সিরাজগঞ্জে পৃথক একটি হত্যা এবং দুটি মাদক মামলার রায়ে চার আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। এর মধ্যে উল্লাপাড়ায় শিশু সাইম হত্যা মামলায় দুইজন এবং মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের পৃথক দুই মামলায় আরও দুইজনকে এ সাজা দেওয়া হয়েছে।
সোমবার (৩১ আগস্ট) দুপুরে সিরাজগঞ্জ অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ তৃতীয় আদালতের বিচারক মো. নজরুল ইসলাম পৃথক মামলাগুলোর রায় ঘোষণা করেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন আদালতের অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর গোলাম সরোয়ার শফিক।
শিশু হত্যা মামলায় সাজাপ্রাপ্তরা হলেন উল্লাপাড়া উপজেলার ভায়ড়া গ্রামের মোক্তার সরকারের ছেলে আল-আমিন এবং সলঙ্গা থানার আংগারু গ্রামের লোকমান হোসেনের ছেলে নাসির উদ্দীন। আদালত তাদের প্রত্যেককে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের পাশাপাশি ২০ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ড দিয়েছেন। জরিমানা অনাদায়ে আরও এক বছর করে বিনাশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে তাদের।
মামলার নথি অনুযায়ী, ২০১১ সালের ২৫ নভেম্বর বাড়ির কাছাকাছি বন্ধুদের সঙ্গে খেলতে গিয়ে নিখোঁজ হয় শিশু সাইম। পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তার সন্ধান পাননি। পরে স্থানীয়ভাবে মাইকিং করেও শিশুটির সন্ধান করা হয়।
এর দুই দিন পর ২৭ নভেম্বর সকালে স্থানীয় একটি পুকুরে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় সাইমের মরদেহ দেখতে পান এলাকাবাসী। পরে শিশুটির নানা আলীম উদ্দিন বাদী হয়ে ছয়জনের নাম উল্লেখ করে উল্লাপাড়া থানায় হত্যা মামলা করেন। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে মামলায় দুই আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হলো।
অন্যদিকে, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের পৃথক দুটি মামলায় সোহেল রানা (৪৩) ও মালা খাতুন (৫৬) নামে দুইজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।
সোহেল রানা সিরাজগঞ্জ পৌর এলাকার হোসেনপুর পুঠিয়াবাড়ি মহল্লার আনোয়ার হোসেনের ছেলে। ২০২৩ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি শহরের হোসেনপুর তারকাটা মিল এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযান চালায় গোয়েন্দা পুলিশ। এ সময় পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে এক ব্যক্তি পালানোর চেষ্টা করলে তাকে আটক করা হয়। পরে তার কাছ থেকে ২০টি বুপ্রেনরফিন ইনজেকশন উদ্ধার করা হয় বলে মামলার নথিতে উল্লেখ রয়েছে।
ওই ঘটনায় গোয়েন্দা পুলিশের উপপরিদর্শক ইশানুর রহমান বাদী হয়ে মামলা করেন। এ মামলায় আদালত সোহেল রানাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের পাশাপাশি ২০ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন। জরিমানা দিতে ব্যর্থ হলে তাকে আরও পাঁচ মাস বিনাশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।
অপর মামলার আসামি মালা খাতুন দিনাজপুরের হাকিমপুর থানার বাসুদেবপুর মাস্টারপাড়া এলাকার হবিবুর রহমানের স্ত্রী। ২০২২ সালের ২২ জুলাই সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার সয়দাবাদ ইউনিয়নের মনসুর আলী স্টেশন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করে র্যাব।
মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, তার কাছ থেকে ১২০ গ্রাম হেরোইন উদ্ধার করা হয়। পরে এ ঘটনায় মামলা করা হয়। ওই মামলায় আদালত মালা খাতুনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের পাশাপাশি ২০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দিয়েছেন। জরিমানা অনাদায়ে তাকে আরও ছয় মাস বিনাশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।
একই আদালতে পৃথক মামলায় চার আসামির বিরুদ্ধে সাজা ঘোষণার মধ্য দিয়ে দীর্ঘদিন ধরে চলা এসব মামলার বিচারিক কার্যক্রমের নিষ্পত্তি হয়েছে।
সদ্য সংবাদ/এসএস