রাজশাহীতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের জনসভাকে কেন্দ্র করে মোবাইল ফোন চুরির অভিযোগ উঠেছে। জনসভায় অংশ নিতে গিয়ে অন্তত নয়জন নেতাকর্মী তাঁদের মুঠোফোন হারিয়েছেন। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত আটজন থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন।
মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) বিকেলে নগরীর ঐতিহাসিক মাদ্রাসা মাঠে এ জনসভা অনুষ্ঠিত হয়। আয়োজনে বিপুলসংখ্যক মানুষের উপস্থিতির মধ্যে এবং অনুষ্ঠান শেষে মাঠ ছাড়ার সময় একাধিক ব্যক্তির ফোন হারিয়ে যায় বলে জানা গেছে।
ফোন হারানো ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছেন রাজশাহী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (আরডিএ) চেয়ারম্যান ও মহানগর বিএনপির সহসভাপতি আবুল কালাম আজাদ সুইটের ছেলে তাওসীফ আজাদ। জনসভা শেষে প্রধানমন্ত্রী মঞ্চ ছাড়ার সময় পেছনের দিকে অবস্থান করছিলেন তিনি। এ সময় ভিড়ের মধ্যে তাঁর ফোনটি খোয়া যায়। পরে এ বিষয়ে বোয়ালিয়া থানায় জিডি করা হয় বলে জানান তাঁর বাবা।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার বিকেল ৩টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত রাজপাড়া থানায় ফোন হারানোর বিষয়ে সাতটি সাধারণ ডায়েরি নথিভুক্ত হয়েছে। অন্যদিকে, বোয়ালিয়া থানায় জমা পড়েছে আরও একটি জিডি। তবে ফোন হারানো আরও কয়েকজন এখনো পুলিশের কাছে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ করেননি বলে জানিয়েছেন দলীয় নেতারা।
এ ঘটনার শিকার হয়েছেন জেলা ছাত্রদলের সাবেক যুগ্ম সম্পাদক ফরহাদ বাদশাও। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে নিজের ফোন চুরির বিষয়টি জানিয়ে তিনি সতর্ক থাকার অনুরোধ করেন। তাঁর আশঙ্কা, ফোনটি অন্য কারও হাতে যাওয়ায় তাঁর অ্যাকাউন্ট থেকে অনাকাঙ্ক্ষিত বার্তা পাঠানো কিংবা বিব্রতকর পোস্ট প্রকাশের ঘটনা ঘটতে পারে।
ফরহাদ বাদশার ভাষ্য, প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য শেষ হওয়ার পর মাদ্রাসা মাঠের প্রধান ফটক দিয়ে বের হওয়ার সময় তাঁর পাঞ্জাবির পকেট কেটে ফোনটি নিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা। তবে ঘটনার পরপরই তিনি থানায় অভিযোগ করেননি। বুধবার থানায় গিয়ে জিডি করার কথা জানিয়েছেন তিনি।
রাজপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল কালাম আজাদ জানান, মোবাইল হারানোর ঘটনায় সাতটি জিডি পেয়েছে তাঁর থানা। হারানো ফোন উদ্ধারে রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের সাইবার ক্রাইম ইউনিট কাজ করবে। পাশাপাশি এসব ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।
সদ্য সংবাদ/এসএস