চট্টগ্রামের রাউজানে ডাকাতির প্রস্তুতি নেওয়ার অভিযোগে তিনজনকে আটক করেছে পুলিশ। এ সময় তাদের কাছ থেকে একটি দেশীয় আগ্নেয়াস্ত্র, গুলি ও ধারালো অস্ত্র উদ্ধারের কথা জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) গভীর রাতে কদলপুর ইউনিয়নের মীর বাগিচা মুনিরিয়া যুব তাবলিক নির্মাণাধীন মাদ্রাসার সামনে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) ও রাউজান থানা পুলিশের যৌথ দল এ অভিযান পরিচালনা করে।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন- রাউজানের বাসিন্দা মো. শাহাদাত হোসেন সাজ্জাদ (৩০), মো. জাফর (৩৮) এবং মো. সাফায়েত হোসেন সিফাত (১৯)।
পুলিশের ভাষ্য, রাতে রাউজান থানা পুলিশের একটি টহল দল বিশেষ দায়িত্বে ছিল। ওই সময় গোপন তথ্যের মাধ্যমে তারা জানতে পারে, কদলপুর ইউনিয়নের একটি এলাকায় কয়েকজন ব্যক্তি ডাকাতির উদ্দেশ্যে জড়ো হয়েছেন। খবরটি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানানো হলে ডিবির সদস্যদের সঙ্গে নিয়ে সেখানে অভিযান চালানো হয়।
পুলিশের উপস্থিতি বুঝতে পেরে কয়েকজন সরে যাওয়ার চেষ্টা করেন। পরে ঘটনাস্থল থেকে তিনজনকে আটক করা হয়। তাদের দেহ তল্লাশি করে একটি দেশীয় তৈরি এলজি, দুটি সীসা কার্তুজ, একটি রামদা ও একটি ছোরা পাওয়ার দাবি করেছে পুলিশ।
চট্টগ্রামের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. রাসেল জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে শাহাদাত হোসেন সাজ্জাদ ও মো. জাফরের সঙ্গে রায়হান নামে এক ব্যক্তির ঘনিষ্ঠতার তথ্য পাওয়া গেছে। পুলিশের দাবি, তারা ওই ব্যক্তির নির্দেশনায় বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে যুক্ত ছিলেন। চাঁদা আদায়, অবৈধভাবে বালু উত্তোলন এবং বালু বিক্রির অর্থ সংগ্রহ করে রায়হানের কাছে পৌঁছে দেওয়ার অভিযোগও তাদের বিরুদ্ধে রয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।
পুলিশ আরও বলছে, গ্রেপ্তার সাফায়েত হোসেন সিফাত রায়হানের নিয়ন্ত্রণাধীন একটি কিশোর গ্যাংয়ের নেতৃত্ব দিতেন বলে জিজ্ঞাসাবাদে তথ্য পাওয়া গেছে। ওই গ্যাংয়ের সদস্যরা এলাকায় ভয়ভীতি সৃষ্টি ও বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে সহযোগিতা করত বলে দাবি পুলিশের।
এদিকে, রায়হানের নেতৃত্বে পরিচালিত কর্মকাণ্ডে আরও কারা জড়িত, তা শনাক্ত করতে তদন্ত চলছে। সংশ্লিষ্টদের আইনের আওতায় আনতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
গ্রেপ্তার তিনজনের বিরুদ্ধে ডাকাতির প্রস্তুতি ও অবৈধ অস্ত্র রাখার অভিযোগে রাউজান থানায় পৃথক মামলা করা হয়েছে।
সদ্য সংবাদ/এসএস