ঢাকার সাভারের আশুলিয়ায় দুর্গাপূজার মণ্ডপে সরকারি বরাদ্দের চাল বিতরণে স্বাক্ষর জালিয়াতির অভিযোগ উঠেছে উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কর্মকর্তা মোজাম্মেল হকের বিরুদ্ধে। অভিযোগ রয়েছে, একাধিক মন্দির কমিটির সভাপতির স্বাক্ষর জাল করে বরাদ্দের চাল উত্তোলন করা হয়েছে। এ-সংক্রান্ত কিছু নথিপত্রও পাওয়া গেছে।
ভুক্তভোগী মন্দির কমিটির সভাপতিরা জানান, দুর্গাপূজা উদ্যাপনের ব্যস্ততার সুযোগে তাঁদের স্বাক্ষর ছাড়াই বরাদ্দের চাল উত্তোলন করা হয়েছে বলে পরে জানতে পারেন তাঁরা। এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট খাদ্য নিয়ন্ত্রক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলেও জানিয়েছেন তাঁরা।
অভিযোগে আশুলিয়ার যেসব মন্দিরের নাম এসেছে, সেগুলোর মধ্যে রয়েছে বাইপাইল বসুন্ধরা গুরুদয়াল দুর্গামন্দির, শিমুলিয়া নৈহাটি সরকারবাড়ি দুর্গামন্দির, জামগড়া বেড়ন মহামায়া সার্বজনীন দুর্গামন্দির এবং নরসিংহপুর সার্বজনীন দুর্গামন্দির। গুরুদয়াল দুর্গামন্দিরের সভাপতি সম্ভু চন্দ্র সরকার, জামগড়া বেড়ন মহামায়া সার্বজনীন দুর্গামন্দিরের সভাপতি প্রদীপ কুমারসহ আরও কয়েকজনের স্বাক্ষর জাল করার অভিযোগ উঠেছে।
ভুক্তভোগী মন্দির কমিটির সভাপতি সম্ভু চন্দ্র সরকার ও প্রদীপ কুমার জানান, দুর্গাপূজার সময় মণ্ডপের বিভিন্ন কার্যক্রম নিয়ে তাঁরা ব্যস্ত ছিলেন। এ সময় খাদ্য নিয়ন্ত্রকের কার্যালয় থেকে বরাদ্দের চাল উত্তোলনের জন্য তাঁদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়।
তাঁদের দাবি, পূজার ব্যস্ততার কারণে তাৎক্ষণিকভাবে চাল নিতে পারবেন না বলে সংশ্লিষ্ট কার্যালয়কে জানিয়েছিলেন তাঁরা। পূজা শেষে কার্যালয়ে গিয়ে প্রয়োজনীয় কাগজপত্রে স্বাক্ষর করে চাল নিয়ে আসবেন বলেও জানান। তখন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা তাঁদের আশ্বস্ত করেছিলেন।
তবে পূজা শেষে বরাদ্দের চাল উত্তোলনের বিষয়ে যোগাযোগ করলে কার্যালয় থেকে তাঁদের জানানো হয়, নতুন করে স্বাক্ষর দেওয়ার প্রয়োজন নেই। পরে তাঁরা জানতে পারেন, তাঁদের স্বাক্ষর জাল করে বরাদ্দের চাল উত্তোলনের পর তা বিক্রি করে দেওয়া হয়েছে।
মন্দির কমিটির সভাপতিরা বলেন, তাঁদের অনুমতি ছাড়া স্বাক্ষর ব্যবহার করা হয়ে থাকলে তা গুরুতর অনিয়ম। এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন তাঁরা।
অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে সাভার উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের কার্যালয়ে গিয়ে কর্মকর্তা মোজাম্মেল হকের সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করেন সাংবাদিকেরা। এ সময় তিনি প্রথমে বিভিন্ন অজুহাত দেখান। একপর্যায়ে নিজের ভুল স্বীকার করে সাংবাদিকদের কাছে হাতজোড় করে ক্ষমা চান। ভবিষ্যতে এমন ভুল আর হবে না বলেও আশ্বস্ত করেন তিনি।
এদিকে, ঘটনাটি নিয়ে সংবাদ প্রকাশ না করার জন্য একই কার্যালয়ের একজন সহকারী খাদ্য নিয়ন্ত্রক কর্মকর্তা সাংবাদিকদের অর্থ দিয়ে ম্যানেজ করার চেষ্টা করেন। তবে তাঁর সেই চেষ্টা ব্যর্থ হয়।
এ বিষয়ে সাভার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাইফুল ইসলামের বক্তব্য জানতে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁকে পাওয়া যায়নি। পরে তাঁর কার্যালয়ে গিয়েও সাক্ষাৎ পাওয়া সম্ভব হয়নি।
সরকারি বরাদ্দের চাল উত্তোলনে স্বাক্ষর জালিয়াতির অভিযোগ প্রমাণিত হলে তা প্রশাসনিক অনিয়মের পাশাপাশি প্রযোজ্য আইন অনুযায়ী আইনগত দায়ও তৈরি করতে পারে। এ কারণে অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত, সংশ্লিষ্ট নথিপত্র যাচাই এবং বরাদ্দের চালের প্রকৃত হিসাব প্রকাশের দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
এ ঘটনায় সাভার উপজেলা প্রশাসন, জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের কার্যালয় ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি উঠেছে।
সদ্য সংবাদ/ এরআর