কিশোরগঞ্জ জেলা পুলিশের ড্রাইভার কনস্টেবল ওসমান গনির ডোপ টেস্টে মাদক গ্রহণের পজিটিভ ফল পাওয়ায় তাঁকে বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ঘটনায় তাঁর বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার উদ্যোগের পাশাপাশি বিস্তারিত তদন্তে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করেছে জেলা পুলিশ। তবে তাঁকে সাময়িক নাকি স্থায়ীভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
মঙ্গলবার বিকেলে বিষয়টি নিশ্চিত করেন কিশোরগঞ্জের পুলিশ সুপার (এসপি) মোহাম্মদ মিজানুর রহমান।
ওসমান গনি ঢাকার ধামরাই উপজেলার সাহাবেলীশ্বর এলাকার আবদুল কুদ্দুছের ছেলে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, বেশ কিছুদিন ধরে ওসমান গনির আচরণ ও চলাফেরা নিয়ে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের মনে সন্দেহ তৈরি হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে তাঁর ওপর নজরদারি শুরু হয়। পরে জেলা পুলিশের সিদ্ধান্তে মঙ্গলবার সকালে কিশোরগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে তাঁর ডোপ টেস্ট করানো হয়। পরীক্ষার ফল পজিটিভ আসার পর তাঁকে বরখাস্তের সিদ্ধান্ত নেয় কর্তৃপক্ষ।
একই সঙ্গে তিনি কী ধরনের মাদক সেবন করতেন এবং ঘটনার পেছনে অন্য কোনো সংশ্লিষ্টতা রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি করা হয়েছে। দ্রুততম সময়ের মধ্যে তদন্তের বিস্তারিত প্রতিবেদন জমা দিতে কমিটিকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া তাঁর বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও জানিয়েছে জেলা পুলিশ।
পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মিজানুর রহমান বলেন, ডোপ টেস্টে পজিটিভ ফল পাওয়ায় ওসমান গনিকে তাৎক্ষণিকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে। পুরো ঘটনা খতিয়ে দেখতে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির প্রতিবেদন পাওয়ার পর পরবর্তী পদক্ষেপ নির্ধারণ করা হবে।
এসপি আরও বলেন, মাদকের বিরুদ্ধে জেলা পুলিশের অবস্থান ‘জিরো টলারেন্স’। এ নীতি পুলিশ সদস্যদের ক্ষেত্রেও সমানভাবে প্রযোজ্য। বাহিনীর কোনো সদস্য মাদকের সঙ্গে জড়িত নন, তা নিশ্চিত করতে জেলা পুলিশ বদ্ধপরিকর। এ লক্ষ্যেই যেসব সদস্যের কর্মকাণ্ড নিয়ে সন্দেহ তৈরি হচ্ছে, তাঁদের ডোপ টেস্টের আওতায় আনা হচ্ছে।
সদ্য সংবাদ/ এআর