নির্বাচনি সহিংসতা: জানুয়ারিতে নিহত ৪ জন, আহত ৫০৯

A
Admin
২৫ জুলাই, ২০২৬ ১৬:৩৭:২৮

দেশের বিভিন্ন স্থানে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীদের সংঘর্ষের প্রেক্ষাপটে জানুয়ারি মাসে মোট ৬৪টি নির্বাচনি সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে বলে জানিয়েছে বেসরকারি সংস্থা মানবাধিকার সংস্কৃতি ফাউন্ডেশন (এমএসএফ)। এসব ঘটনায় চারজন নিহত এবং ৫০৯ জন আহত হয়েছেন। এর আগের মাস ডিসেম্বরজুড়ে সাতটি সহিংসতায় একজনের মৃত্যু ও ২৭ জন আহত হওয়ার তথ্য দেয় সংস্থাটি।

শনিবার জানুয়ারির শেষ দিনে গণমাধ্যমে পাঠানো এমএসএফের মাসিক মানবাধিকার পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ প্রতিবেদনে বলা হয়, নির্বাচনি সহিংসতা ছিল চলতি মাসের অন্যতম সবচেয়ে ভয়াবহ মানবাধিকার সংকট।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, জানুয়ারিতে ২৪টি রাজনৈতিক সহিংসতার ঘটনায় ২১৫ জন আহত হয়েছেন এবং দুষ্কৃতিকারীর হামলায় ছয়জন নিহত হয়েছেন। আগের মাসে ১৬টি রাজনৈতিক সহিংসতায় আহত হয়েছিলেন ১২৪ জন এবং নিহতের সংখ্যা ছিল চারজন।

তুলনামূলক বিশ্লেষণে এমএসএফ বলেছে, এসব তথ্য প্রমাণ করে যে জানুয়ারি মাসে নির্বাচনি প্রক্রিয়া কার্যত প্রাণঘাতী সহিংসতার দিকে অগ্রসর হয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ময়মনসিংহের ধোবাউড়া উপজেলার এরশাদ বাজারে স্বতন্ত্র প্রার্থী সালমান ওমর রুবেলের সমর্থক নজরুল ইসলাম নির্বাচনি সহিংসতায় নিহত হন। শেরপুরের শ্রীবরদী উপজেলায় জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি রেজাউল করিমকে ইট দিয়ে থেঁতলে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়। এছাড়া কিশোরগঞ্জ-২ আসনের কটিয়াদি উপজেলার আচমিতা ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি ও সাবেক ইউপি সদস্য মো. কামাল উদ্দিন এবং নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জের কাঞ্চনে আজাহার নামে এক স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা নিহত হন।

সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত ও এমএসএফের সংগৃহীত তথ্য অনুযায়ী, জানুয়ারির ৬৪টি নির্বাচনি সহিংসতার ঘটনার মধ্যে ৩৩টিই বিএনপি ও জামায়াতের সংঘর্ষ। এ ছাড়া বিএনপির অভ্যন্তরীণ কোন্দলে ১৩টি, বিএনপি ও স্বতন্ত্র প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে নয়টি, গণঅধিকার পরিষদ ও স্বতন্ত্র প্রার্থীর মধ্যে একটি এবং বিএনপি ও এনসিপির মধ্যে একটি সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

২৪টি রাজনৈতিক সহিংসতার মধ্যে বিএনপির অন্তর্দ্বন্দ্বে ১৬টি, বিএনপি ও আওয়ামী লীগের মধ্যে দুটি এবং বিএনপি ও জামায়াতের মধ্যে পাঁচটি সংঘর্ষের তথ্য পাওয়া গেছে। এসব ঘটনায় নিহত ছয়জনই বিএনপির কর্মী ও সমর্থক বলে জানিয়েছে এমএসএফ।

এ ছাড়া চলতি মাসে অপমৃত্যুর শিকার হয়েছেন আরও ১০ জন। তাঁদের মধ্যে চারজন বিএনপির, দুজন জামায়াতের, দুজন নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্র সংগঠন ছাত্রলীগের, একজন কিশোর এবং একজন বৃদ্ধা রাজনৈতিক রোষানলে পুড়ে মারা গেছেন।

এমএসএফের তথ্যমতে, জানুয়ারিতে কারা হেফাজতে ১৫ জন বন্দির মৃত্যু হয়েছে, যা আগের মাসে ছিল নয়জন। জানুয়ারিতে নিহতদের মধ্যে চারজন কয়েদি এবং ১১ জন হাজতি ছিলেন। মৃত হাজতিদের মধ্যে পাঁচজন কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী।

কেরাণীগঞ্জের ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে দুইজন, গাজীপুরের কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগারে একজন এবং জামালপুর জেলা কারাগারে একজন কয়েদির মৃত্যু হয়। হাজতিদের মধ্যে কেরাণীগঞ্জের ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে দুইজন এবং নরসিংদী, লক্ষ্মীপুর, নারায়ণগঞ্জ, পাবনা, পটুয়াখালী, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, মেহেরপুর, নওগাঁ জেলা কারাগার ও রংপুর কেন্দ্রীয় কারাগারে একজন করে বন্দির মৃত্যু হয়েছে। তবে সব মৃত্যুই কারাগারের বাইরে হাসপাতালে ঘটে।

প্রতিবেদনে মেহেরপুর জেলা কারাগারে নয়ন নামে এক কয়েদিকে চোখ বেঁধে দফায় দফায় মারধরের অভিযোগও উল্লেখ করা হয়েছে। দায়িত্বরত তিন কারারক্ষীর বিরুদ্ধে এই অভিযোগ উঠেছে বলে জানিয়েছে এমএসএফ। সংস্থাটি বলছে, কারাগারে শারীরিক নির্যাতনের কোনো আইনি বৈধতা না থাকলেও নয়নকে নির্যাতন করা হয়েছে—এমন অভিযোগ সদ্য মুক্তিপ্রাপ্ত একাধিক বন্দির কাছ থেকে পাওয়া গেছে।

জানুয়ারিতে ২৯টি গণপিটুনির ঘটনায় ২১ জন নিহত এবং ২৬ জন গুরুতর আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে এমএসএফ। আহত অবস্থায় ১৭ জনকে পুলিশে সোপর্দ করা হয়। নিহতদের মধ্যে ছিনতাই, চুরি, খুন, ডাকাতি, পরকীয়া, বাকবিতণ্ডা, মাদক ব্যবসা ও চাঁদাবাজির অভিযোগে হত্যার ঘটনা রয়েছে। অন্যদিকে ডাকাতি, চুরি, পরকীয়া, ধর্ষণ চেষ্টার অভিযোগ, রাজনৈতিক পরিচয় এবং অন্যান্য অপরাধজনিত কারণে নয়জনকে গণপিটুনিতে গুরুতর আহত করা হয়েছে।

এমএসএফ জানায়, জানুয়ারিতে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে নয়জন নারী ও ৪৮ জন পুরুষসহ মোট ৫৭টি অজ্ঞাত পরিচয়ের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। আগের মাসে এই সংখ্যা ছিল ৪৮টি। অধিকাংশ লাশ নদী, ডোবা, সড়ক বা মহাসড়কের পাশে, সেতুর নিচে, রেললাইনের ধারে, ফসলি জমি ও পরিত্যক্ত স্থান থেকে উদ্ধার করা হয়।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ৯ জানুয়ারি কোস্ট গার্ডের অভিযানে গুলিবিদ্ধ হয়ে একজন নিহত হন। জানুয়ারিতে পুলিশ ও সেনা হেফাজতে দুজনের মৃত্যুর খবরও প্রকাশিত হয়েছে, যেগুলোর ক্ষেত্রে পরিবারের পক্ষ থেকে নির্যাতনের অভিযোগ তোলা হয়েছে।

২২ জানুয়ারি রংপুর নগরের ধাপ চিকলী ভাটা এলাকা থেকে ট্রাকচালক মুকুল মিয়াকে সাদা পোশাকে আটক করে নেওয়ার পর হাসপাতালে তার মৃত্যুর খবর জানানো হয়। এর আগে ১২ জানুয়ারি চুয়াডাঙ্গার জীবননগর পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শামসুজ্জামান ডাবলুকে সেনাবাহিনীর একটি দল তুলে নিয়ে যাওয়ার পর অসুস্থ অবস্থায় হাসপাতালে নেওয়া হলে তিনি মারা যান।

এ ছাড়া ২১ জানুয়ারি লক্ষ্মীপুর জেলা কারাগার থেকে অসুস্থ অবস্থায় আবুল বাশার নামে এক বিএনপি কর্মীকে হাসপাতালে নেওয়ার পর মৃত্যু হয় এবং ২৯ জানুয়ারি সাতক্ষীরার আশাশুনিতে সেনাবাহিনীর মারধরে ইসমাইল হোসেন নামে একজনের মৃত্যুর তথ্যও উল্লেখ করেছে এমএসএফ।

সব মিলিয়ে সংস্থাটি বলছে, আগের মাসের তুলনায় জানুয়ারিতে দেশের মানবাধিকার পরিস্থিতির গুণগত ও পরিমাণগত—উভয় দিক থেকেই অবনতি ঘটেছে।

মন্তব্য (0)

মন্তব্য করুন

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!

বিজ্ঞাপনের জন্য খালি স্পেস

শিরোনাম:
সদ্য. জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডিবিতে হেফাজতে ক্যান্টনমেন্ট থানার সাবেক ওসি রাকিব সদ্য. সারাদেশে একযোগে ৯৯ বিচারককে বদলি সদ্য. শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণে সরকার কি উদ্যোগ নিয়েছে- জানতে চাইল সংসদীয় কমিটি সদ্য. আগামী মাস থেকে বাংলা কিউআরে সঙ্গে সঙ্গেই টাকা পাবেন বিক্রেতা সদ্য. বজ্রপাতে তিন জেলায় ৪ জনের মৃত্যু সদ্য. ডেঙ্গুতে আরও ৫ মৃত্যু, আক্রান্ত ৫৮ হাজার সদ্য. আন্তর্জাতিক কোরআন প্রতিযোগিতায় বিজয়ী হাফেজদের সংবর্ধনা দিলেন প্রধানমন্ত্রী সদ্য. বেনামি গণমাধ্যমের ফটোকার্ডে দেশ অস্থিতিশীলের চেষ্টা হলে ব্যবস্থা নেবে সরকার: আইনমন্ত্রী সদ্য. মক্কা চুক্তির পরপরই সৌদিতে হুতিদের হামলা, কঠিন পরীক্ষায় পাকিস্তান-তুরস্ক সদ্য. আসিফ মাহমুদ ও তার স্ত্রীর তথ্য ও নথি চেয়ে বিএফআইইউকে দুদকের চিঠি সদ্য. জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডিবিতে হেফাজতে ক্যান্টনমেন্ট থানার সাবেক ওসি রাকিব সদ্য. সারাদেশে একযোগে ৯৯ বিচারককে বদলি সদ্য. শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণে সরকার কি উদ্যোগ নিয়েছে- জানতে চাইল সংসদীয় কমিটি সদ্য. আগামী মাস থেকে বাংলা কিউআরে সঙ্গে সঙ্গেই টাকা পাবেন বিক্রেতা সদ্য. বজ্রপাতে তিন জেলায় ৪ জনের মৃত্যু সদ্য. ডেঙ্গুতে আরও ৫ মৃত্যু, আক্রান্ত ৫৮ হাজার সদ্য. আন্তর্জাতিক কোরআন প্রতিযোগিতায় বিজয়ী হাফেজদের সংবর্ধনা দিলেন প্রধানমন্ত্রী সদ্য. বেনামি গণমাধ্যমের ফটোকার্ডে দেশ অস্থিতিশীলের চেষ্টা হলে ব্যবস্থা নেবে সরকার: আইনমন্ত্রী সদ্য. মক্কা চুক্তির পরপরই সৌদিতে হুতিদের হামলা, কঠিন পরীক্ষায় পাকিস্তান-তুরস্ক সদ্য. আসিফ মাহমুদ ও তার স্ত্রীর তথ্য ও নথি চেয়ে বিএফআইইউকে দুদকের চিঠি