়ের নিচতলায় দাঁড়িয়ে তোয়েল প্রকাশ্যে জেলা পরিষদ ভবন বোমা মেরে উড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেন। এর আগে গত ২ জুলাই দুপুরেও কর্মচারীদের সামনে তিনি অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করেছিলেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
এ ছাড়া গত ১ অক্টোবর অনুসারী ঠিকাদারদের নিয়ে মানববন্ধন করে মিথ্যা তথ্য ছড়ানোর অভিযোগও জিডিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
বর্তমানে দুই সন্তানকে নিয়ে সরকারি বাংলোতে বসবাস করছেন প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা শামীমা খন্দকার। তাঁর ভাষ্য, ঘটনার পর তিনি ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।
তবে জেলা পরিষদ ভবন উড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন তোফায়েল আহমেদ তোয়েল। তিনি বলেন, ‘আমি এ ধরনের কোনো কথা বলিনি। জেলা পরিষদের অন্য কর্মচারীদের কাছে খোঁজ নিলেই সত্যিটা জানা যাবে।’
জিডির বিষয়ে ঠিকাদারদের সঙ্গে আলোচনা করে পরবর্তী করণীয় ঠিক করা হবে বলেও জানান তিনি।
এ ঘটনায় মৌলভীবাজার জেলা পরিষদ ও স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। সূত্র: টাইমস টুডে
সদ্য সংবাদ/ এআর