ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে যুক্তরাষ্ট্রের হাতে আটক করার দাবিকে ঘিরে বিশ্ব রাজনীতিতে নতুন করে তীব্র আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দাবি অনুযায়ী, “বৃহৎ পরিসরের” সামরিক অভিযানের মাধ্যমে মাদুরো ও তার স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসকে আটক করা হয়েছে। যদিও ভেনেজুয়েলা সরকার এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে এই দাবির সত্যতা নিশ্চিত করেনি। এমনটাই জানিয়েছে কাতার ভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা।
সংবাদমাধ্যমটির প্রতিবেদনে বলা হয়, ভেনেজুয়েলার ভাইস প্রেসিডেন্ট ডেলসি রোদ্রিগেজ জানিয়েছেন, সরকার মাদুরো ও তার স্ত্রীর অবস্থান সম্পর্কে নিশ্চিত নয়। তবে রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে প্রচারিত এক অডিও বার্তায় তিনি দাবি করেন, মাদুরো ও ফ্লোরেস জীবিত আছেন—এমন প্রমাণ সরকারের হাতে রয়েছে।
এই নাটকীয় ঘটনার পেছনে রয়েছে ক্যারিবিয়ান সাগর ও পূর্ব প্রশান্ত মহাসাগরে যুক্তরাষ্ট্রের ধারাবাহিক সামরিক হামলা। ওয়াশিংটনের ভাষ্য অনুযায়ী, মাদক পাচারে জড়িত নৌযানের বিরুদ্ধে এসব হামলা চালানো হয়েছে। একই সঙ্গে ভেনেজুয়েলার একটি কথিত মাদকবাহী নোঙরস্থলেও হামলার খবর পাওয়া গেছে।
মাদুরোকে আটকের দাবির মধ্য দিয়ে ইতিহাসে ফিরে আসছে এমন কিছু অধ্যায়, যখন যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি সামরিক হস্তক্ষেপের মাধ্যমে বিদেশি রাষ্ট্রনেতাদের গ্রেপ্তার করেছিল। এর মধ্যে সবচেয়ে আলোচিত উদাহরণ পানামার সাবেক সামরিক শাসক মানুয়েল নোরিয়েগা ও ইরাকের সাবেক প্রেসিডেন্ট সাদ্দাম হুসেইন।
১৯৮৯ সালে যুক্তরাষ্ট্র পানামায় আক্রমণ চালিয়ে নোরিয়েগাকে ক্ষমতাচ্যুত করে এবং পরে তাকে যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে গিয়ে মাদক পাচারের অভিযোগে বিচার করে। একইভাবে ২০০৩ সালে ইরাকে আক্রমণের নয় মাস পর সাদ্দাম হুসেইনকে গ্রেপ্তার করা হয়—যে যুদ্ধের ভিত্তি ছিল গণবিধ্বংসী অস্ত্র থাকার ভুয়া দাবি।
বিশ্লেষকদের মতে, মাদুরোর ঘটনাও সেই একই ছকে ফেলা হচ্ছে—যেখানে একসময় যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক থাকা কোনো নেতা পরে ওয়াশিংটনের চোখে ‘শত্রুতে’ পরিণত হলে তার বিরুদ্ধে সামরিক ও আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়।
এ প্রসঙ্গে হন্ডুরাসের সাবেক প্রেসিডেন্ট হুয়ান অরল্যান্ডো হার্নান্দেজের ঘটনাও নতুন করে আলোচনায় এসেছে। যুক্তরাষ্ট্রে মাদক ও দুর্নীতির অভিযোগে দণ্ডিত হলেও পরে ট্রাম্পের ক্ষমায় মুক্তি পাওয়া হার্নান্দেজকে ঘিরে আবার আন্তর্জাতিক গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হওয়াকে অনেকেই যুক্তরাষ্ট্রের নীতিগত দ্বিচারিতার উদাহরণ হিসেবে দেখছেন।
মাদুরোর ভাগ্যে শেষ পর্যন্ত কী ঘটবে—নোরিয়েগা কিংবা সাদ্দামের মতো পরিণতি, নাকি ভিন্ন কোনো রাজনৈতিক সমঝোতা—তা এখনো অনিশ্চিত। তবে এটুকু স্পষ্ট, এই ঘটনা লাতিন আমেরিকা ও বৈশ্বিক রাজনীতিতে যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক উসকে দিয়েছে।