ব্যয় কমাতে বড় ধরনের পুনর্গঠনের পথে হাঁটছে যুক্তরাজ্যের রাষ্ট্রীয় অর্থায়নে পরিচালিত সম্প্রচারমাধ্যম বিবিসি (BBC)। এর অংশ হিসেবে বিবিসি থ্রি ও বিবিসি স্কটল্যান্ডের টেলিভিশন সম্প্রচার এবং রেডিও ৪ এক্সট্রা বন্ধের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি আগামী দুই বছরে প্রায় ১ হাজার ৮০০ থেকে ২ হাজার কর্মী ছাঁটাইয়ের পরিকল্পনা করছে প্রতিষ্ঠানটি। এতে বিবিসির মোট কর্মীর প্রায় ১০ শতাংশ চাকরি হারানোর ঝুঁকিতে পড়তে পারেন।
বিবিসির পরিকল্পনা অনুযায়ী, আগামী বসন্তে বিবিসি থ্রি ও বিবিসি স্কটল্যান্ডের প্রচলিত টেলিভিশন সম্প্রচার বন্ধ হবে। তবে এসব চ্যানেলের নির্বাচিত অনুষ্ঠান অনলাইনে চালু থাকবে। দুই বছরে ৫০ কোটি পাউন্ড সাশ্রয়ের লক্ষ্যে নেওয়া বৃহত্তর ব্যয় সংকোচন পরিকল্পনার অংশ হিসেবে এ সিদ্ধান্ত এসেছে।
বিবিসি জানিয়েছে, বিবিসি থ্রি ও বিবিসি স্কটল্যান্ডের বেশ কিছু অনুষ্ঠান তাদের অনলাইন স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্ম আইপ্লেয়ারে (iPlayer) পাওয়া যাবে। তরুণ দর্শকদের কাছে পৌঁছাতে বিবিসি থ্রির অনুষ্ঠান ইউটিউবসহ অন্যান্য ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মেও প্রচার করা হবে। আর বিবিসি স্কটল্যান্ডের কিছু অনুষ্ঠান স্কটল্যান্ডে বিবিসি ওয়ান ও বিবিসি টু চ্যানেলে দেখানো হবে।
তবে বিবিসি স্কটল্যান্ডের রাতের সংবাদ অনুষ্ঠান ‘রিপোর্টিং স্কটল্যান্ড: নিউজ অ্যাট সেভেন’ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যাবে। টেলিভিশন চ্যানেলটির সম্প্রচার বন্ধের পর অনুষ্ঠানটি আইপ্লেয়ারে স্থানান্তরের পরিকল্পনা নেই।
অন্যদিকে, রেডিও ৪ এক্সট্রার অনুষ্ঠানগুলো বিবিসি সাউন্ডস অ্যাপে পাওয়া যাবে। চ্যানেলটির ধর্মীয় অনুষ্ঠান ‘দ্য ডেইলি সার্ভিস’ বিবিসি সাউন্ডস ও স্থানীয় রেডিও স্টেশনগুলোতে প্রচারিত হবে।
২০১৬ সালে অনলাইনভিত্তিক সম্প্রচারে চলে গিয়েছিল বিবিসি থ্রি। পরে ২০২২ সালে আবার টেলিভিশন চ্যানেল হিসেবে চালু হয় এটি। ‘ফ্লিব্যাগ’ ও ‘গ্যাভিন অ্যান্ড স্টেসি’র মতো জনপ্রিয় অনুষ্ঠান প্রচারের কারণে চ্যানেলটি পরিচিতি পেয়েছিল। অন্যদিকে, ২০১৯ সালে চালু হওয়া বিবিসি স্কটল্যান্ডে সংবাদ, খেলাধুলা, প্রামাণ্যচিত্র ও বিনোদনমূলক অনুষ্ঠান সম্প্রচার করা হতো।
বিবিসির মহাপরিচালক ম্যাট ব্রিটিন বলেছেন, তাৎক্ষণিক আর্থিক চাপ মোকাবিলা এবং পরিবর্তনশীল গণমাধ্যমের সঙ্গে তাল মিলিয়ে প্রতিষ্ঠানটিকে নতুনভাবে গড়ে তুলতে প্রতিটি পাউন্ড আরও কার্যকরভাবে ব্যয় করতে হবে। এ কারণে কঠিন কিছু সিদ্ধান্ত নিতে হচ্ছে।
তিনি জানান, চ্যানেল দুটির অনেক অনুষ্ঠান দর্শকেরা আইপ্লেয়ার ও বিবিসি সাউন্ডসে দেখতে বা শুনতে পারবেন। তবে এ পরিবর্তন দর্শক ও বিবিসির কর্মীদের জন্য কঠিন হবে বলেও স্বীকার করেন তিনি।
এদিকে, কর্মী ছাঁটাইয়ের পরিকল্পনার অংশ হিসেবে বিবিসির সংবাদ বিভাগে ইতিমধ্যে প্রায় ৫৫০টি পদ বিলুপ্ত করার ঘোষণা এসেছে। বিবিসি স্পোর্টসেও ৩০টির বেশি পদ ছাঁটাইয়ের কথা জানানো হয়েছে। মঙ্গলবার বিবিসি নিউজের পরিচালক র্যাচেল জুপ আরও ৫৫ লাখ পাউন্ড সাশ্রয়ের প্রস্তাব দিয়েছেন। এ প্রস্তাব বাস্তবায়িত হলে প্রায় ১০০টি পদ বিলুপ্ত হতে পারে।
বিবিসির এ পুনর্গঠন পরিকল্পনার সমালোচনা করেছে যুক্তরাজ্যের বিনোদনশিল্পের ট্রেড ইউনিয়ন ইকুইটি। সংগঠনটির মতে, এ সিদ্ধান্ত বিবিসির ভবিষ্যৎ সমৃদ্ধির ইতিবাচক বার্তা দেয় না। একই সঙ্গে দেশের প্রধান পাবলিক সার্ভিস সম্প্রচারমাধ্যম হিসেবে বিবিসি তার দায়িত্বগুলো কতটা কার্যকরভাবে পালন করতে পারবে, তা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে সংগঠনটি।
এর আগে সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে বিবিসির একাধিক জনপ্রিয় অনুষ্ঠান বন্ধ বা স্থগিত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বন্ধের তালিকায় রয়েছে ‘রুপলের ড্র্যাগ রেস ইউকে’, ‘ব্ল্যাঙ্কেটি ব্ল্যাঙ্ক’, ‘সেলিব্রিটি মাস্টারমাইন্ড’, ‘লাইভ অ্যাট দ্য অ্যাপোলো’, ‘ফুটবল ফোকাস’ ও ‘স্কি সানডে’। এ ছাড়া ‘ডিআইওয়াই এসওএস’-এর মতো কিছু অনুষ্ঠানের প্রচার সাময়িকভাবে স্থগিত রাখা হয়েছে।
সদ্য সংবাদ/এসকে