যশোরের কেশবপুরে মসজিদের ইমাম ও খাদেমের নামের পরিবর্তে সরকারি সম্মানী ভাতার তালিকায় নিজেদের নাম অন্তর্ভুক্ত করার অভিযোগে জামায়াতে ইসলামীর দুই স্থানীয় নেতার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। দলীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তাদের অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে এবং ভবিষ্যতে কোনো সাংগঠনিক দায়িত্বে না রাখার সিদ্ধান্ত হয়েছে।
রোববার (২৩ আগস্ট) রাতে উপজেলা জামায়াতের কর্মপরিষদের সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কেশবপুর উপজেলা জামায়াতের নায়েবে আমির সাঈদুর রহমান সাঈদ।
দলীয়ভাবে অব্যাহতি পাওয়া দুই নেতা হলেন পাঁজিয়া ইউনিয়ন জামায়াতের সভাপতি মাসুদ কামাল এবং ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ড জামায়াতের সভাপতি আব্দুল মোতালেব মোল্লা।
স্থানীয় সূত্র ও দলীয় নেতাদের ভাষ্য অনুযায়ী, পাঁজিয়া ইউনিয়নের গোভাঙ্গা বাইতুন নূর জামে মসজিদে মাওলানা আব্দুর রহমান ইমাম এবং আব্দুর রাজ্জাক খাদেম হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছেন। সরকারি সম্মানী ভাতার জন্য তালিকা তৈরির সময় তাদের নাম বাদ দিয়ে অন্য ব্যক্তিদের নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয় বলে অভিযোগ ওঠে।
বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর মসজিদের মুসল্লিরা লিখিতভাবে অভিযোগ করেন স্থানীয় সংসদ সদস্য ও উপজেলা জামায়াতের আমির অধ্যাপক মোকতার আলীর কাছে। পরে অভিযোগের বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে স্থানীয় নেতাদের নির্দেশ দেওয়া হয়।
পরবর্তীতে দলীয় পর্যায়ে বিষয়টি পর্যালোচনা করে গোভাঙ্গা বাইতুন নূর জামে মসজিদের নাম সম্মানী ভাতার তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়। এর পরিবর্তে পাশের পূর্বপাড়া জামে মসজিদের ইমাম, খাদেম ও মুয়াজ্জিনের নাম অন্তর্ভুক্ত করে সংশোধিত তালিকা সংশ্লিষ্ট দপ্তরে পাঠানো হয়।
কেশবপুর উপজেলা জামায়াতের নায়েবে আমির সাঈদুর রহমান সাঈদ বলেন, ঘটনাটি দলীয়ভাবে গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হয়েছে। অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে দুই নেতার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ভবিষ্যতে তারা জামায়াতের কোনো দায়িত্ব বা সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত থাকতে পারবেন না।
এ ঘটনায় সরকারি সম্মানী ভাতার তালিকা প্রণয়নে স্বচ্ছতা ও যাচাই-বাছাই নিয়ে স্থানীয় পর্যায়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
সদ্য সংবাদ/এসএস