শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) তিন মাস পর দেশে ফেরেন ৭৮ বছর বয়সী সাবেক এই রাজা। বিমানবন্দর থেকে তার ব্যক্তিগত বাসভবনে ফেরার পথে সড়কের দু’পাশে ভিড় করেন সমর্থকরা। জাতীয় পতাকা নাড়িয়ে ও ফুলেল শুভেচ্ছায় তাকে স্বাগত জানান তারা। এ সময় ‘রাজা ফিরে আসুন, দেশকে বাঁচান’ স্লোগানে মুখর হয়ে ওঠে পুরো এলাকা।
নেপালের রাজনীতিতে সাম্প্রতিক অস্থিরতার প্রেক্ষাপটে এই সমাবেশ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
২০০৮ সালে বিশেষ আইনসভার সিদ্ধান্তে নেপালের শতাব্দীপ্রাচীন রাজতন্ত্র বিলুপ্ত করে দেশটিকে ধর্মনিরপেক্ষ প্রজাতন্ত্রে রূপ দেওয়া হয়। এরপর থেকেই জ্ঞানেন্দ্র সাধারণ নাগরিক হিসেবে কাঠমান্ডুর নিজ বাসভবনে বসবাস করছেন। তবে দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক অস্থিরতা ও ঘনঘন সরকার পরিবর্তনের কারণে একাংশ নাগরিকের মধ্যে প্রজাতান্ত্রিক ব্যবস্থার প্রতি হতাশা তৈরি হয়েছে।
গত ১৮ বছরে নেপালে ১৪ বার সরকার পরিবর্তন হয়েছে। রাজনৈতিক অস্থিরতার প্রভাব পড়েছে অর্থনীতিতেও—বিনিয়োগ কমেছে, শ্লথ হয়েছে প্রবৃদ্ধি।
এদিকে ২৭৫ আসনে আসন্ন নির্বাচনে মোট ৬৫টি রাজনৈতিক দল অংশ নিচ্ছে। এর মধ্যে রাজতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার পক্ষে অবস্থান নেওয়া একটি দলও রয়েছে। প্রায় ৩ কোটি জনসংখ্যার দেশে এবার প্রায় ১ কোটি ৯০ লাখ ভোটার ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারবেন। সাম্প্রতিক বিক্ষোভের পর নতুন করে প্রায় ১০ লাখ ভোটার তালিকাভুক্ত হয়েছেন, যাদের বড় অংশই তরুণ।
রাজনীতির পুরোনো দলগুলোর পাশাপাশি এবার নতুন মুখও আলোচনায়। র্যাপার থেকে কাঠমান্ডুর মেয়র হওয়া বালেন্দ্র শাহ এবং সাবেক টিভি উপস্থাপক রবি লামিছানে তরুণ ভোটারদের মধ্যে ইতোমধ্যে সাড়া ফেলেছেন।