দীর্ঘ দুই দশকের আইনি লড়াই ও অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে ২৭তম বিসিএসের নিয়োগবঞ্চিত ৬৭৩ জন প্রার্থী সরকারি চাকরিতে নিয়োগ পেলেন। উচ্চ আদালতের রায়ের পরিপ্রেক্ষিতে বৃহস্পতিবার জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় তাঁদের বিভিন্ন ক্যাডারে নিয়োগ দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, নিয়োগপ্রাপ্তদের জ্যেষ্ঠতা অক্ষুণ্ন রাখতে তাঁদের নিজ নিজ ব্যাচ, অর্থাৎ ২৭তম বিসিএসের প্রথম নিয়োগের তারিখ থেকে এই আদেশ ভূতাপেক্ষভাবে কার্যকর হবে। প্রথম নিয়োগ প্রজ্ঞাপনের যোগদানের তারিখ অনুযায়ী নতুন নিয়োগপ্রাপ্তদের ধারণাগত জ্যেষ্ঠতা বহাল থাকবে। তবে দীর্ঘ সময়ের জন্য তাঁরা কোনো ধরনের বকেয়া আর্থিক সুবিধা পাবেন না। জ্যেষ্ঠতা নির্ধারণের বিষয়টি চূড়ান্তভাবে আপিল বিভাগের রায়ের ভিত্তিতে নিষ্পত্তি হবে।
নিয়োগপ্রাপ্তদের আগামী ১ জানুয়ারি ২০২৬-এর মধ্যে সংশ্লিষ্ট ক্যাডার নিয়ন্ত্রণকারী মন্ত্রণালয় বা বিভাগ নির্ধারিত কার্যালয়ে যোগ দিতে বলা হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে যোগদান না করলে সংশ্লিষ্ট প্রার্থী চাকরিতে যোগদানে অসম্মত বলে গণ্য হবেন এবং তাঁর নিয়োগপত্র বাতিল হবে।
২০০৭ সালে ২৭তম বিসিএসের মৌখিক পরীক্ষার ফল বাতিল হওয়ায় বাদ পড়া ১ হাজার ১৩৭ জন প্রার্থীকে গত ২০ ফেব্রুয়ারি নিয়োগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত দেয় আপিল বিভাগ। এরপর এ বিষয়ে সরকারি কর্ম কমিশনের সুপারিশের আলোকে বৃহস্পতিবার ৬৭৩ জনকে বিভিন্ন ক্যাডারে নিয়োগ দেওয়া হলো।
উল্লেখ্য, ২৭তম বিসিএসের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হয় ২০০৫ সালে। লিখিত পরীক্ষার পর মৌখিক পরীক্ষায় ৩ হাজার ৫৬৭ জন উত্তীর্ণ হন। তবে ২০০৭ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকার অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে ওই মৌখিক পরীক্ষার ফল বাতিল করে দেয়। পরে একই বছরের জুলাইয়ে দ্বিতীয় দফায় মৌখিক পরীক্ষা নেওয়া হয় এবং ২০০৮ সালের সেপ্টেম্বরে তার ফল প্রকাশ করা হয়। দ্বিতীয় মৌখিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ ৩ হাজার ২২৯ জনকে পরবর্তীতে চাকরিতে নিয়োগ দেওয়া হয়।
প্রথম মৌখিক পরীক্ষার ফল বাতিলের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে উত্তীর্ণ প্রার্থীরা রিট আবেদন করেন। ২০০৮ সালের ৩ জুলাই হাইকোর্ট প্রথম মৌখিক পরীক্ষার ফল বাতিলের সিদ্ধান্ত বৈধ ঘোষণা করে রায় দেন। ওই রায়ের বিরুদ্ধে ২৫ জন আপিল বিভাগে লিভ টু আপিল করেন। একই সময়ে ২০৫ জন আবেদনকারীর করা আরেক রিটে হাইকোর্টের পৃথক বেঞ্চ ২০০৯ সালের ১১ নভেম্বর দ্বিতীয় মৌখিক পরীক্ষা অবৈধ ঘোষণা করে। এর বিরুদ্ধে সরকার আপিল বিভাগে তিনটি লিভ টু আপিল দায়ের করে।
পরবর্তীতে ২০১০ সালের ১১ জুলাই তৎকালীন প্রধান বিচারপতি মোহাম্মদ ফজলুল করিমের নেতৃত্বে আপিল বিভাগের ছয় বিচারকের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চ প্রথম মৌখিক পরীক্ষা বাতিলকে বৈধ ঘোষণার হাইকোর্টের রায় বহাল রাখে। একই সঙ্গে দ্বিতীয় মৌখিক পরীক্ষা অবৈধ ঘোষণার রায়ের বিরুদ্ধে সরকারের করা লিভ টু আপিলগুলো কিছু পর্যবেক্ষণসহ নিষ্পত্তি করে দেওয়া হয়।