জামালপুরে সরকারি আশেক মাহমুদ কলেজের ক্যান্টিনে গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় জাতীয় ছাত্রশক্তি জামালপুর জেলা শাখার আহ্বায়ক আমিমুল ইহসান ও সরকারি আশেক মাহমুদ কলেজ সাংবাদিক সমিতির সভাপতি ফারিয়াজ ফাহিম নিহালকে হেনস্তা ও লাঞ্ছিত করার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের সদস্যসহ কয়েকজন জড়িত ছিলেন বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা।
ঘটনার পর আমিমুল ইহসান ও ফারিয়াজ ফাহিম নিহালের পক্ষ থেকে জামালপুর সদর থানায় অভিযোগ দায়েরের পাশাপাশি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে।
ঘটনার বিষয়ে আমিমুল ইহসান বলেন, “সেদিন সাংবাদিক সমিতির সভাপতি ফারিয়াজ ফাহিম নিহাল আমাকে হঠাৎ ফোন করে জানায়, কয়েকজন ছেলে এসে বিভিন্ন পরিচয় দিচ্ছে। তারা কোন দলের, তা দেখার জন্য আমাকে আসতে বলে। এরপর প্রায় পাঁচ মিনিটের মধ্যে আমি কলেজ ক্যান্টিনে উপস্থিত হই।
তিনি বলেন, “ক্যান্টিনে গিয়ে দেখি নিহাল বসে আছে। বাইরে বেশ কয়েকজন ছেলে ছিল। তাদের মধ্যে কারো কারে মুখ পরিচিত মনে হলেও বাকি কাউকে আমি চিনতাম না। পরে হঠাৎ করেই আমাদের দুজনকে উদ্দেশ্য করে চাঁদাবাজ বলে নানা ধরনের কথা বলা শুরু করে তারা। একই সঙ্গে আকস্মিকভাবে মোবাইল ফোনে আমাদের ভিডিও ধারণ করতে থাকে।”
ইহসান আরও বলেন, “পরে ওই ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হয়। সবচেয়ে আশ্চর্যের বিষয়, যেসব অ্যাকাউন্ট থেকে ভিডিওগুলো ছড়ানো হয়েছে, সেগুলোর অনেকগুলোই ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের বলে আমরা দেখতে পেয়েছি। এ সময় কয়েকজনকে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দিতেও দেখি। আমাদের ধারণা, উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে আমাদের হেয়প্রতিপন্ন করতেই এ ঘটনা ঘটানো হয়েছে।
এদিকে, ঘটনার বর্ণনা দিয়ে সরকারি আশেক মাহমুদ কলেজ সাংবাদিক সমিতির সভাপতি ফারিয়াজ ফাহিম নিহাল বলেন, “আমি কলেজ ক্যান্টিনে বসে ছিলাম। হঠাৎ কয়েকজন ছেলে সেখানে আসে। তাদের মধ্যে একজনকে আমার আগে কোনো একটি এনসিপির মিটিংয়ে দেখেছি বলে মনে হয়। বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার জন্য আমি তাৎক্ষণিকভাবে ইহসানকে ফোন করি। পরে সে সেখানে আসে।
নিহাল বলেন, “আমি সাহায্যের জন্য আমাদের সাংবাদিক সমিতির সহসভাপতি বাঁধন হোসেনকেও ফোন করি। তিনি সেখানে আসেন। এরপর বিষয়টি জানিয়ে সাংবাদিক সমিতির অন্য সদস্যদেরও কলেজে আসতে বলা হয়।
তিনি আরও বলেন, ইহসান আসার পর ক্যান্টিনের ভেতরে কয়েকজন ছেলে এসে আমাদের উদ্দেশ্যে বিভিন্ন ধরনের অশালীন কথা বলতে শুরু করে। একপর্যায়ে ২০ থেকে ৩০ জনের মতো ছেলে আমাদের ঘিরে ধরে। তারা আমাদের চাঁদাবাজ বলে অপমান করতে থাকে এবং মোবাইল ফোনে ভিডিও ধারণ করে।
নিহালের অভিযোগ, এ সময় আমার প্রেসকার্ড কেড়ে নিয়ে সেটির ছবি তোলা হয়। আমার মোবাইল ফোনও কেড়ে নেওয়া হয়। কয়েকজনকে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দিতেও দেখি। একপর্যায়ে তারা আমাকে ও এহসানকে হুমকি দিয়ে বলে, বাইরে কোথাও পেলে দেখে নেবে।”
পরিস্থিতি খারাপ হওয়ায় তারা দ্রুত জামালপুর সদর থানায় ফোন করেন বলে জানান নিহাল। তার ভাষ্য, “পুলিশকে খবর দেওয়ার কিছু সময়ের মধ্যেই পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে আমাদের উদ্ধার করে। তবে পুলিশ আসার আগেই ছেলেগুলো সেখান থেকে চলে যায়। পুলিশ উপস্থিত হওয়ার পর তাদের কাউকে আর দেখা যায়নি।”
এ ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী ইহসান ও নিহাল।
তবে অভিযোগে যাদের বিরুদ্ধে এসব কথা বলা হয়েছে, তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
সদ্য সংবাদ/এসআর