চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে বিএনপির মনোনীত প্রার্থীদের পক্ষে ভোট চেয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। তিনি বলেছেন, সরকার ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, কর্মসংস্থান, স্বাস্থ্যসেবা, সড়ক ও অবকাঠামো উন্নয়নসহ বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করবে। এসব উন্নয়নের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে ধানের শীষের প্রার্থীদের ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
সম্প্রতি বাঁশখালীতে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর মধ্যে পুনর্বাসন সহায়তার চেক বিতরণ অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেওয়ার সময় এসব কথা বলেন প্রতিমন্ত্রী।
অনুষ্ঠানে জানানো হয়, বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ৫১০টি পরিবারের ঘর নির্মাণ ও পুনর্বাসনের জন্য জেলা পরিষদের উদ্যোগে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। প্রতিটি পরিবারকে ৩০ হাজার টাকা করে মোট ১ কোটি ৫৩ লাখ টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে।
বক্তব্যে মীর শাহে আলম বলেন, বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংকট নিরসনে সরকার স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে। এসব সমস্যার সমাধানের পাশাপাশি সড়ক, শিক্ষা, খেলাধুলা ও অন্যান্য উন্নয়ন কার্যক্রমের মাধ্যমে সরকারের কর্মকাণ্ডের মূল্যায়ন করতে জনগণের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
তিনি বলেন, রাজনৈতিক সরকারের সঙ্গে জনগণের সম্পর্কের একটি প্রত্যাশা থাকে। সরকার এলাকার উন্নয়নে কাজ করবে, আর নির্বাচনের সময় জনগণ তাদের পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দেবে এটাই রাজনৈতিক প্রক্রিয়ার অংশ বলে উল্লেখ করেন তিনি।
বাঁশখালীর উন্নয়ন প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী জানান, ২২ কিলোমিটার সড়কের জন্য ২২ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি স্থানীয় পর্যায়ে আরও সড়ক, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান ও অন্যান্য অবকাঠামোর উন্নয়নের কথাও তুলে ধরেন তিনি।
মীর শাহে আলম বলেন, ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ডের পাশাপাশি ইমাম-মুয়াজ্জিনদের ভাতা, চাকরির সুযোগ, স্বাস্থ্যসেবা এবং খাল খননসহ অর্থনৈতিক উন্নয়নের বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়নের পরিকল্পনা রয়েছে। এসব উদ্যোগের সুফল জনগণের কাছে পৌঁছে দেওয়ার কথাও জানান তিনি। ফ্যামিলি ও কৃষক কার্ড নিয়ে সরকারের বৃহত্তর পরিকল্পনার কথাও এর আগে বিভিন্ন অনুষ্ঠানে জানিয়েছেন প্রতিমন্ত্রী।
এ সময় তিনি জামায়াতে ইসলামীর প্রসঙ্গ তুলে ধরে বলেন, একটি রাজনৈতিক দল ধর্মীয় আবেগকে কাজে লাগিয়ে ভোট চেয়েছে। বিএনপি এ ধরনের প্রতিশ্রুতির পরিবর্তে উন্নয়ন ও জনসেবার বাস্তব কর্মকাণ্ড তুলে ধরে মানুষের কাছে যাবে বলে দাবি করেন তিনি।
বক্তব্যে বিএনপি সরকারের সময়ে জামায়াতের দুই নেতাকে মন্ত্রী করার বিষয়টিও উল্লেখ করেন প্রতিমন্ত্রী। তার ভাষ্য, অতীতের সেই রাজনৈতিক সম্পর্কের বিষয়টি জামায়াত বর্তমানে ভুলে গেছে।
অনুষ্ঠানে চট্টগ্রাম-১২ আসনের সংসদ সদস্য এনামুল হক, চট্টগ্রাম জেলা পরিষদের প্রশাসক মাহবুবুর রহমান শামীম, জেলা প্রশাসক জাহিদুল ইসলাম মিঞা, পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলম, চট্টগ্রাম ওয়াসার চেয়ারম্যান ও দক্ষিণ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মো. ইদ্রিস মিয়াসহ প্রশাসন ও বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
সদ্য সংবাদ/এসএস