ঢাকার কেরানীগঞ্জের কলাতিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের মাঠ থেকে মাটি কাটার ঘটনাকে কেন্দ্র করে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার সেলিম মিয়া দাবি করেছেন, কলাতিয়া ইউনিয়ন পরিষদের সচিব বশির আহমেদের নির্দেশেই তিনি বিদ্যালয়ের মাঠে মাটি কাটার কাজ করেছিলেন।
ঘটনার সূত্রপাত বিদ্যালয়ের মাঠে ময়লা-আবর্জনা অপসারণের কাজকে কেন্দ্র করে। স্থানীয়দের ভাষ্য, মাঠ পরিষ্কারের কথা বলা হলেও সেখানে গর্ত করে আবর্জনা ফেলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। এ নিয়ে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ আপত্তি জানায়।
বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষিকা মাহফুজা আক্তারের অভিযোগ, তাঁকে আগে থেকে কোনো তথ্য না জানিয়েই মাঠে মাটি কাটার কাজ শুরু করা হয়। বিষয়টি জানতে পেরে তিনি ঘটনাস্থলে গিয়ে কাজ বন্ধ করে দেন। পরে স্থানীয় নেতাদের উপস্থিতিতে বিষয়টি মীমাংসার উদ্যোগ নেওয়া হয়।
এরই মধ্যে ঘটনাটি স্থানীয়ভাবে ছড়িয়ে পড়লে ঢাকা-২ আসনের সংসদ সদস্য আমান উল্লাহ আমান ঘটনাস্থলে যান। সেখানে তিনি মাঠ থেকে মাটি কাটার বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের কাছে জানতে চান। কার নির্দেশে এ কাজ শুরু হয়েছিল, তা খুঁজে বের করতে কলাতিয়া পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জকে দায়িত্ব দেওয়া হয়। এ সময় মাটি কাটার কাজে যুক্ত এক চালককে পুলিশের জিম্মায় দেওয়া হয়।
পরদিন ঠিকাদার সেলিম মিয়াকে পুলিশ ফাঁড়িতে ডেকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। পরে গণমাধ্যমের সামনে দেওয়া বক্তব্যে তিনি বলেন, ইউপি সচিব বশির আহমেদের নির্দেশ পাওয়ার পরই বিদ্যালয়ের মাঠ থেকে মাটি কাটার কাজ করেন তিনি।
তবে ঠিকাদারের এই দাবির বিষয়ে কলাতিয়া ইউনিয়ন পরিষদের সচিব বশির আহমেদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তাঁর বক্তব্য জানতে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি কল রিসিভ করেননি। ফলে ঠিকাদারের অভিযোগের বিষয়ে তাঁর অবস্থান নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি।
অন্যদিকে স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা ইউপি সচিবের বিরুদ্ধে ইউনিয়ন পরিষদের বিভিন্ন সেবা গ্রহণের ক্ষেত্রে অর্থ নেওয়ার অভিযোগ করেছেন। জন্মনিবন্ধনসহ কয়েকটি সেবা নিয়ে এমন অভিযোগের কথা স্থানীয় সূত্রে জানা গেলেও এসব অভিযোগের স্বাধীনভাবে সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
বিদ্যালয়ের মাঠে মাটি কাটার ঘটনাটি নিয়ে এখন মূল প্রশ্ন কোনো সরকারি অনুমোদন বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে কাজটি করা হয়েছিল কি না। ঠিকাদারের বক্তব্যে ইউপি সচিবের নাম আসার পর বিষয়টি আরও গুরুত্ব পেয়েছে। অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাই করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কী পদক্ষেপ নেয়, এখন সেদিকেই নজর স্থানীয়দের।
সদ্য সংবাদ/এসএস