গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার চাতৈল ভিটি এলাকায় বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও মারধরের অভিযোগে কালিয়াকৈর থানায় মামলা হয়েছে। গত ৬ অক্টোবর বিকেলে এ ঘটনা ঘটে বলে এজাহার ও মামলার প্রাথমিক তথ্য বিবরণীতে উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযোগকারী মো. রিফাত হোসেনের দাবি, জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে তার মামার পরিবারের সঙ্গে স্থানীয় কয়েকজনের বিরোধ চলছিল। এর জের ধরে ঘটনার দিন বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে কামরুল হাসান, সিয়াম, আলামিন ও জেসমিনসহ ১০ থেকে ১২ জনের একটি দল দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে তাদের বাড়িতে যায়।
এজাহারে বলা হয়, হামলাকারীরা দা, বঁটি, হাতুড়ি ও লোহার রডসহ বিভিন্ন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে বাড়িতে প্রবেশ করে। তারা বাড়িঘরে ভাঙচুরের পাশাপাশি আসবাবপত্র ও অন্যান্য মালামালের ক্ষতি করে। এ সময় একটি বাড়ির গেট ও সিসিটিভি ক্যামেরাও ভাঙচুর করা হয়।
অভিযোগপত্র অনুযায়ী, এ ঘটনায় প্রায় ৪ লাখ ৫০ হাজার টাকার সম্পত্তির ক্ষতি হয়েছে।
অভিযোগে আরও বলা হয়, ঘটনার সময় অভিযোগকারীর মামাতো ভাই খায়রুল ইসলাম খোকন ঢাকা জজ কোর্ট থেকে বাড়ির কাছে এলে কামরুল হাসান, সিয়াম, আলামিন ও জেসমিন তার পথরোধ করে মারধর করেন। পরে তাকে টেনে-হিঁচড়ে পাশের একটি বাড়ির দিকে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে এক অভিযুক্ত ধারালো দা দিয়ে তার মাথায় আঘাত করেন। এতে তিনি গুরুতর আহত হন।
আহত খায়রুল ইসলাম খোকনকে প্রথমে কালিয়াকৈর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। পরে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (ঢামেক) পাঠান। বর্তমানে তিনি সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
অভিযোগকারী আরও দাবি করেন, খায়রুলকে রক্ষা করতে এগিয়ে গেলে তার এক নারী আত্মীয়কেও ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করেন অভিযুক্তরা। এ সময় অভিযোগকারীর মাকেও মারধর করে শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখম করা হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
একপর্যায়ে স্থানীয় লোকজন ঘটনাস্থলে এগিয়ে এলে অভিযুক্তরা তাদের হত্যার হুমকি দিয়ে চলে যান বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
মামলায় আলামিন, কামরুল হাসান, সিয়াম ও জেসমিনসহ ১৬ জনের নাম উল্লেখ করে এবং আরও ১০ থেকে ১২ জন অজ্ঞাত ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে। আসামিদের অধিকাংশের ঠিকানা কালিয়াকৈর উপজেলার চাতৈল ভিটি এলাকায় বলে মামলার নথিতে উল্লেখ রয়েছে।
অভিযোগের ভিত্তিতে কালিয়াকৈর থানায় দণ্ডবিধির একাধিক ধারায় মামলাটি রেকর্ড করা হয়েছে বলে নথিতে দেখা যায়।
সদ্য সংবাদ/ এআর