পিরোজপুরের নেছারাবাদে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য বরাদ্দ দুধ নিয়ে যাওয়ার অভিযোগে ছাত্রদল নেতা মো. নাদিম মাহমুদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নিয়েছে জেলা ছাত্রদল। তাকে সংগঠনের প্রাথমিক সদস্যপদসহ সব পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) রাতে জেলা ছাত্রদলের পক্ষ থেকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে নাদিম মাহমুদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে সংগঠনের নেতাকর্মীদের তার সঙ্গে সাংগঠনিক যোগাযোগ না রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
নাদিম মাহমুদ নেছারাবাদ উপজেলার ১ নম্বর বলদিয়া ইউনিয়ন ছাত্রদলের দপ্তর সম্পাদক এবং সরকারি স্বরূপকাঠী কলেজ ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।
জেলা ছাত্রদলের সভাপতি সালাউদ্দিন তালুকদার কুমার জানান, স্কুল ফিডিং কর্মসূচির দুধ নিয়ে যাওয়ার অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতেই নাদিমের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। সংগঠনের শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগ প্রমাণিত হলে নীতিমালা অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।
ঘটনার সূত্রপাত গত ২৫ সেপ্টেম্বর। অভিযোগ ওঠে, নেছারাবাদ উপজেলার ১৪৮ নম্বর দক্ষিণ বিন্না কাইলান্তরি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিশুদের জন্য সংরক্ষিত দুধের ৩০ প্যাকেট নাদিম মাহমুদ ও তার দুই সহযোগী নিয়ে যান।
বিদ্যালয় সূত্রের বরাতে জানা যায়, ওই সময় স্থানীয় বিন্না খালে নৌকাবাইচ উপলক্ষে পুলিশ সদস্য ও বিএনপির কয়েকজন নেতাকর্মী বিদ্যালয়ে উপস্থিত ছিলেন। অতিথিদের আপ্যায়ন ও বসার ব্যবস্থা নিয়ে শিক্ষকরা ব্যস্ত থাকার সুযোগে বিদ্যালয়ের লাইব্রেরিতে রাখা দুধের প্যাকেট সরিয়ে নেওয়ার অভিযোগ ওঠে।
বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের হিসাবে, সেখানে মোট ৭৯ প্যাকেট দুধ রাখা ছিল। এর মধ্যে ৩০ প্যাকেট নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ প্রকাশ্যে আসার পর গত ৩০ সেপ্টেম্বর সকালে নাদিম মাহমুদ ও তার সহযোগীরা ২৭ প্যাকেট দুধ বিদ্যালয়ে ফেরত দেন। বাকি তিন প্যাকেট খাওয়া হয়েছে বলে বিদ্যালয়কে জানানো হয়।
এর আগে নাদিম মাহমুদ দাবি করেছিলেন, তারা তিন প্যাকেট দুধ খেয়েছিলেন এবং এগুলো শিশুদের জন্য বরাদ্দ এ বিষয়টি তারা জানতেন না। পরে বিষয়টি জানতে পেরে অবশিষ্ট প্যাকেটগুলো বিদ্যালয়ে ফেরত দেওয়া হয় বলে তার বক্তব্য।
এদিকে, ঘটনাটি শিক্ষা অফিসকে জানাতে বিলম্বের কারণ জানতে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. নুরুল ইসলামকে শোকজ করা হয়েছে। নেছারাবাদ উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. মাইনুল ইসলাম জানান, তিন কর্মদিবসের মধ্যে প্রধান শিক্ষককে লিখিত জবাব দিতে বলা হয়েছে।
সদ্য সংবাদ/এসএস