চীনের সামরিক নেতৃত্বে বড় ধরনের পরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলেছে। দেশটির দুই শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তা চাং ইউয়ালিয়া ও লিউ জেনলিকে কমিউনিস্ট পার্টি এবং সামরিক বাহিনী থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। গুরুতর শৃঙ্খলাভঙ্গ, আইন লঙ্ঘন, দুর্নীতি ও দলের প্রতি অবিশ্বস্ততার অভিযোগে তাদের বিরুদ্ধে এ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে চীনের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা সিনহুয়া।
সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) চীনের ক্ষমতাসীন কমিউনিস্ট পার্টির শীর্ষ নেতৃত্বের বৈঠকের পর তাদের বহিষ্কারের সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়। একই সঙ্গে দুই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের আইনি প্রক্রিয়া এগিয়ে নিতে বিষয়টি সামরিক আইন প্রয়োগকারী সংস্থার কাছে পাঠানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে।
চাং ইউয়ালিয়া চীনের সেন্ট্রাল মিলিটারি কমিশনের (সিএমসি) ভাইস চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। দেশটির সামরিক বাহিনীর সর্বোচ্চ কমান্ড কাঠামোর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই পদে তিনি প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের পর সামরিক নেতৃত্বে অত্যন্ত প্রভাবশালী অবস্থানে ছিলেন। চাংকে শি জিনপিংয়ের ঘনিষ্ঠ সামরিক সহযোগী হিসেবেও দীর্ঘদিন ধরে দেখা হতো।
অন্যদিকে লিউ জেনলি ছিলেন সেন্ট্রাল মিলিটারি কমিশনের সদস্য এবং জয়েন্ট স্টাফ ডিপার্টমেন্টের প্রধান। ফলে দুজনই চীনের সামরিক কাঠামোর গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে ছিলেন।
চীনা কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, দুই কর্মকর্তা দলের রাজনৈতিক শৃঙ্খলা ও নিয়ম গুরুতরভাবে লঙ্ঘন করেছেন। তাদের বিরুদ্ধে গোষ্ঠী ও উপদল গঠন, দলের প্রতি অবিশ্বস্ততা, দায়িত্ব পালনে ব্যর্থতা এবং ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগও আনা হয়েছে। সরকারি নথিতে তাদের বিরুদ্ধে বড় অঙ্কের দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।
চাং ও লিউয়ের বিরুদ্ধে তদন্তের খবর প্রথম প্রকাশ্যে আসে চলতি বছরের জানুয়ারিতে। এরপর আগস্টের শেষ দিকে তাদের রাষ্ট্রীয় সেন্ট্রাল মিলিটারি কমিশন থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। সোমবার আনুষ্ঠানিকভাবে দল ও সামরিক বাহিনী থেকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত জানানো হলো।
চীনে প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের নেতৃত্বে দীর্ঘদিন ধরে দুর্নীতিবিরোধী অভিযান চলছে। ২০১২ সালে ক্ষমতার শীর্ষে আসার পর থেকে সরকারি প্রশাসনের পাশাপাশি সামরিক বাহিনীর উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তারাও এই অভিযানের আওতায় পড়েছেন। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বেশ কয়েকজন জ্যেষ্ঠ সামরিক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে তদন্ত ও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
চাং ইউয়ালিয়া শুধু সামরিক নেতৃত্বেই গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি ছিলেন না; তিনি চীনের ক্ষমতাসীন কমিউনিস্ট পার্টির পলিটব্যুরোরও সদস্য ছিলেন। এছাড়া সামরিক জীবনে যুদ্ধক্ষেত্রের অভিজ্ঞতা থাকা অল্প কয়েকজন শীর্ষ কর্মকর্তার একজন ছিলেন তিনি।
দুই কর্মকর্তাকে বহিষ্কারের ঘটনায় চীনের সামরিক নেতৃত্বে শীর্ষ পর্যায়ে চলমান শুদ্ধি অভিযান ও পুনর্বিন্যাসের বিষয়টি আবারও সামনে এসেছে। তাদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়ায় কী সিদ্ধান্ত আসে, এখন সেদিকেই নজর থাকবে।
সদ্য সংবাদ/এসএস