যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত উচ্চ শুল্কের পাল্টা জবাবে ডাল আমদানিতে ৩০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছে ভারত। বিশ্ববাজারে ডালের সবচেয়ে বড় ভোক্তা দেশ হিসেবে ভারতের এই সিদ্ধান্তে মার্কিন কৃষকদের ওপর বড় ধরনের প্রভাব পড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বিশেষ করে গত বছর ৩০ অক্টোবর হলুদ মটরের ওপর ৩০ শতাংশ শুল্ক ঘোষণা করা হয়, যা ১ নভেম্বর ২০২৫ থেকে কার্যকর হয়েছে। ভারত সরকার বিষয়টি খুব বেশি প্রচার না করলেও বিশ্লেষকদের মতে, এটি ট্রাম্প প্রশাসনের আগের শুল্ক আরোপের নীরব প্রতিক্রিয়া। ১৭ জানুয়ারি ২০২৬ প্রকাশিত আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদনে দুই দেশের বাণিজ্য সম্পর্কের এই টানাপড়েনের চিত্র উঠে এসেছে।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মন্টানা ও নর্থ ডাকোটা অঙ্গরাজ্য ডাল ও মটর উৎপাদনে শীর্ষে থাকলেও ভারতীয় শুল্কের কারণে সেখানে উৎপাদকরা বড় ধরনের প্রতিযোগিতামূলক চাপে পড়েছেন। এ অবস্থায় মন্টানার সিনেটর স্টিভ ডেইনস এবং নর্থ ডাকোটার সিনেটর কেভিন ক্রেমার ১৬ জানুয়ারি প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে একটি চিঠি দেন।
চিঠিতে তারা ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে এই ‘অন্যায্য’ শুল্ক প্রত্যাহারের উদ্যোগ নিতে ট্রাম্পের প্রতি আহ্বান জানান। তাঁদের মতে, মার্কিন ডাল উৎপাদনের সক্ষমতা ও ভারতের বিপুল চাহিদাকে কাজে লাগিয়ে পারস্পরিক লাভজনক একটি বাণিজ্য চুক্তি সম্ভব।
উল্লেখ্য, গত বছর প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ভারতীয় পণ্যের ওপর সর্বোচ্চ ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করলে দুই দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্কে নজিরবিহীন অবনতি ঘটে। রাশিয়া থেকে তেল আমদানির কারণে ভারতকে এই শাস্তিমূলক শুল্কের মুখে পড়তে হয়। তবে এসব জটিলতার মধ্যেও প্রস্তাবিত ভারত–যুক্তরাষ্ট্র দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য চুক্তির প্রথম পর্যায় চূড়ান্ত হওয়ার কাছাকাছি বলে জানিয়েছেন ভারতের বাণিজ্য সচিব রাজেশ আগরওয়াল।
বর্তমানে দুই দেশের প্রতিনিধি দলের মধ্যে ভার্চুয়াল আলোচনার মাধ্যমে বিষয়টি এগোচ্ছে। নির্দিষ্ট সময়সীমা না জানালেও বাণিজ্য সচিব বলেন, উভয় পক্ষ প্রস্তুত থাকলেই দ্রুত এই চুক্তির প্রথম ধাপ স্বাক্ষরিত হতে পারে।
বর্তমানে ভারত বিশ্বে উৎপাদিত মোট ডালের প্রায় ২৭ শতাংশ ভোগ করে থাকে, যার মধ্যে মসুর, ছোলা ও শুকনা শিম উল্লেখযোগ্য। সরকারি সূত্রের মতে, স্থানীয় কৃষক সংগঠনগুলোর চাপ এবং অভ্যন্তরীণ বাজারে দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতেই এই শুল্ক কার্যকর করা হয়েছে।
অন্যদিকে, ট্রাম্প প্রশাসনের ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নীতির কারণে মার্কিন বাজারে ভারতীয় টেক্সটাইল, রাসায়নিক ও রত্ন শিল্পের রপ্তানি উল্লেখযোগ্যভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। বাণিজ্য বিশ্লেষকদের মতে, ২০২৬ সালের এই বাণিজ্য লড়াই শুধু দুই দেশের অর্থনীতিই নয়, বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থার ওপরও দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলতে পারে।
সূত্র: টাইমস নাও নিউজ