লক্ষ্মীপুরে বিএনপি ও জামায়াতের নেতা–কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। আহতদের সদর হাসপাতালসহ বিভিন্ন ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় সদর উপজেলার চরশাহী ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের বটগাছতলা এলাকায় এই সংঘর্ষ ঘটে।
বিএনপির নেতা–কর্মীদের অভিযোগ, জামায়াতের কর্মীরা ভোটারদের কাছ থেকে জাতীয় পরিচয়পত্র সংগ্রহ করছিলেন। এ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে প্রথমে কথা-কাটাকাটি শুরু হয়, যা পরে সংঘর্ষে রূপ নেয়। ঘটনার প্রতিবাদে রাত সাড়ে আটটার দিকে জামায়াতের নেতা–কর্মীরা শহরে মিছিল করেন। মিছিল চলাকালে বিএনপির বিরুদ্ধে স্লোগান দেওয়া হয়।
সংঘর্ষের খবর পেয়ে রাতে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) হোসাইন মোহাম্মদ রায়হান কাজেমী সদর হাসপাতালে গিয়ে আহত ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলেন। এ সময় বিএনপি ও জামায়াতের নেতা–কর্মীরা হাসপাতালে জড়ো হয়ে বিভিন্ন স্লোগান দেন। পরিস্থিতি উত্তপ্ত থাকায় হাসপাতাল এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
আহতদের মধ্যে রয়েছেন চরশাহী ইউনিয়ন জামায়াতে ইসলামীর যুব বিভাগের সহসভাপতি সাকিব হোসেন, সেক্রেটারি আবদুর রহমান, ৪ নম্বর ওয়ার্ড সভাপতি হেজবুল্লাহ সোহেল, শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের নেতা এমরান হোসেন ও শাহাদাত হোসেন খোকন এবং বিএনপির কর্মী রাসেল ভুঁইয়া ও কামাল হোসেন।
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, ওই এলাকার একটি বাড়িতে জামায়াতের নারী কর্মীরা দলীয় প্রচারে গেলে ভোটারদের কাছে আইডি কার্ড চাওয়া হয়। এ নিয়ে বিএনপি নেতা রাসেল ভুঁইয়া ও জামায়াতের যুব বিভাগের নেতা আবদুর রহমানের মধ্যে তর্ক হয়। একপর্যায়ে রাসেল ভুঁইয়া আবদুর রহমানকে মারধর করলে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এবং পরে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বাধে।
চন্দ্রগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোরশেদ আলম বলেন, ভোটারদের কাছ থেকে আইডি কার্ড চাওয়াকে কেন্দ্র করে তর্কের একপর্যায়ে মারামারির ঘটনা ঘটে। এতে বিএনপি ও জামায়াতের কয়েকজন আহত হয়েছেন বলে তিনি শুনেছেন। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
জেলা জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি আশরাফুল রহমান হাফিজ উল্যাহ অভিযোগ করে বলেন, পরিকল্পিতভাবে বিএনপির নেতা–কর্মীরা তাঁদের ওপর হামলা চালিয়েছেন। জাতীয় পরিচয়পত্র চাওয়ার অভিযোগ সঠিক নয় বলে তিনি দাবি করেন।
অন্যদিকে জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হাছিবুর রহমান বলেন, জামায়াতের নেতা–কর্মীরা ভোটারদের কাছ থেকে জাতীয় পরিচয়পত্র সংগ্রহ করছিলেন। এ নিয়ে তর্কের একপর্যায়ে জামায়াতের নেতা–কর্মীরা বিএনপির কয়েকজনকে মারধর করে আহত করেন বলে তাঁর অভিযোগ।