তৈরি পোশাকশিল্পের শ্রমিকদের জন্য দ্রুত নতুন ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণ করে ২০২৭ সালের জানুয়ারি থেকে তা কার্যকর করার দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। দলটির সেক্রেটারি জেনারেল গোলাম পরওয়ার বলেছেন, শ্রমিকদের ন্যায্য পাওনা নিশ্চিত করার পাশাপাশি চলমান অস্থিরতার পেছনে কোনো রাজনৈতিক গোষ্ঠী বা স্বার্থান্বেষী মহলের উসকানি রয়েছে কি না, সেটিও নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করা প্রয়োজন।
বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) পোশাকশিল্পের সাম্প্রতিক পরিস্থিতি নিয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন তিনি।
গোলাম পরওয়ার বলেন, জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়লেও শ্রমিকদের আয় সেই অনুপাতে বাড়েনি। খাদ্য, বাসস্থান, চিকিৎসা, সন্তানের শিক্ষা ও যাতায়াতের খরচ মেটাতে গিয়ে অনেক শ্রমিককে প্রতিনিয়ত সংকটে পড়তে হচ্ছে। এ অবস্থায় শ্রমিকদের ন্যূনতম মাসিক মজুরি ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণের দাবিকে যৌক্তিক বলে উল্লেখ করেন তিনি।
তিনি জানান, সরকার ছয় সদস্যের মজুরি বোর্ড গঠন করেছে এবং গত ৪ নভেম্বর বোর্ডের প্রথম বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। শ্রমিকদের প্রকৃত জীবনযাত্রার ব্যয়, বাজারদর ও পরিবারের প্রয়োজন বিবেচনায় নিয়ে বোর্ড গ্রহণযোগ্য সুপারিশ দেবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি। পাশাপাশি শ্রমিকদের কার্যকর প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করে দ্রুত মজুরি ঘোষণা এবং ২০২৭ সালের জানুয়ারি থেকে তা বাস্তবায়নের আহ্বান জানান।
শ্রমিক অসন্তোষের মধ্যে কারখানা ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ, যানবাহনে হামলা, লুটপাট ও উৎপাদন ব্যাহত করার ঘটনাগুলোর নিন্দা জানান জামায়াতের এই নেতা। তাঁর বক্তব্য, নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, শ্রমিকলীগ কিংবা অন্য কোনো স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠী পরিস্থিতিকে কাজে লাগিয়ে উসকানি বা নাশকতার চেষ্টা করছে কি না, তা তদন্ত করে প্রকৃত দায়ীদের শনাক্ত করতে হবে। তবে সুনির্দিষ্ট প্রমাণ ছাড়া সাধারণ শ্রমিকদের দায়ী করা উচিত নয়।
সংবাদ সম্মেলনে গোলাম পরওয়ার আরও বলেন, সহিংসতা বা নাশকতায় জড়িতদের রাজনৈতিক পরিচয় বিবেচনা না করে আইনের আওতায় আনতে হবে। একই সঙ্গে শ্রমিকদের ন্যায্য দাবির আন্দোলন দমনে বলপ্রয়োগ, হয়রানি, নির্যাতন কিংবা গণগ্রেপ্তারের মতো পদক্ষেপ এড়িয়ে চলতে হবে।
এ সময় পোশাকশিল্পের সংকট নিরসনে সরকারের কাছে একগুচ্ছ দাবি তুলে ধরে জামায়াতে ইসলামী। এর মধ্যে রয়েছে গাজীপুরে নিহত শ্রমিক তৌফিক শেখের মৃত্যুর নিরপেক্ষ তদন্ত, দায়ীদের শাস্তি, আহতদের চিকিৎসা এবং নিহতের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দেওয়া। এ ছাড়া ভাঙচুর ও সহিংসতায় জড়িতদের শনাক্ত করা, নিরপরাধ গ্রেপ্তার শ্রমিক ও শ্রমিক নেতাদের মুক্তি এবং হয়রানিমূলক মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানানো হয়।
দলটির দাবির মধ্যে আরও রয়েছে শিল্পাঞ্চলে শ্রমিক, কারখানা ও যানবাহনের নিরাপত্তা জোরদার, বন্ধ কারখানা খুলে দেওয়া, বেআইনি শ্রমিক ছাঁটাই বন্ধ এবং কালো তালিকাভুক্ত শ্রমিকদের পুনরায় কাজে ফেরার সুযোগ তৈরি করা। বকেয়া বেতন, ভাতা ও ওভারটাইম দ্রুত পরিশোধের পাশাপাশি শ্রমিকদের জন্য রেশনিং ব্যবস্থা চালু এবং স্বাস্থ্যসেবা, আবাসন ও সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি সম্প্রসারণের কথাও বলা হয়েছে।
পোশাকশিল্পের অচলাবস্থা কাটাতে সরকার, মালিকপক্ষ ও শ্রমিক প্রতিনিধিদের নিয়ে দ্রুত কার্যকর সংলাপের আয়োজনের আহ্বান জানান গোলাম পরওয়ার। তাঁর মতে, শ্রমিকদের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করা এবং শিল্পের উৎপাদন ও বিনিয়োগ সুরক্ষায় সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের দায়িত্বশীল ভূমিকা জরুরি।
সদ্য সংবাদ/এজে