মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের অভিযানে আটক হওয়ার পর বরিশাল এয়ারপোর্ট থানার সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) দেলোয়ার হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। পুলিশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার অভিযোগে বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনারের নির্দেশে তাঁর বিরুদ্ধে এ বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
মাদকবিরোধী অভিযানে এক পুলিশ সদস্যের আটকের ঘটনাকে কেন্দ্র করে বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশে বিভাগীয় পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এএসআই দেলোয়ার হোসেনকে সাময়িক বরখাস্তের বিষয়টি শুক্রবার (৯ অক্টোবর) নিশ্চিত করেছেন বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের উপপুলিশ কমিশনার সুশান্ত সরকার।
পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) সকালে বরিশালের কড়াপুর ইউনিয়নে মিরাজুল ইসলাম নামে এক ব্যক্তির বসতঘরে অভিযান চালায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর। এ সময় মাদক সেবনের সরঞ্জামসহ চারজনকে আটক করা হয়। তাঁদের মধ্যে ছিলেন এএসআই দেলোয়ার হোসেন, যিনি নিজেকে বরিশাল এয়ারপোর্ট থানার পুলিশ সদস্য হিসেবে পরিচয় দেন।
ঘটনাটি জানার পর মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সংশ্লিষ্ট পরিদর্শক এয়ারপোর্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে অবহিত করেন। পরে থানা পুলিশের সদস্যরা ঘটনাস্থলে যান। সেখানে দেলোয়ার হোসেনের কাছে মাদকদ্রব্য পাওয়া না যাওয়ায় পরবর্তী সময়ে তাঁকে নিজেদের হেফাজতে নেওয়া হয় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
উপপুলিশ কমিশনার সুশান্ত সরকার জানান, এএসআই দেলোয়ার হোসেন গত ৩০ সেপ্টেম্বর থেকে ১৫ দিনের আরআরএল ছুটিতে ছিলেন। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের অভিযানে তাঁর আটকের বিষয়টি জানার পরপরই তাঁর বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
তিনি আরও বলেন, বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশ মাদকের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণ করছে। মাদক নির্মূলে নিয়মিত অভিযান পরিচালনার পাশাপাশি পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধেও কোনো ধরনের মাদকসংক্রান্ত অপরাধে জড়িত থাকার অভিযোগ উঠলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
পুলিশ কমিশনার আবু রায়হান মুহাম্মদ সালেহও পুলিশ সদস্যদের মাদকসংক্রান্ত অপরাধ ও অসামাজিক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার বিষয়ে কঠোর অবস্থান নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন বলে জানান সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
এ ঘটনায় এএসআই দেলোয়ার হোসেনের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হলেও মাদকসংক্রান্ত অভিযোগের বিষয়ে তদন্তের বিস্তারিত তথ্য জানা যায়নি।
সদ্য সংবাদ/এসকে