দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব সুরক্ষায় জাতীয় পতাকার মর্যাদা সমুন্নত রাখার পাশাপাশি পেশাগত দায়িত্ব সর্বোচ্চ নিষ্ঠা ও শৃঙ্খলার সঙ্গে পালনের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, একটি শক্তিশালী ও আধুনিক সশস্ত্র বাহিনী গড়ে তুলতে দক্ষতা, নৈতিকতা, উন্নত প্রশিক্ষণ এবং জনগণের আস্থা অর্জনের বিকল্প নেই।
রোববার সাভারে সেনাবাহিনীর কয়েকটি ব্যাটালিয়ন ও রেজিমেন্টকে ন্যাশনাল স্ট্যান্ডার্ড বা জাতীয় পতাকা প্রদান অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
অনুষ্ঠানে পেশাগত দক্ষতা ও সাফল্যের স্বীকৃতি হিসেবে ৭ ও ৩২ ফিল্ড রেজিমেন্ট আর্টিলারি, ২৫ এয়ার ডিফেন্স রেজিমেন্ট, ৯ ইঞ্জিনিয়ার ব্যাটালিয়ন, ৫৬ ও ৫৭ ইস্ট বেঙ্গল এবং প্রেসিডেন্ট গার্ড রেজিমেন্টকে অভিনন্দন জানান তিনি। প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাতীয় পতাকা একটি বাহিনীর ঐতিহ্য, শৃঙ্খলা, আত্মত্যাগ ও দেশপ্রেমের প্রতীক। এই সম্মান অর্জনের মধ্য দিয়ে সংশ্লিষ্ট ইউনিটগুলোর দায়িত্ববোধ আরও বৃদ্ধি পায়।
মুক্তিযুদ্ধে সেনাবাহিনীর অবদানের কথা স্মরণ করে তারেক রহমান বলেন, ১৯৭১ সালে স্বাধীনতাযুদ্ধের সূচনালগ্নে সেনাবাহিনীর সদস্যরা যে সাহসিকতা ও দেশপ্রেমের পরিচয় দিয়েছিলেন, তা বাংলাদেশের ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ স্থান দখল করে আছে। তৎকালীন মেজর জিয়াউর রহমানের নেতৃত্বে স্বাধীনতার পক্ষে সশস্ত্র প্রতিরোধে অংশ নেওয়ার ঘটনাও সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস বলে উল্লেখ করেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, পরিবর্তিত বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে দেশের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাড়াতে সামরিক বাহিনীকে আধুনিক প্রযুক্তি ও নতুন যুদ্ধকৌশলের সঙ্গে পরিচিত হতে হবে। ড্রোন প্রযুক্তি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা এবং ইলেকট্রনিক যুদ্ধের মতো বিষয়গুলো বর্তমানে জাতীয় নিরাপত্তার সঙ্গে গভীরভাবে সম্পৃক্ত। তাই সময়োপযোগী প্রশিক্ষণ ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বৃদ্ধির মাধ্যমে সশস্ত্র বাহিনীকে আরও কার্যকর করে তোলার প্রয়োজন রয়েছে।
প্রতিরক্ষা খাতে স্বনির্ভরতা অর্জনের বিষয়েও গুরুত্ব দেন সরকারপ্রধান। তিনি বলেন, দেশে অস্ত্র, গোলাবারুদ ও প্রয়োজনীয় সামরিক সরঞ্জাম উৎপাদনের সক্ষমতা বাড়ানো গেলে প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ভিত্তি আরও শক্তিশালী হবে। পাশাপাশি সেনা, নৌ ও বিমান বাহিনীর মধ্যে সমন্বয় জোরদার করে সম্মিলিত প্রতিরক্ষা সক্ষমতা গড়ে তোলার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
সেনাসদস্যদের জীবনমান উন্নয়নে সরকারের বিভিন্ন পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে তারেক রহমান বলেন, আবাসন, চিকিৎসা, শিক্ষা, প্রশিক্ষণ এবং কর্মজীবনের উন্নয়নের পাশাপাশি অবসর-পরবর্তী নিরাপত্তা নিশ্চিত করাও গুরুত্বপূর্ণ। সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের বেতন-ভাতা বৃদ্ধি এবং ‘ওয়ান র্যাংক ওয়ান পেনশন’ বাস্তবায়নের উদ্যোগের কথাও উল্লেখ করেন তিনি।
বক্তব্যের শেষাংশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি ও রাষ্ট্রীয় অঙ্গীকারের কেন্দ্রে থাকবে জাতীয় স্বার্থ, সার্বভৌমত্ব এবং দেশের মর্যাদা রক্ষা। পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সমতার ভিত্তিতে বিশ্বের সব দেশের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক এবং সহযোগিতা এগিয়ে নেওয়ার প্রত্যয়ও ব্যক্ত করেন তিনি।
সদ্য সংবাদ/এসএস