লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে নিজ ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান দখল, অর্থ লুট, অগ্নিসংযোগ ও নেতাকর্মীদের ওপর নির্যাতনের অভিযোগ তুলেছেন কৃষকদল নেতা শামীম গাজী। তার দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে যে পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছিলেন, বর্তমানে ‘হাইব্রিড’ নেতাদের কারণে তার চেয়েও কঠিন সময় পার করছেন তিনি।
শুক্রবার (৬ নভেম্বর) দুপুরে লক্ষ্মীপুর জেলা শহরের একটি চীনা রেস্তোরাঁয় সংবাদ সম্মেলন করে এসব অভিযোগ তুলে ধরেন শামীম। এ সময় তিনি উত্তর চরবংশী ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ফারুক আহমেদ কবিরাজ এবং তার ভাই মেহেদী কবিরাজের বিরুদ্ধে বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ করেন।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে শামীম দাবি করেন, ৫ আগস্টের পর ফারুক আহমেদ কবিরাজ রাজনৈতিকভাবে সক্রিয় হয়ে ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতির দায়িত্ব পান। এরপর তার ভাই মেহেদী কবিরাজের নেতৃত্বে একটি বাহিনী এলাকায় প্রভাব বিস্তার শুরু করে। তাদের বিরুদ্ধে চরের প্রায় দুই হাজার একর জমি দখল, মাছঘাট নিয়ন্ত্রণ, চাঁদাবাজি এবং বিএনপির পুরোনো নেতাকর্মীদের বাড়িঘরে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের অভিযোগ করেন তিনি।
শামীমের আরও দাবি, বিভিন্ন মামলায় হয়রানির কারণে এলাকার প্রায় দুই হাজার নেতাকর্মী বাড়িঘর ছেড়ে থাকতে বাধ্য হয়েছেন। অনেকেই নিরাপত্তার কারণে রাতে নিজ বাড়িতে অবস্থান করতে পারছেন না।
নিজের ওপর নির্যাতনের বিবরণ দিতে গিয়ে তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারের শেষ ১৩ বছর যেমন নিরাপত্তাহীনতায় কাটিয়েছেন, সরকার পরিবর্তনের পরও সেই পরিস্থিতি থেকে মুক্তি পাননি। বরং তার তিনটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান দখল করে প্রায় ২২ লাখ টাকা লুট করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। এ ছাড়া প্রতিষ্ঠানে আগুন দেওয়া এবং মাছের বাক্স নদীতে ফেলে দেওয়ার অভিযোগও তোলেন।
শামীম বলেন, তাকে হত্যার হুমকি দেওয়া হচ্ছে এবং তার কর্মীদের বিরুদ্ধে মামলা দিয়ে হয়রানি করা হচ্ছে। এ অবস্থায় পরিবার-পরিজনসহ তিনি ও তার অনুসারীরা নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছেন।
এসব অভিযোগের প্রতিকার চেয়ে লক্ষ্মীপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য আবুল খায়ের ভূঁইয়া, উপজেলা বিএনপি এবং পুলিশ প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তিনি। ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে প্রার্থিতা নিয়ে বিরোধের জের ধরেই তাকে ও তার অনুসারীদের লক্ষ্য করে এসব কর্মকাণ্ড চালানো হচ্ছে বলে দাবি করেন শামীম।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন উত্তর চরবংশী ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ফারুক আহমেদ কবিরাজ। তার বক্তব্য, একটি ঘটনায় বাজারের উত্তেজিত লোকজন শামীমের ফার্মেসিতে হামলা চালিয়েছিলেন। ওই ঘটনায় তিনি বা তার কোনো অনুসারী জড়িত ছিলেন না। অন্য অভিযোগগুলোর বিষয়েও তার কিছু জানা নেই বলে দাবি করেন তিনি।
অন্যদিকে রায়পুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নিজাম উদ্দিন ভূঁইয়া জানান, শামীম গাজীর মাছঘাট ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে হামলার বিষয়টি তিনি শুনেছেন। তবে এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কেউ লিখিত অভিযোগ করেননি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।
সদ্য সংবাদ/এসএস