রাজনীতির ময়দান ছাড়ার পর এবার উচ্চশিক্ষা ও গবেষণার সঙ্গে যুক্ত হচ্ছেন নিউজিল্যান্ডের সাবেক প্রধানমন্ত্রী জেসিন্ডা আরডার্ন। অস্ট্রেলিয়ার সিডনি বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক ও পরামর্শক হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন তিনি। সেখানে নেতৃত্বের মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি, সামাজিক ঐক্য এবং মানুষের আস্থা অর্জনের উপায় নিয়ে কাজ করবেন সাবেক এই সরকারপ্রধান।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সিডনি বিশ্ববিদ্যালয়ের জনস্বাস্থ্য বিভাগের সঙ্গে যুক্ত হয়ে বৈশ্বিক স্বাস্থ্যসংকট, সামাজিক সমতা, অন্তর্ভুক্তি ও মানুষের সুস্থতা নিয়েও কাজ করবেন আরডার্ন। নতুন দায়িত্বের অংশ হিসেবে তিনি বিশেষ ক্লাস ও অতিথি বক্তৃতা দেবেন এবং শিক্ষার্থীদের পরামর্শ প্রদান করবেন। তবে এটি তাঁর পূর্ণকালীন চাকরি নয়।
নতুন দায়িত্ব নিয়ে নিজের পরিকল্পনার কথা জানাতে গিয়ে আরডার্ন বলেন, বিশ্বজুড়ে বিদ্যমান নানা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় কার্যকর নেতৃত্ব গড়ে তোলার প্রক্রিয়াকে আরও সহায়তা করতে চান তিনি।
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য মার্ক স্কট সাবেক এই প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বের প্রশংসা করেছেন। তাঁর মতে, নিউজিল্যান্ডের বিভিন্ন সংকট মোকাবিলার সময় আরডার্ন দেখিয়েছেন, সহমর্মিতা ও দৃঢ়তা একে অপরের পরিপূরক হতে পারে।
এর আগে গত জুলাইয়ে অস্ট্রেলীয় সম্প্রচারমাধ্যম এবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে আরডার্ন বলেছিলেন, বিশ্বজুড়ে অনেক নেতা কর্তৃত্ববাদী পদ্ধতিতে পরিচালিত হলেও সাধারণ মানুষ মানবিক নেতৃত্ব প্রত্যাশা করে। প্রচলিত রাজনীতির প্রতি অসন্তোষের কারণে ভোটারদের একটি অংশ মূলধারার বাইরের রাজনৈতিক দলগুলোর দিকে ঝুঁকছেন বলেও মন্তব্য করেছিলেন তিনি।
২০১৭ সালে মাত্র ৩৭ বছর বয়সে নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী হয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আলোচনায় আসেন আরডার্ন। পাঁচ বছরের বেশি সময় দেশটির প্রধানমন্ত্রী ও লেবার পার্টির নেতৃত্বে থাকার পর ২০২৩ সালের জানুয়ারিতে রাজনীতি থেকে সরে দাঁড়ান তিনি।
তাঁর প্রধানমন্ত্রিত্বের সময়ে নিউজিল্যান্ডকে ক্রাইস্টচার্চের সন্ত্রাসী হামলা, হোয়াকারি আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত এবং করোনাভাইরাস মহামারির মতো বড় সংকট মোকাবিলা করতে হয়। দায়িত্বে থাকাকালে সন্তান জন্ম দেওয়া বিশ্বের দ্বিতীয় সরকারপ্রধান হিসেবেও পরিচিতি পান তিনি।
রাজনীতি ছাড়ার পর যুক্তরাষ্ট্রের হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে জননেতৃত্ব ও প্রযুক্তি পরিচালনাব্যবস্থা নিয়ে ফেলোশিপ করেন আরডার্ন। ২০২৫ সালে প্রকাশিত হয় তাঁর স্মৃতিকথা ‘এ ডিফারেন্ট কাইন্ড অব পাওয়ার’।
দ্য গার্ডিয়ানের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের শুরুতে স্বামী ক্লার্ক গেফোর্ড ও মেয়ে নেভেকে নিয়ে অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে বসবাস শুরু করেন আরডার্ন। সেখানে সমুদ্রতীরবর্তী উত্তরাঞ্চলে ৫৩ লাখ অস্ট্রেলীয় ডলারে একটি বাড়িও কিনেছেন তাঁরা।
নতুন দায়িত্বের মাধ্যমে শিক্ষা, জনস্বাস্থ্য ও নেতৃত্ববিষয়ক আলোচনায় নিজের অভিজ্ঞতা কাজে লাগানোর সুযোগ পাচ্ছেন নিউজিল্যান্ডের সাবেক এই প্রধানমন্ত্রী।
সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান
সদ্য সংবাদ/এসএস