সাভারের উলাইল-কর্ণপাড়া এলাকায় একটি পোশাক কারখানায় হামলা, শ্রমিকদের মারধর এবং নগদ অর্থ নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। একই ঘটনায় কারখানা কর্তৃপক্ষের কাছে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়েছিল বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।
অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দা রুবায়েল সিদ্দিক ওরফে রুবেল। প্রতীক অ্যাপারেলসের ম্যানেজার হাবিবুর রহমানের অভিযোগ, বেশ কিছুদিন ধরে রুবেল বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি দেখিয়ে তার কাছে ১০ লাখ টাকা দাবি করে আসছিলেন।
কারখানা কর্তৃপক্ষের ভাষ্য অনুযায়ী, গত ২৭ আগস্ট রাত সাড়ে ১১টার দিকে একদল লোক নিয়ে কারখানায় প্রবেশ করেন রুবেল। চাঁদার টাকা না দেওয়াকে কেন্দ্র করে সেখানে শ্রমিকদের সঙ্গে বাকবিতণ্ডা ও মারধরের ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
এ সময় কারখানার ক্যাশে শ্রমিকদের বেতন দেওয়ার জন্য রাখা ৯১ হাজার ৭০০ টাকা নিয়ে যাওয়ার দাবি করেছেন ম্যানেজার হাবিবুর রহমান। হামলার ঘটনায় কয়েকজন শ্রমিকও আহত হয়েছেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
শুধু কারখানাতেই নয়, স্থানীয় কয়েকজন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীর কাছ থেকেও নিয়মিত চাঁদা দাবি করা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। কর্ণপাড়া বাজারের ব্যবসায়ীদের কয়েকজন নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, চাঁদা দেওয়ার চাপের কারণে তারা ব্যবসা পরিচালনায় আতঙ্কের মধ্যে রয়েছেন।
স্থানীয়দের কেউ কেউ দাবি করেছেন, অভিযুক্ত রুবেল নিজেকে যুবদলের নেতা হিসেবে পরিচয় দেন। পাশাপাশি সাভার থানা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ও ৬ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর প্রার্থী আহসানউল্লাহর সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠতা রয়েছে বলেও এলাকায় আলোচনা আছে। তবে কোনো রাজনৈতিক ব্যক্তির সঙ্গে সম্পর্ক বা পরিচয় থাকলেই অভিযোগ প্রমাণিত হয় না; ঘটনার সত্যতা তদন্তের মাধ্যমেই নিশ্চিত হওয়া সম্ভব।
এ ঘটনায় থানায় অভিযোগের বিষয়টি এবং পুলিশ ঘটনাস্থলের সিসিটিভি ফুটেজ, প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য ও অন্যান্য আলামত সংগ্রহ করেছে কি না তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। পুলিশের আনুষ্ঠানিক বক্তব্যও পাওয়া যায়নি।
সাভারের গুরুত্বপূর্ণ শিল্পাঞ্চলগুলোর একটি উলাইল-কর্ণপাড়া এলাকা। স্থানীয় ব্যবসায়ী ও কারখানা মালিকদের দাবি, এ ধরনের অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনের পাশাপাশি শিল্পপ্রতিষ্ঠান ও ব্যবসায়ীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
সদ্য সংবাদ/এসএস