শেরপুরের ঝিনাইগাতী উপজেলার গুরুচরণ দুধনই আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীকে যৌন হয়রানির অভিযোগ উঠেছে বিদ্যালয়ের ধর্মীয় শিক্ষক শহিদুল্লাহর বিরুদ্ধে। শিক্ষার্থী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, এর আগেও তাঁর বিরুদ্ধে একই ধরনের অভিযোগ উঠেছিল। সর্বশেষ ঘটনার প্রতিবাদে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভের পর অভিযুক্ত শিক্ষককে সাময়িক বরখাস্তের সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছেন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক।
রোববার (১১ অক্টোবর) ঘটনার প্রতিবাদে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে বিক্ষোভ করেন শিক্ষার্থীরা। এ সময় তাঁরা অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত এবং অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।
বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি দশম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীর স্পর্শকাতর স্থানে হাত দেওয়ার অভিযোগ ওঠে ধর্মীয় শিক্ষক শহিদুল্লাহর বিরুদ্ধে। বিষয়টি জানাজানি হলে শিক্ষার্থী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। অভিযোগের বিষয়ে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ যথাযথ ব্যবস্থা নেয়নি—এমন দাবি তুলে বিক্ষোভ করেন শিক্ষার্থীরা।
পরিস্থিতির পরিপ্রেক্ষিতে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আবুল মালেক অভিযুক্ত শিক্ষককে সাময়িক বরখাস্ত করার সিদ্ধান্তের কথা জানান।
এদিকে শিক্ষার্থী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, এর আগেও ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে একই ধরনের অভিযোগ উঠেছিল। তাঁদের দাবি, আগের অভিযোগগুলোর বিষয়েও বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ যথাযথ পদক্ষেপ নেয়নি। ঘটনাটি আড়াল করার চেষ্টা করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তাঁরা। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে স্বাধীনভাবে যাচাই করা তথ্য পাওয়া যায়নি।
প্রধান শিক্ষক মো. আবুল মালেক বলেন, “অভিযুক্ত শিক্ষক শহিদুল্লাহকে প্রথমে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হবে। পরে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তার পরামর্শ অনুযায়ী তাঁর বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।”
উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, এ বিষয়ে প্রধান শিক্ষককে প্রথমে অভিযুক্ত শিক্ষকের কাছে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে ধর্মীয় শিক্ষক শহিদুল্লাহর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁকে পাওয়া যায়নি।
অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে ঘটনার সত্যতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন শিক্ষার্থী ও স্থানীয় বাসিন্দারা।
সদ্য সংবাদ/ এআর