অতীতে যারা বাংলাদেশকে স্বীকার করেনি, তারাই এখন সবচেয়ে বেশি দুষ্টামি করছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। মির্জা ফখরুল বলেন, পরিকল্পিতভাবে বিএনপির বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। বিএনপি এখন তাদের সবচেয়ে বড় শত্রু হয়ে দাঁড়িয়েছে। যারা একসময় বাংলাদেশের স্বাধীনতাকেই স্বীকার করেনি, তারাই আজ সবচেয়ে বেশি ষড়যন্ত্রে লিপ্ত।
তিনি বলেন, আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনেই নির্ধারিত হবে—বাংলাদেশ উদার গণতন্ত্রের পথে থাকবে, নাকি উগ্রবাদী ও রাষ্ট্রবিরোধী শক্তির হাতে চলে যাবে।
বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘যারা একসময় মানুষ হত্যা করেছে, আমাদের মা-বোনদের সম্ভ্রমহানি করেছে, পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর হাতে তুলে দিয়েছে—সেই ইতিহাস আমরা ভুলিনি। তবুও আমরা বলি, রাজনীতি করতে হলে সোজা পথে করুন। ধর্মকে ব্যবহার করে মানুষকে বিভ্রান্ত করবেন না।’
তিনি অভিযোগ করেন, ধর্মের নামে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করে বিএনপির বিরুদ্ধে মিথ্যা প্রচারণা চালানো হচ্ছে। যখন দেশের মানুষ জাতীয়তাবাদী রাজনীতি ও তারেক রহমানের আধুনিক রাজনৈতিক দর্শন গ্রহণে আগ্রহী হয়ে উঠেছে, তখন একটি গোষ্ঠী ধর্মকে হাতিয়ার করে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছে।
ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘আমরা ধর্মে বিশ্বাস করি। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান সংবিধানে “বিসমিল্লাহির রহমানির রাহিম” সংযোজন করেছিলেন এবং আল্লাহর ওপর পূর্ণ আস্থার কথা বলেছেন। তাই ধর্মের নামে অপরাজনীতি বন্ধ করুন।’
নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আর মাত্র ২৩ দিন বাকি। এখনও কেউ কেউ বলছেন নির্বাচন হতে দেবেন না। বাস্তবে তাদের ভোটব্যাংক নেই বললেই চলে। আমরা নির্বাচন চাই, জনগণের কাছে যেতে চাই। জনগণ চাইলে ক্ষমতায় আসব, না চাইলে বিরোধী দলে থাকব।
তিনি আরও বলেন, এই নির্বাচন বাংলাদেশের জন্য একটি কঠিন পরীক্ষা। এখানে নির্ধারিত হবে দেশ গণতন্ত্রের পথে থাকবে নাকি উগ্রবাদীদের হাতে যাবে। গণতন্ত্র, মানুষের কল্যাণ ও উদার রাজনীতির পথই আমাদের বেছে নিতে হবে। বিএনপির ৩১ দফা ও চেয়ারম্যান ঘোষিত কর্মসূচি জনগণের কাছে পৌঁছে দিয়ে ধানের শীষের বিজয় নিশ্চিত করতে হবে।
আলোচনা সভায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, নজরুল ইসলাম খান, ড. আব্দুল মঈন খান, সেলিমা রহমান, ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলালসহ দলের সিনিয়র নেতারা উপস্থিত ছিলেন।