মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাত ও জাহাজ চলাচলে হামলার ঘটনায় আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের সরবরাহ নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এর প্রভাব পড়েছে বিশ্ববাজারে। বেড়ে গিয়ে অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলারের ওপরে অবস্থান করছে।
বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম দশমিক ১ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ১০১ দশমিক ৩৪ ডলারে উঠেছে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের বেঞ্চমার্ক ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট বা ডব্লিউটিআইয়ের দামও দশমিক ৫ শতাংশ বেড়ে ৯৬ দশমিক ৫৫ ডলারে লেনদেন হচ্ছে।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্য থেকে জ্বালানি সরবরাহে বিঘ্ন ঘটার আশঙ্কাই তেলের বাজারে ঊর্ধ্বমুখী চাপ তৈরি করছে। বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার ঘটনায় গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথে পণ্য পরিবহন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা করছেন ব্যবসায়ীরা। এতে বিশ্ববাজারে তেলের সরবরাহ কমে যেতে পারে বলে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
সরবরাহ সংকটের আশঙ্কার পাশাপাশি বিভিন্ন দেশে তেলের মজুত কমে আসায় বাজারে উদ্বেগ আরও বেড়েছে। এমন পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রের এনার্জি ইনফরমেশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (ইআইএ) চলতি ও আগামী বছরের তেলের দামের পূর্বাভাসও বাড়িয়েছে।
ইআইএর পূর্বাভাস অনুযায়ী, চলতি বছর আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুডের গড় দাম ব্যারেলপ্রতি প্রায় ৯১ ডলার হতে পারে। আগের পূর্বাভাসের তুলনায় এটি প্রায় ৫ শতাংশ বেশি।
একইভাবে চলতি বছর যুক্তরাষ্ট্রের ডব্লিউটিআই ক্রুডের গড় দাম ব্যারেলপ্রতি ৮৪ দশমিক ৬৫ ডলারে পৌঁছাতে পারে বলে ধারণা করছে সংস্থাটি। আগের পূর্বাভাসের তুলনায় এটিও প্রায় ৫ শতাংশ বেশি।
তবে ইআইএর এই পূর্বাভাসটি মধ্যপ্রাচ্যে সাম্প্রতিক উত্তেজনা আরও তীব্র হওয়ার আগেই তৈরি করা হয়েছিল। গত ৩ সেপ্টেম্বর প্রতিবেদনটি চূড়ান্ত করা হয়। ফলে পরবর্তী সময়ে সংঘাত ও সরবরাহ পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করে তেলের দামের পূর্বাভাসে আরও পরিবর্তন আসতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি আরও অবনতি হলে জ্বালানি পরিবহনের গুরুত্বপূর্ণ রুটগুলোতে বিঘ্ন তৈরি হতে পারে। আর এতে বিশ্ববাজারে তেলের সরবরাহ সংকট দেখা দিলে দাম আরও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
সূত্র: আল জাজিরা
সদ্য সংবাদ/এসকে