আশুলিয়ায় সরকারি জায়গায় দোকান নির্মাণের অভিযোগ, প্রতিবন্ধী ছেলের নামে লাখ টাকার বাণিজ্য!

জ
জাহিদুল ইসলাম হৃদয় (আশুলিয়া প্রতিনিধি)
১৪ অক্টোবর, ২০২৬ ১৫:২১:১৪

ঢাকার সাভারের আশুলিয়ায় সরকারি জমিতে স্থায়ী দোকান নির্মাণ করে অগ্রিম ও মাসিক ভাড়া বাবদ বিপুল অর্থ আদায়ের অভিযোগ উঠেছে রিয়াজ নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। ঢাকা রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চলের (ডিইপিজেড) নতুন শাখার সামনের ফুটওভারব্রিজের নিচে এসব দোকান নির্মাণ করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। দোকানগুলোর বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন উঠলেও সংশ্লিষ্ট নথিপত্র দেখাতে পারেননি অভিযুক্ত ব্যক্তি।

স্থানীয়ভাবে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, সেখানে চারটি দোকান থেকে অগ্রিম হিসেবে প্রতিটির বিপরীতে এক লাখ ৮০ হাজার থেকে দুই লাখ টাকা পর্যন্ত নেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি দোকানপ্রতি মাসিক ভাড়া নির্ধারণ করা হয়েছে পাঁচ থেকে ১০ হাজার টাকা। তবে সরকারি জায়গায় দোকান নির্মাণ এবং সেগুলো ভাড়া দেওয়ার অনুমোদন রয়েছে কি না, তা নিয়ে দেখা দিয়েছে সংশয়।

রিয়াজের দাবি, তাঁর প্রতিবন্ধী ছেলে তাসরিফের নামে দোকানগুলো লিজ নেওয়া হয়েছে। তবে লিজের বৈধতা যাচাইয়ের জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দেখতে চাইলে তিনি তা উপস্থাপন করতে পারেননি। নথিপত্র সড়ক ও জনপথ (সওজ) অধিদপ্তরের কার্যালয়ে রয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

বিষয়টি নিয়ে সওজের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী নূরে আলম সিদ্দিক জানান, এ বিষয়ে একটি আবেদন ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছিল। তবে সরকারি জায়গা দখল করে এভাবে দোকান নির্মাণের অনুমতি দেওয়ার কথা নয়। লিজ দেওয়া হয়ে থাকলেও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি সেই জায়গা অন্যের কাছে ভাড়া দিতে পারেন না বলে জানান তিনি। বিষয়টি তদন্ত করে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও আশ্বাস দেন এই কর্মকর্তা।

দোকানগুলোর লিজ নিয়ে আরও একটি প্রশ্ন সামনে এসেছে। রিয়াজের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, তাঁর ছেলে তাসরিফের বয়স ২৭ বছর। অন্যদিকে, দোকানটি ১৯৮৯ সালে লিজ নেওয়া হয়েছিল বলে দাবি করেছেন তিনি। দুই তথ্যের মধ্যে অসংগতি থাকায় লিজের প্রকৃত সময়কাল, গ্রহীতার পরিচয় এবং নথির সত্যতা যাচাইয়ের প্রয়োজন দেখা দিয়েছে।

এদিকে সরেজমিনে তাসরিফকে সড়কের পাশে ময়লা-আবর্জনার মধ্যে পড়ে থাকতে দেখা গেছে। তাঁর নামে দোকান লিজ নেওয়ার দাবি এবং বর্তমান পরিস্থিতি ঘিরে দোকানগুলো থেকে আদায় করা অর্থের প্রকৃত সুবিধাভোগী কে, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। তবে দোকানের আয় তাঁর কল্যাণে ব্যয় করা হচ্ছে কি না, সে বিষয়ে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

সংশ্লিষ্টদের মতে, সরকারি জমিতে দোকান নির্মাণের অনুমোদন, লিজের শর্ত, ভাড়া আদায়ের বৈধতা এবং অর্থের প্রকৃত প্রাপক নির্ধারণে নিরপেক্ষ তদন্ত জরুরি। মূল নথিপত্র যাচাইয়ের মাধ্যমে অভিযোগগুলোর সত্যতা নিশ্চিত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল।

সদ্য সংবাদ/এসএস

মন্তব্য (0)

মন্তব্য করুন

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!

বিজ্ঞাপনের জন্য খালি স্পেস

শিরোনাম:
সদ্য. আমাদের একমাত্র পরিচয় বাংলাদেশি, এই দেশ আপনার–আমার–সবার: প্রধানমন্ত্রী সদ্য. ইরানের শাসনব্যবস্থা উৎখাতে একমত ট্রাম্প-নেতানিয়াহু সদ্য. বিরোধীদলের ওপর গোয়েন্দাগিরির বার্তা অত্যন্ত বিপজ্জনক: হাসনাত আবদুল্লাহ সদ্য. আগামীকাল বৃষ্টি হবে কি না তা কৃষক কার্ডের মাধ্যমে জানতে পারবেন: প্রধানমন্ত্রী সদ্য. ফুরিয়ে আসছে অর্থ, যুক্তরাষ্ট্রের দাবি মানলেও পতন মানতে নারাজ ইরান সদ্য. সীমান্তের ওপার থেকে অর্থ পাঠাচ্ছে, আরেক পক্ষ অস্থিরতা তৈরির চেষ্টা করছে: প্রধানমন্ত্রী সদ্য. সৌদিতে মৃত্যুদণ্ড পাওয়া ২ বাংলাদেশির বিষয়ে ‘গোপনীয়’ চিঠিতে যা আাছে সদ্য. ‘এখন থেকে ভাড়া শীর্ষ সন্ত্রাসী ইমনকে দিতে হবে’, কুরিয়ার সার্ভিসের গুদামে হামলা-লুটপাট সদ্য. পুলিশের অতিরিক্ত ডিআইজি জহিরকে প্রত্যাহার সদ্য. প্রধানমন্ত্রীর এক ক্লিকেই ১২ কোটি টাকা পেলেন ৩৮ হাজার ৯৭০ আখচাষি সদ্য. আমাদের একমাত্র পরিচয় বাংলাদেশি, এই দেশ আপনার–আমার–সবার: প্রধানমন্ত্রী সদ্য. ইরানের শাসনব্যবস্থা উৎখাতে একমত ট্রাম্প-নেতানিয়াহু সদ্য. বিরোধীদলের ওপর গোয়েন্দাগিরির বার্তা অত্যন্ত বিপজ্জনক: হাসনাত আবদুল্লাহ সদ্য. আগামীকাল বৃষ্টি হবে কি না তা কৃষক কার্ডের মাধ্যমে জানতে পারবেন: প্রধানমন্ত্রী সদ্য. ফুরিয়ে আসছে অর্থ, যুক্তরাষ্ট্রের দাবি মানলেও পতন মানতে নারাজ ইরান সদ্য. সীমান্তের ওপার থেকে অর্থ পাঠাচ্ছে, আরেক পক্ষ অস্থিরতা তৈরির চেষ্টা করছে: প্রধানমন্ত্রী সদ্য. সৌদিতে মৃত্যুদণ্ড পাওয়া ২ বাংলাদেশির বিষয়ে ‘গোপনীয়’ চিঠিতে যা আাছে সদ্য. ‘এখন থেকে ভাড়া শীর্ষ সন্ত্রাসী ইমনকে দিতে হবে’, কুরিয়ার সার্ভিসের গুদামে হামলা-লুটপাট সদ্য. পুলিশের অতিরিক্ত ডিআইজি জহিরকে প্রত্যাহার সদ্য. প্রধানমন্ত্রীর এক ক্লিকেই ১২ কোটি টাকা পেলেন ৩৮ হাজার ৯৭০ আখচাষি