কিশোরগঞ্জের হোসেনপুরে জিনারী ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতার প্রস্তুতি নেওয়া দুই বিএনপি নেতার অনুসারীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। রোববার দুপুরে দেশীয় অস্ত্র ও ইটপাটকেল নিয়ে দুই পক্ষের সংঘর্ষে অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। প্রায় ৪৫ মিনিট ধরে চলা এ সংঘর্ষের পর পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
রোববার দুপুর সোয়া ১২টার দিকে এ সংঘর্ষ শুরু হয়। এতে জড়িত ছিলেন জিনারী ইউনিয়ন বিএনপির জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি ও চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী মোহাম্মদ আজহারুল ইসলাম আজহারের সমর্থক এবং একই পদে মনোনয়নপ্রত্যাশী, ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি আব্দুল কদ্দুসের অনুসারীরা।
পুলিশ ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সূত্রে জানা যায়, দুই পক্ষের মধ্যে ইটপাটকেল নিক্ষেপের ঘটনায় উভয় দলের অন্তত ১৫ জন আহত হন। তাঁদের মধ্যে আব্দুল কদ্দুস (৫৫) মাথায় ইটের আঘাত পেয়ে গুরুতর আহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আজহারুল ইসলামের ছোট ভাই মিন্টু মিয়াও (৪৫)।
এ ছাড়া আহতদের মধ্যে রয়েছেন আব্দুল কদ্দুসের ছোট ভাই আসাদ মিয়া (৪৫) এবং তাঁর পক্ষের দুলাল মিয়া (২৫), তরিকুল ইসলাম (২৪) ও সৌরভ (২০)। সংঘর্ষে আহত অন্যদের নাম তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।
আহতদের চিকিৎসার জন্য হোসেনপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, গফরগাঁও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এবং ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রের ভাষ্য, আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে বিএনপির মনোনয়ন পেতে দুই নেতা বেশ কিছুদিন ধরে নিজ নিজ পক্ষে প্রচার চালিয়ে আসছেন। নির্বাচন ঘিরে এলাকায় প্রভাব বিস্তারকে কেন্দ্র করে তাঁদের সমর্থকদের মধ্যে আগে থেকেই উত্তেজনা বিরাজ করছিল।
সংঘর্ষের বিষয়ে জানতে চাইলে মোবাইল ফোনে আজহারুল ইসলাম বলেন, তাঁর ছোট ভাই মিন্টুর সঙ্গে আব্দুল কদ্দুসের হাতাহাতি হয়েছে।
অন্যদিকে, আব্দুল কদ্দুসের বক্তব্য জানতে তাঁর মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। তবে ফোন বন্ধ থাকায় তাঁর সঙ্গে কথা বলা সম্ভব হয়নি।
হোসেনপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ রাশেদুল ইসলাম সংঘর্ষের ঘটনা নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, খবর পাওয়ার পরপরই পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে এলাকার পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।
সদ্য সংবাদ/এআর