পূর্বাঞ্চলীয় পাকতিয়া প্রদেশের রাজধানী গারদেজে স্থানীয় বাসিন্দারা বিক্ষোভে জড়ো হন। তাদের কেউ কেউ তালেবান সরকারের সাদা পতাকা নাড়িয়ে সমর্থন জানান।
তিনি বলেন, 'আমরা আমাদের ভূমি রক্ষার জন্য এখানে এসেছি।'
আফগানিস্তানে জাতিসংঘ মিশন জানিয়েছে, ২৬ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া সংঘর্ষে শিশুসহ অন্তত ৪২ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত এবং ১০৪ জন আহত হয়েছেন।
এদিকে ইসলামাবাদ এখনো বেসামরিক হতাহতের বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি। পাকিস্তানের দাবি, তাদের সেনারা সংঘর্ষে ৪৩০ জনের বেশি আফগান সেনাকে হত্যা করেছে।
অন্যদিকে আফগানিস্তান দাবি করেছে, সংঘর্ষে পাকিস্তানের প্রায় ১৫০ সেনা নিহত হয়েছেন। তবে দুই পক্ষের এসব দাবির স্বাধীনভাবে যাচাই করা কঠিন বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক সূত্রগুলো।
পাকিস্তানের আগের এক বিমান হামলার প্রতিশোধ হিসেবে আফগান সীমান্তে অভিযান চালানোর পর এই সংঘর্ষের সূত্রপাত হয় বলে জানা গেছে। ইসলামাবাদ দাবি করেছে, ওই হামলায় তারা জঙ্গিদের লক্ষ্যবস্তু করেছিল।
খোস্ত প্রদেশের গুরবুজ জেলাতেও একটি বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। এলাকাটি সাম্প্রতিক সংঘর্ষে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
৭০ বছর বয়সী এই ব্যক্তি আরও বলেন, 'গত সাত-আট দিন ধরে আমাদের পেছনে সেনারা দাঁড়িয়ে আছেন। তারা ক্ষুধার্ত ও তৃষ্ণার্ত, তবু দৃঢ়ভাবে দেশ রক্ষা করছেন।'
আফগানিস্তানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, চলমান সংঘর্ষে তাদের ২৫ জনের বেশি সেনা নিহত হয়েছেন। আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম) জানিয়েছে, সীমান্তে সংঘর্ষের কারণে প্রায় ৬৬ হাজার আফগান বাস্তুচ্যুত হয়েছেন।
সংস্থাটি আরও জানায়, নানগারহার প্রদেশে তাদের অন্তত একটি কেন্দ্র উল্লেখযোগ্য ক্ষতির শিকার হয়েছে। সংঘর্ষের কারণে পাকিস্তান থেকে ফিরে আসা আফগানদের জন্য মানবিক সহায়তা কার্যক্রমও বন্ধ হয়ে গেছে। একই সঙ্গে জরুরি খাদ্য সহায়তাও স্থগিত রয়েছে।
বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি জানিয়েছে, এতে প্রায় ১ লাখ ৬০ হাজার মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। এমনিতেই দেশটি তীব্র খাদ্য সংকটে ভুগছিল।
নানগারহারের এক বাসিন্দা জানান, আগে জাতিসংঘের সংস্থাগুলো তাদের অনেক সহায়তা করত। কিন্তু এখন পরিস্থিতি এতটাই কঠিন যে তিনি নিজের খাবারের পরিমাণও কমিয়ে দিয়েছেন।
ফারহাদ নামে এক ব্যক্তি বলেন, 'কখনো পেট ভরে, কখনো আধা পেট খেয়ে দিন কাটাতে হয়।'