ভেনেজুয়েলার ক্ষমতাচ্যুত নেতা নিকোলাস মাদুরো ও তাঁর স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রে ‘মাদক-সন্ত্রাস’সহ একাধিক গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে। মার্কিন অ্যাটর্নি জেনারেল পাম বন্ডি এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
এক্সে দেওয়া এক বার্তায় পাম বন্ডি জানান, নিউইয়র্কের সাউদার্ন ডিস্ট্রিক্ট আদালতে নিকোলাস মাদুরো ও সিলিয়া ফ্লোরেসের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়েছে। অভিযোগের মধ্যে রয়েছে মাদক-সন্ত্রাসে ষড়যন্ত্র, কোকেন আমদানির ষড়যন্ত্র এবং মেশিনগান ও ধ্বংসাত্মক ডিভাইস রাখার ষড়যন্ত্র।
এদিকে মার্কিন সিনেটর মাইক লি জানিয়েছেন, পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও তাকে অবহিত করেছেন যে নিকোলাস মাদুরোকে আটক করা হয়েছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, মাদুরো এখন যুক্তরাষ্ট্রের হেফাজতে থাকায় ভেনেজুয়েলায় আর কোনো সামরিক হামলা চালানো হবে না এবং তাকে যুক্তরাষ্ট্রেই বিচারের মুখোমুখি করা হবে।
এক্সে দেওয়া এক পোস্টে মাইক লি লেখেন, মাদুরোকে আটক করার পরোয়ানা কার্যকর করতে গিয়ে যাঁরা অভিযানে অংশ নিয়েছিলেন, তাঁদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই মধ্যরাতে ভেনেজুয়েলায় হামলা চালানো হয়েছিল। এখন যেহেতু মাদুরো যুক্তরাষ্ট্রের হাতে, তাই নতুন করে হামলার প্রয়োজন নেই বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন মার্কো রুবিও।
যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের অভিযোগ, নিকোলাস মাদুরো ভেনেজুয়েলায় একটি বৃহৎ মাদক সাম্রাজ্য গড়ে তুলেছেন, যেখানে উৎপাদিত মাদক যুক্তরাষ্ট্রে পাচার করা হতো। এসব অভিযোগের ভিত্তিতে ২০২০ সালে তাঁর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয় এবং তাকে গ্রেপ্তার বা আটক করতে সহায়তার জন্য ৫ কোটি ডলার পুরস্কার ঘোষণা করা হয়।
কয়েক মাস ধরে চলা সামরিক চাপ ও হুমকির পর শনিবার ৩ জানুয়ারি ভোরে ভেনেজুয়েলায় হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন সংবাদমাধ্যম এপির প্রতিবেদনে বলা হয়, ভোরের দিকে রাজধানী কারাকাসসহ বিভিন্ন এলাকায় একাধিক শক্তিশালী বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়।
এরপর হোয়াইট হাউসের কর্মকর্তারা সিবিএসকে জানান, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কারাকাসে হামলার নির্দেশ দিয়েছেন। যদিও হোয়াইট হাউস এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেয়নি।
হামলার পরপরই প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক পোস্টে নিশ্চিত করেন, মার্কিন বাহিনী ভেনেজুয়েলা ও এর নেতৃত্বের বিরুদ্ধে একটি বৃহৎ পরিসরের অভিযান পরিচালনা করেছে। তিনি জানান, মার্কিন আইন প্রয়োগকারী সংস্থার পরিচালিত অভিযানে নিকোলাস মাদুরো ও তাঁর স্ত্রীকে আটক করে বিমানে করে দেশটির বাইরে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে ভেনেজুয়েলা সরকার জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র কারাকাসে ‘সামরিক আগ্রাসন’ চালিয়েছে, যা তারা প্রত্যাখ্যান করছে। এই পরিস্থিতিতে দেশটিতে জরুরি অবস্থা জারি করা হয়েছে।
ভেনেজুয়েলা সরকারের বিবৃতিতে বলা হয়, কারাকাসের পাশাপাশি মিরান্ডা, আরাগওয়া ও লা গুয়াইরা রাজ্যেও হামলা হয়েছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে প্রেসিডেন্ট মাদুরো দেশজুড়ে জাতীয় জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেন এবং প্রতিরক্ষা বাহিনী মোতায়েনের নির্দেশ দেন।