আমাদের একমাত্র পরিচয় বাংলাদেশি, এই দেশ আপনার–আমার–সবার: প্রধানমন্ত্রী

স
সদ্য সংবাদ ডেস্ক
২১ অক্টোবর, ২০২৬ ০০:৪১:২০
ছবি: পিএমও

ধর্মীয় পরিচয় যা-ই হোক, বাংলাদেশের প্রতিটি নাগরিকের জাতীয় পরিচয় এক ও অভিন্ন—তাঁরা বাংলাদেশি। নতুন বাংলাদেশ গড়ে তুলতে সব ধর্মের মানুষের সম্মিলিত সহযোগিতা প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) রাতে চট্টগ্রাম নগরের রহমতগঞ্জে জেএম সেন হলের পূজামণ্ডপ পরিদর্শনে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

তারেক রহমান বলেন, ‘এই দেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে আজ আমি আপনাদের এখানে উপস্থিত হয়েছি এতটুকু বলার জন্য যে, এই দেশ আপনার। এই দেশ আমার, এই দেশ আমাদের সকলের। আমরা মুসলমান হই, আমরা হিন্দু হই, বৌদ্ধ যেই হই না কেন, ধর্ম আমাদের নিজস্ব বিষয়। কিন্তু আমরা প্রত্যেকটি মানুষ বাংলাদেশি।’

তিনি বলেন, এ দেশেই মানুষের জন্ম ও বেড়ে ওঠা। এ দেশের নাগরিক হিসেবে সবার পরিচয় বাংলাদেশি। ধর্মের ভিত্তিতে সংখ্যাগরিষ্ঠ কিংবা সংখ্যালঘু হিসেবে মানুষকে আলাদা করে দেখার কোনো প্রয়োজন নেই।

নিজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তিনি মুসলমান এবং রাজনৈতিক কারণে তাঁকে টানা ১৭ বছর বিদেশে থাকতে হয়েছিল। মুসলমান হিসেবে বাংলাদেশে তাঁকে সংখ্যাগরিষ্ঠের অংশ হিসেবে বিবেচনা করা হতে পারে। কিন্তু লন্ডনে বসবাসের সময় কি তিনি সংখ্যাগরিষ্ঠ ছিলেন? সেখানে অন্য ধর্মের মানুষের সংখ্যা বেশি হওয়ায় তাঁকে সংখ্যালঘু হিসেবে গণ্য করা যেত। তাই সংখ্যাগরিষ্ঠ বা সংখ্যালঘু পরিচয় নয়, একজন মানুষের মূল পরিচয় তিনি বাংলাদেশি—এ কথার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের আইন সবার জন্য সমানভাবে প্রযোজ্য। রাষ্ট্রের কাছ থেকে একজন নাগরিক যে অধিকার পাওয়ার যোগ্য, অন্য নাগরিকও একই অধিকার পাবেন। রাষ্ট্র কাউকে যে সুযোগ-সুবিধা দেবে, অন্যদের ক্ষেত্রেও তা নিশ্চিত করতে হবে।

তারেক রহমান বলেন, মুক্তিযুদ্ধ থেকে শুরু করে বিভিন্ন সময়ের গণ-আন্দোলন ও গণ-অভ্যুত্থানের মূল লক্ষ্য ছিল এমন একটি বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করা, যেখানে মানুষ মিলেমিশে বসবাস করবে। দল, মত কিংবা বর্ণের পার্থক্য ভুলে সবাইকে সেই কাঙ্ক্ষিত দেশ গঠনে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।

নতুন বাংলাদেশ গড়তে সব ধর্মের মানুষের সহযোগিতা কামনা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধসহ সব ধর্মের নাগরিকের সম্মিলিত অংশগ্রহণ ছাড়া এই লক্ষ্য অর্জন সম্ভব নয়।

মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস স্মরণ করে তারেক রহমান বলেন, ১৯৭১ সালে এ দেশের মানুষ জীবন বাজি রেখে যুদ্ধ করে স্বাধীনতা অর্জন করেছিলেন। সেই যুদ্ধে লাখ লাখ মানুষ অংশ নিয়েছিলেন এবং বহু মানুষ শহীদ হয়েছিলেন। যুদ্ধের ময়দানে কে হিন্দু, কে বৌদ্ধ কিংবা কে খ্রিষ্টান—এমন পরিচয় বিবেচনা করা হয়নি। সবার লক্ষ্য ছিল দেশকে স্বাধীন করা।

স্বাধীনতার পর বিভিন্ন সময়ে গণতন্ত্র ও জনগণের অধিকার হুমকির মুখে পড়েছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, গণতন্ত্র রক্ষা ও মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে ছাত্র-জনতা এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মীরা রাজপথে নেমে এসেছেন। সেসব আন্দোলনে অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের ধর্মীয় পরিচয় কখনো মুখ্য ছিল না।

২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের আন্দোলনের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ওই সময়ে দেশের লাখ লাখ মানুষ স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে অংশ নিয়েছিলেন। তাঁদের মধ্যে নারী, শিশু, তরুণসহ বিভিন্ন বয়সের মানুষ ছিলেন। আন্দোলনে গুলিবিদ্ধ ব্যক্তির ধর্মীয় পরিচয় জানতে চেয়ে কেউ তাঁদের আলাদা করেননি বলে মন্তব্য করেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ক্ষমতায় টিকে থাকার জন্য স্বৈরাচারী শাসকগোষ্ঠী গুলি চালিয়েছিল। অনেকে হাসপাতালে নেওয়ার পথেই মারা যান, আবার অনেকে চিকিৎসা নেন। চিকিৎসার সময় তাঁদের ধর্মীয় পরিচয় বিবেচনা করা হয়নি। মানুষের জীবন রক্ষা ও অধিকার প্রতিষ্ঠাই ছিল তখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাগত বক্তব্য দেন বাংলাদেশ পূজা উদ্‌যাপন পরিষদের সভাপতি অধ্যাপক অর্পণ কান্তি ব্যানার্জি। এরপর সাংস্কৃতিক নৃত্য পরিবেশন করা হয় এবং বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা বক্তব্য দেন।

বক্তব্য দেওয়ার আগে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান পূজা উদ্‌যাপন পরিষদের সভাপতি অরূপ কান্তি ব্যানার্জি ও সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট নিখিল কুমার নাথের হাতে ২০ লাখ টাকার অনুদানের চেক তুলে দেন। এ সময় পরিষদের নেতারা প্রধানমন্ত্রীকে একটি স্মারক ও বনসাই উপহার দেন।

অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমেদসহ অন্য নেতারা।

রাত পৌনে ১০টার দিকে জেএম সেন হলের অনুষ্ঠান শেষ করে প্রধানমন্ত্রী র‍্যাডিসন ব্লুর উদ্দেশে রওনা হন। সেখানে বিএনপি নেতাদের সঙ্গে তাঁর সাংগঠনিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

এর আগে সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও বিএনপির জ্যেষ্ঠ নেতারা একটি সামরিক বিমানে চট্টগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান। সেখানে আগে থেকেই উপস্থিত বিএনপির কয়েকজন মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, সংসদ সদস্য, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র এবং পুলিশ ও প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে তিনি করমর্দন করেন।

বিমানবন্দর থেকে সড়কপথে যাত্রা করে রাত ৮টা ১৫ মিনিটে প্রধানমন্ত্রীর গাড়িবহর জেএম সেন হলের পূজামণ্ডপে পৌঁছায়। পূজা উদ্‌যাপন পরিষদের নেতারা ফুল দিয়ে তাঁকে স্বাগত জানান।

প্রধানমন্ত্রীর আগমনকে কেন্দ্র করে কয়েক ঘণ্টা আগে থেকেই রহমতগঞ্জের জেএম সেন হলের আশপাশে বিএনপির নেতা-কর্মীসহ সহস্রাধিক মানুষ জড়ো হন। তাঁরা দীর্ঘ সময় ধরে সেখানে অপেক্ষা করেন।

নিরাপত্তার স্বার্থে জেএম সেন হলের প্রবেশসড়কের দুই পাশে ডাইভারশন বসিয়ে যানবাহন ও সাধারণ মানুষের চলাচল নিয়ন্ত্রণ করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। তবে পুলিশি নিরাপত্তাবেষ্টনীর মধ্য দিয়ে পূজার্থী ও দর্শনার্থীদের যাতায়াতের সুযোগ রাখা হয়।

১৯৯৩ সালে জন্মাষ্টমীর অনুষ্ঠানে যোগ দিতে চট্টগ্রামে এসেছিলেন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির প্রয়াত চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। প্রায় তিন দশক পর মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) মায়ের পদাঙ্ক অনুসরণ করে চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী জেএম সেন হলের পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করেন তারেক রহমান। সূত্র: আজকের পত্রিকা

সদ্য সংবাদ/এআর

জাতীয় ব্রেকিং

মন্তব্য (0)

মন্তব্য করুন

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!

বিজ্ঞাপনের জন্য খালি স্পেস

শিরোনাম:
সদ্য. আমাদের একমাত্র পরিচয় বাংলাদেশি, এই দেশ আপনার–আমার–সবার: প্রধানমন্ত্রী সদ্য. ইরানের শাসনব্যবস্থা উৎখাতে একমত ট্রাম্প-নেতানিয়াহু সদ্য. বিরোধীদলের ওপর গোয়েন্দাগিরির বার্তা অত্যন্ত বিপজ্জনক: হাসনাত আবদুল্লাহ সদ্য. আগামীকাল বৃষ্টি হবে কি না তা কৃষক কার্ডের মাধ্যমে জানতে পারবেন: প্রধানমন্ত্রী সদ্য. ফুরিয়ে আসছে অর্থ, যুক্তরাষ্ট্রের দাবি মানলেও পতন মানতে নারাজ ইরান সদ্য. সীমান্তের ওপার থেকে অর্থ পাঠাচ্ছে, আরেক পক্ষ অস্থিরতা তৈরির চেষ্টা করছে: প্রধানমন্ত্রী সদ্য. সৌদিতে মৃত্যুদণ্ড পাওয়া ২ বাংলাদেশির বিষয়ে ‘গোপনীয়’ চিঠিতে যা আাছে সদ্য. ‘এখন থেকে ভাড়া শীর্ষ সন্ত্রাসী ইমনকে দিতে হবে’, কুরিয়ার সার্ভিসের গুদামে হামলা-লুটপাট সদ্য. পুলিশের অতিরিক্ত ডিআইজি জহিরকে প্রত্যাহার সদ্য. প্রধানমন্ত্রীর এক ক্লিকেই ১২ কোটি টাকা পেলেন ৩৮ হাজার ৯৭০ আখচাষি সদ্য. আমাদের একমাত্র পরিচয় বাংলাদেশি, এই দেশ আপনার–আমার–সবার: প্রধানমন্ত্রী সদ্য. ইরানের শাসনব্যবস্থা উৎখাতে একমত ট্রাম্প-নেতানিয়াহু সদ্য. বিরোধীদলের ওপর গোয়েন্দাগিরির বার্তা অত্যন্ত বিপজ্জনক: হাসনাত আবদুল্লাহ সদ্য. আগামীকাল বৃষ্টি হবে কি না তা কৃষক কার্ডের মাধ্যমে জানতে পারবেন: প্রধানমন্ত্রী সদ্য. ফুরিয়ে আসছে অর্থ, যুক্তরাষ্ট্রের দাবি মানলেও পতন মানতে নারাজ ইরান সদ্য. সীমান্তের ওপার থেকে অর্থ পাঠাচ্ছে, আরেক পক্ষ অস্থিরতা তৈরির চেষ্টা করছে: প্রধানমন্ত্রী সদ্য. সৌদিতে মৃত্যুদণ্ড পাওয়া ২ বাংলাদেশির বিষয়ে ‘গোপনীয়’ চিঠিতে যা আাছে সদ্য. ‘এখন থেকে ভাড়া শীর্ষ সন্ত্রাসী ইমনকে দিতে হবে’, কুরিয়ার সার্ভিসের গুদামে হামলা-লুটপাট সদ্য. পুলিশের অতিরিক্ত ডিআইজি জহিরকে প্রত্যাহার সদ্য. প্রধানমন্ত্রীর এক ক্লিকেই ১২ কোটি টাকা পেলেন ৩৮ হাজার ৯৭০ আখচাষি