নারায়ণগঞ্জ শহরের যানজট আর ফুটপাত দখল হয়ে দাঁড়িয়েছে নগরবাসীর গলার কাঁটা। প্রতিদিন হাজারো মানুষ ঘন্টার পর ঘন্টা যানজটের কবলে পড়ছেন, নাকাল অবস্থায় পড়ে হয়ে যাচ্ছেন দিশেহারা। গাড়ি থেকে নেমেও পাচ্ছেন না স্বস্তি। ফুটপাত দখলের পর রাস্তা দখলে নেয়া হকারদের যন্ত্রণায় হাটারও সুযোগ নেই। ফুটপাত দখল এখন এক থেকে বেড়ে তিন স্তরে, ফুটপাতের দুই পাশ দখলের পাশাপাশি রাস্তায় বসানো হয়েছে অবৈধ দোকান, যার পেছনে রয়েছে রাজনৈতিক নেতাদের ছত্রছায়া।
শহরের প্রবেশদ্বার চাষাড়া মোড়ে অবৈধ স্ট্যান্ডের সংখ্যা নয়টি ছাড়িয়েছে, যেখানে বাস, মিনিবাস, লেগুনা, সিএনজি, অটোরিকশা ও ইজিবাইক অনিয়মিতভাবে দাঁড়িয়ে থাকে। ফলে সড়কের প্রস্থ সংকুচিত হচ্ছে, যান চলাচল ব্যাহত হচ্ছে এবং যানজট সৃষ্টি হচ্ছে, যা দ্রুত সমাধানের অভাবে বহুগুণ বৃদ্ধি পাচ্ছে নগরবাসীর ভোগান্তি।
ইজিবাইক ও অটোরিকশার সংখ্যাও অনুমোদিত সীমার অনেক গুণ বেশি। সিটি করপোরেশন যেখানে মাত্র দুই হাজার রিকশার অনুমোদন দিয়েছে, বাস্তবে শহরে লক্ষাধিক যানবাহন চলছে বলে জানান নগরবাসী। এর ফলে যানজট ছাড়াও পরিবেশ দূষণ এবং নিরাপত্তা ঝুঁকিও বেড়েছে বহুগুন।
আরও দুঃখের বিষয়, ভাঙাচোরা ও জীর্ণ পুরনো ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ সড়ক ও বিলম্বিত লিংক রোড সম্প্রসারণ প্রকল্প যানজটের প্রভাব বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। অনেক সময় সড়কখানিতে গর্ত এড়াতে যানবাহন বিপরীত দিক দিয়ে চলাচল করতে বাধ্য হয়, যা অপর একটি যানজটের কারণ।
মরার উপর খরার ঘা হিসেবে শুরু হয়েছে বঙ্গবন্ধু রোডের ড্রেনেজ ব্যবস্থার কাজ। যেখানে ধীরগতির কারণে সহসা কাটছেনা এই গলার কাঁটা যানজট জানান ভুক্তভোগী অনেক যাত্রী। শহরকেন্দ্রিক হওয়ায় এখানে গড়ে উঠেছে বহু সরকারি-বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও উন্নত হাসপাতাল এবং চিকিৎসাকেন্দ্র। যার ফলে জেলা সহ আশ পাশের জেলা থেকেও রোগীদের এখানে আসতে দেখা যায়। যার ফলে ভোগান্তির সর্বোচ্চ সমস্যা ভোগ করতে হয় বলে জানান অনেক চিকিৎসা প্রত্যাশী।
নাগরিকেরা অভিযোগ করছেন, প্রশাসনের বিভিন্ন বৈঠক ও উদ্যোগ থাকলেও রাজনৈতিক স্বার্থ ও সমন্বয়ের অভাবের কারণে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে না। তারা দ্রুত স্থায়ী ও সমন্বিত পরিকল্পনা বাস্তবায়নের দাবি জানিয়েছেন।
নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা বলেন, “হকার পুনর্বাসন, অবৈধ স্ট্যান্ড উচ্ছেদ, রাস্তা সংস্কারসহ বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করেছি। তবে রাজনৈতিক প্রভাব ও বাস্তব জটিলতার কারণে সমস্যার সমাধান একটু সময় নিচ্ছে।”
শহরের ব্যবসায়ী ও পথচারীরা বলছেন, “যদি ফুটপাত মুক্ত না হয়, যানবাহনের সংখ্যা নিয়ন্ত্রণ না করা হয় এবং রাস্তা সংস্কার দ্রুত না করা হয়, তাহলে যানজট আর ভোগান্তি কমার কোনো উপায় নেই।”
নগর পরিকল্পনাবীদ মঈনুল ইসলাম জানায়, জানজট কমাতে প্রয়োজন সুষ্ঠু ট্রাফিক প্ল্যান, হকারদের পুনর্বাসন, যানবাহন নিয়ন্ত্রণ ও অবকাঠামো উন্নয়ন।”
নাগরিক তানিয়া আক্তার বলেন, “দৈনিক যাতায়াত এত কঠিন হয়ে গেছে যে স্কুল ও অফিস যাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে।”
সচেতন নাগরিক, পরিবহন বিশেষজ্ঞ ও ব্যবসায়ীরা একযোগে মনে করেন, যদি রাজনৈতিক সদিচ্ছা ও প্রশাসনিক সমন্বয় না হয়, তাহলে নারায়ণগঞ্জের যানজট ও ফুটপাত দখল সমস্যা অব্যাহত থাকবে, যা শহরের অর্থনীতি ও জনজীবনকে ব্যাহত করবে।