গাজীপুরের টঙ্গীতে আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে ইঞ্জিনিয়ার হেলালের ভূমিকা ও দলীয় পদ পাওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমালোচনা করেছেন আল রিয়াদ আদনান অন্তর। সম্প্রতি নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে তিনি ইঞ্জিনিয়ার হেলালের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ তুলে ধরেন। একই সঙ্গে ‘বন্ধু পরিচয়ে’ কাউকে দলীয় নেতৃত্বে না আনার আহ্বান জানান তিনি।
আল রিয়াদ আদনান অন্তরের দাবি, ইঞ্জিনিয়ার হেলাল জীবনে কখনো ছাত্রলীগ বা যুবলীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন না। তবে মেয়র জাহাঙ্গীর আলমের ঘনিষ্ঠ বন্ধু পরিচয় ব্যবহার করে তিনি টঙ্গী পৌরসভা দখল, লুটপাট ও টেন্ডার বাণিজ্যের সঙ্গে জড়িত ছিলেন বলে অভিযোগ করেন অন্তর।
ফেসবুক পোস্টে তিনি আরও অভিযোগ করেন, ইঞ্জিনিয়ার হেলাল টঙ্গীর আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে গ্রুপিং তৈরি করে দলকে বিভক্ত করেছেন। পাশাপাশি নিজেকে টঙ্গী পশ্চিম থানা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক পদপ্রার্থী দাবি করে দলের ত্যাগী নেতাকর্মীদের কোণঠাসা করে রেখেছিলেন বলেও দাবি করা হয় পোস্টে।

আল রিয়াদ আদনান অন্তরের ভাষ্য, জাহাঙ্গীর আলমের সঙ্গে রাজনৈতিক সম্পর্কের কারণে ইঞ্জিনিয়ার হেলালের প্রভাব ছিল। এমনকি তাঁর বাসায় নিয়মিত উপস্থিত না হলে জাহাঙ্গীর আলমের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকা কঠিন হয়ে পড়ত বলেও পোস্টে দাবি করা হয়েছে।
পোস্টে ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের প্রসঙ্গও তুলে ধরেন আল রিয়াদ আদনান অন্তর। তাঁর দাবি, ওই সময়ের পর আওয়ামী লীগের অনেক নেতাকর্মী আত্মগোপনে থাকলেও ইঞ্জিনিয়ার হেলাল এলাকায় অবস্থান করছেন এবং টঙ্গী পশ্চিম থানা বিএনপির সভাপতি বশির উদ্দীনের ছত্রচ্ছায়ায় ব্যবসা-বাণিজ্য করছেন।
তিনি আরও দাবি করেন, গত দুই বছরে দলের ত্যাগী নেতাকর্মীরা আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কর্মসূচি বাস্তবায়নে সক্রিয় থাকলেও ইঞ্জিনিয়ার হেলালের তেমন কোনো ভূমিকা ছিল না। তাঁর অভিযোগ, টঙ্গী পশ্চিম থানা আওয়ামী লীগের কমিটি গঠনের প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার পর হঠাৎ করেই ইঞ্জিনিয়ার হেলালের রাজনৈতিক তৎপরতা বেড়েছে এবং তিনি সাধারণ সম্পাদক পদ পাওয়ার জন্য দৌড়ঝাঁপ শুরু করেছেন।
আল রিয়াদ আদনান অন্তর তাঁর পোস্টে আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, ইঞ্জিনিয়ার হেলাল ভবিষ্যতে দলীয় নেতৃত্বে এলে টঙ্গী পৌরসভাকে কেন্দ্র করে আবারও টেন্ডার বাণিজ্য ও অনিয়মের সুযোগ তৈরি হতে পারে। একই সঙ্গে স্থানীয় বিএনপি ও জামায়াতের কিছু নেতাকর্মী তাঁকে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে দেখতে আগ্রহী বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
পোস্টে তিনি আরও দাবি করেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে ইঞ্জিনিয়ার হেলালের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে উল্লেখযোগ্য কোনো অবদান দেখা যায়নি। এমনকি কোনো মিছিল বা পোস্টার লাগানোর মতো দলীয় কর্মসূচিতেও তাঁর অংশগ্রহণ ছিল না বলে দাবি করা হয়েছে।
এ ছাড়া একাধিকবার কাউন্সিলর নির্বাচন করে ইঞ্জিনিয়ার হেলাল বড় ব্যবধানে পরাজিত হয়েছেন এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে তাঁর উল্লেখযোগ্য রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা নেই বলেও দাবি করেছেন আল রিয়াদ আদনান অন্তর।
পোস্টের শেষাংশে দলীয় নেতৃত্ব নির্বাচনে সতর্ক হওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ব্যক্তিগত পরিচয় বা বন্ধুত্বের ভিত্তিতে কাউকে নেতৃত্বে আনা উচিত নয়। একই সঙ্গে অর্থের বিনিময়ে কঠিন সময়ে দলীয় পদ-পদবি বণ্টন করা হলে সংশ্লিষ্টদের ভবিষ্যতে এর রাজনৈতিক মূল্য দিতে হবে বলেও সতর্ক করেন তিনি।
সদ্য সংবাদ/এসএস