বৃহস্পতিবার (৭ মে) সচিবালয়ে দেশের শীর্ষস্থানীয় জুতা প্রস্তুতকারী ও কর্পোরেট প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় এ তথ্য জানান প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ।
সভায় প্রতিমন্ত্রী বলেন, 'প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য বিনামূল্যে পাটের তৈরি ব্যাগ, স্কুল ড্রেস এবং ফুটওয়্যার সামগ্রী বিতরণের নির্দেশনা দিয়েছেন। এ লক্ষ্যে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় ইতোমধ্যে কার্যক্রম শুরু করেছে।'
তিনি বলেন, 'প্রাথমিক শিক্ষার্থীদের জন্য সরকার একটি পাইলট কর্মসূচি হাতে নিয়েছে। এর মাধ্যমে প্রথম ধাপে প্রথম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের মাঝে মানসম্মত স্কুল জুতা বিতরণ করা হবে।'
প্রতিমন্ত্রী জানান, 'এ উদ্যোগ বাস্তবায়নে দেশের বড় কর্পোরেট প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের করপোরেট সামাজিক দায়বদ্ধতা (সিএসআর) কর্মসূচির অংশ হিসেবে সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছে।'
ববি হাজ্জাজ বলেন, 'সরকার চায় এ উদ্যোগটি শুধু বিতরণ কর্মসূচির মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে শিশুদের জন্য মর্যাদাপূর্ণ ও সমন্বিত সহায়তা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হোক। এজন্য জুতার মান, ডিজাইন ও উৎপাদন প্রক্রিয়ায় সমন্বয় থাকা জরুরি। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের জুতার মানে বৈষম্য থাকলে শিক্ষার্থীদের মধ্যে অসম অভিজ্ঞতা তৈরি হতে পারে।'
তিনি আরও বলেন, 'প্রাথমিকভাবে প্রতিটি উপজেলার দুটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রথম শ্রেণির সব শিক্ষার্থীকে জুতা দেওয়ার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে, যাতে সীমিত পরিসরে দ্রুত ও কার্যকরভাবে পাইলট প্রকল্প বাস্তবায়ন করা যায়।'
এ সময় জুতার টেকনিক্যাল ও কোয়ালিটি স্ট্যান্ডার্ড নির্ধারণে একটি কমিটি গঠনের নির্দেশ দেন প্রতিমন্ত্রী। কমিটিতে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধি, টেকনিক্যাল বিশেষজ্ঞ, লেদার ইন্সটিটিউট ও প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশেষজ্ঞদের পাশাপাশি সহযোগী প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতিনিধিদেরও অন্তর্ভুক্ত করার কথা বলা হয়।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, 'ডিজাইন, কোয়ালিটি চেকিং ও সার্টিফিকেশন যেন আন্তর্জাতিক মান বজায় রেখে করা হয়, সেজন্য বিশেষজ্ঞদের সম্পৃক্ত রাখা হবে।'
তিনি আরও বলেন, যেহেতু সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো নিয়মিতভাবে এ ধরনের জুতা উৎপাদন করে থাকে, তাই অল্প সময়ের মধ্যেই পাইলট প্রকল্প বাস্তবায়ন সম্ভব হবে।'