ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রদল ও বামপন্থী রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত নেতাকর্মীদের আচরণ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক শেহরীন আমিন ভূঁইয়া মোনামি।
সোমবার (১৭ আগস্ট) বিকেলে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
পোস্টে মোনামি দাবি করেন, তার ব্যক্তিগত প্রোফাইলের একটি ছবি ও ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা নিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের পক্ষ থেকে অমার্জিত ও আপত্তিকর পোস্ট দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি তাকে অবাক করেনি বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের প্রসঙ্গে তিনি লেখেন, সংগঠনটিকে অন্যদের তুলনায় ভালো ভাবার কোনো কারণ তিনি দেখেন না। তার অভিযোগ, যারা নিজেদের সুশীল হিসেবে উপস্থাপন করেন, তাদের সেই অবস্থান অনেক ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট রাজনৈতিক পক্ষ ও শিক্ষকদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে। কোনো শিক্ষককে জামায়াতের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার ট্যাগ দেওয়া হলে পরিস্থিতি আরও ভিন্ন হয়ে যায় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
ডাকসু নির্বাচনের পর থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদল ও বাম রাজনীতির সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের বিভিন্ন কর্মকাণ্ড নীরবে দেখে যাচ্ছেন বলেও পোস্টে উল্লেখ করেন মোনামি। শিক্ষক হিসেবে অনেক কিছু ক্ষমা করে দেওয়া সম্ভব হলেও একজন মানুষ হিসেবে এসব ঘটনায় কষ্ট পাওয়া স্বাভাবিক বলেও জানান তিনি।
তিনি আরও প্রশ্ন তোলেন, ব্যক্তিগত বিষয় নিয়ে এ ধরনের কর্মকাণ্ড করে সংশ্লিষ্টরা কী অর্জন করতে চান-দলের কাছ থেকে প্রশংসা পাওয়া, নাকি নিজেদের উদ্ধত হিসেবে তুলে ধরা। পাশাপাশি পারিবারিক শিক্ষা ও রাজনীতিকে পেশা হিসেবে নেওয়ার প্রবণতার সঙ্গে এ ধরনের আচরণের সম্পর্ক থাকতে পারে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
মোনামির ওই পোস্টের মন্তব্যে ডাকসুর মুক্তিযুদ্ধ ও গণতান্ত্রিক আন্দোলনবিষয়ক সম্পাদক ফাতিমা তাসনিম জুমা একটি মন্তব্য করেন। সেখানে তিনি ঢাবির বাম রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত একজনকে নিয়ে সমালোচনা করেন এবং মোনামিকে লক্ষ্য করে ব্যক্তিগত ছবি ও অভিব্যক্তি শেয়ার করার অভিযোগ তোলেন।
এর জবাবে মোনামি তার সহকারী প্রক্টর থাকাকালীন সময়ের একটি অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন। তিনি দাবি করেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাম রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত এক নেত্রী একসময় সমস্যায় পড়ে তার কাছে সহায়তা চেয়েছিলেন। ওই সময় তিনি তার জন্য বিভিন্নভাবে সহযোগিতা করেছিলেন এবং পড়াশোনা শেষ করার পরামর্শও দিয়েছিলেন।
মোনামির দাবি, পরবর্তীতে সেই একই ব্যক্তি রাজু ভাস্কর্যের সামনে দাঁড়িয়ে তার বিরুদ্ধে বক্তব্য দেন। এতে তিনি গভীরভাবে কষ্ট পেয়েছিলেন বলে পোস্টে উল্লেখ করেন।
শেষে তিনি বলেন, মানুষের কাছ থেকে কৃতজ্ঞতা প্রত্যাশা করা ভুল। নিজের করা সহযোগিতার প্রতিদান মানুষের কাছ থেকে না পেলেও আল্লাহ উত্তম প্রতিদান দেবেন- এমন প্রত্যাশার কথাও জানান তিনি।
সদ্য সংবাদ/এসকে