কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ীতে এক নারীর সঙ্গে আপত্তিকর অবস্থায় থাকার অভিযোগে স্থানীয়দের ধাওয়ার মুখে পালিয়ে গেছেন এক প্রধান শিক্ষক। এ সময় তাঁর পরনের লুঙ্গি, জামা, স্যান্ডেল ও মুঠোফোন ঘটনাস্থলে পড়ে থাকে।
মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় উপজেলার মধ্য রাবাইতারী গ্রামের নেওয়াশী বাজারের পশ্চিম পাড়ায় এ ঘটনা ঘটে। বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর এলাকায় ক্ষোভ ও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
স্থানীয়দের ভাষ্য, উত্তর রাবাইতারী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নূরুল আমিন নূরু (৪৯) দীর্ঘদিন ধরে চাকরি দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে দুই সন্তানের জননী মৌসুমী আক্তারের (৩৬) সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্কে জড়িত ছিলেন। এ নিয়ে স্থানীয়ভাবে একাধিকবার সালিশ ও প্রতিবাদ সভা হলেও সেসবের তোয়াক্কা করেননি তিনি।
স্থানীয় সূত্র জানায়, মঙ্গলবার সন্ধ্যায় মৌসুমীকে তাঁর এক আত্মীয়ের পরিত্যক্ত বাড়িতে ডেকে নেন ওই শিক্ষক। সেখানে দুজনকে একসঙ্গে দেখতে পেয়ে স্থানীয়রা বাড়িটি ঘিরে ফেলেন। এ সময় নূরুল আমিন নিজের মুঠোফোন, পরনের লুঙ্গি, গামছা ও স্যান্ডেল ফেলে রেখে সেখান থেকে পালিয়ে যান।
ঘটনার পরদিন বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) বিকেলে বটতলা বাজারে বিষয়টি নিয়ে সালিশ বৈঠকের আয়োজন করা হয়। তবে নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষক সেখানে উপস্থিত হননি। এরপর থেকে তিনি আত্মগোপনে রয়েছেন বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।
এদিকে স্ত্রীর পরকীয়ার ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে মৌসুমীর স্বামী হাবিবুর রহমান বুধবার কাজী অফিসে গিয়ে তাঁকে তালাক দেন। হাবিবুর রহমান বলেন, দুই নাবালক সন্তানকে নিয়ে তিনি থাকবেন, কিন্তু এমন চরিত্রহীন স্ত্রীকে আর সংসারে রাখবেন না।
স্থানীয় বিএনপি নেতা আইয়ুব মুন্সী অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। তাঁর অভিযোগ, মৌসুমী ছাড়াও বিদ্যালয়ের ছাত্রীসহ বিভিন্ন নারীর সঙ্গে ওই শিক্ষকের দৈহিক সম্পর্কের অভিযোগ রয়েছে।
নেওয়াশী ইউনিয়নের সাবেক ইউপি সদস্য মনসুর আলী বলেন, অভিযুক্ত শিক্ষককে সালিশ বৈঠকে উপস্থিত হওয়ার জন্য ডাকা হয়েছিল। কিন্তু সালিশে উপস্থিত হওয়া নিরাপদ মনে না করায় তিনি সেখানে আসেননি।
অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষক নূরুল আমীনের মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও সেটি বন্ধ পাওয়া যায়। এ কারণে তাঁর বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।
ফুলবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহামুদ হাসান নাইম বলেন, মঙ্গলবার সন্ধ্যায় একটি বাড়ি ভাঙচুরের খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়েছিল। তবে কোনো নারীর সঙ্গে অনৈতিক কর্মকাণ্ডের বিষয়ে পুলিশকে কেউ অভিযোগ করেনি। সূত্র: আরটিভি
সদ্য সংবাদ/ এআর