কুড়িগ্রামে প্রান্তিক কৃষকদের সহায়তায় ব্র্যাক দেশব্যাপী ৫৩ কোটি টাকার একটি বিশেষ কর্মসূচি ঘোষণা করেছে। খাদ্য মূল্যস্ফীতি ও কৃষি উপকরণের ক্রমবর্ধমান ব্যয়ের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় এ কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে বলে জানানো হয়।
ব্র্যাক জানায়, কর্মসূচির মূল লক্ষ্য ক্ষুদ্র কৃষকদের উৎপাদন সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং তাদের টেকসই অর্থনৈতিক উন্নয়ন নিশ্চিত করা। এর মাধ্যমে কুড়িগ্রামের কয়েক হাজার কৃষক, কৃষি উদ্যোক্তা ও শিক্ষার্থী সরাসরি উপকৃত হবেন।
কর্মসূচির আওতায় কৃষকদের আধুনিক প্রযুক্তিগত সহায়তা, উন্নতমানের কৃষি উপকরণ এবং দক্ষতা উন্নয়নমূলক প্রশিক্ষণ প্রদান করা হচ্ছে। এর অংশ হিসেবে বৃহস্পতিবার সকালে ব্র্যাক কার্যালয়ে ব্র্যাক মাইক্রোফাইন্যান্সের উদ্যোগে বিনামূল্যে কৃষি উপকরণ বিতরণ করা হয়। অনুষ্ঠানে কুড়িগ্রাম সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) আরিফুল ইসলাম, ব্র্যাকের জেলা সমন্বয়কারী সৈয়দ ফাহিদ হাসানসহ অনেকে উপস্থিত ছিলেন।
এ সময় জানানো হয়, কৃষকদের জন্য একটি করে পাওয়ার টিলার ও মাড়াই যন্ত্র বিতরণ করা হবে। পাশাপাশি পরিবেশবান্ধব কৃষি ব্যবস্থাপনায় ৯টি ভার্মি কম্পোস্ট ইউনিট স্থাপন এবং সেচ ব্যয় কমাতে ৪০ জন কৃষকের জন্য ৮০টি পানি-সাশ্রয়ী প্রযুক্তি বিতরণ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। এছাড়া একটি আলু ও পেঁয়াজ সংরক্ষণাগার নির্মাণের পরিকল্পনাও গ্রহণ করা হয়েছে।
প্রাণিসম্পদ ও মৎস্য খাতে উন্নয়নের অংশ হিসেবে ৪৬ জন মৎস্যচাষীকে ১ লাখ ১৫ হাজার মনোসেক্স তেলাপিয়ার পোনা, ২১০ জন ক্ষুদ্র চাষিকে ৪ হাজার ২০০টি হাঁস-মুরগির বাচ্চা এবং ১১ হাজার গাছের চারা বিতরণ করা হয়েছে। পাশাপাশি ১০০ জন খামারির গবাদিপশুর জন্য বিনামূল্যে টিকা কর্মসূচি চালু করা হয়েছে।
এছাড়া সুবিধাবঞ্চিত তরুণীদের আত্মনির্ভরশীল করতে ব্র্যাকের ‘স্বপ্নসারথি’ উদ্যোগের আওতায় ১৩৬ জন তরুণীকে হাঁস-মুরগি পালনের প্রশিক্ষণসহ ৬ হাজার টাকার সহায়তায় ২০টি করে হাঁস-মুরগি প্রদান করা হয়েছে। একই সঙ্গে দুইজন কিশোরীকে দুটি গাভি প্রদান করা হয়। শিক্ষা খাতে ৯৩ জন মেধাবী শিক্ষার্থীকে ৭ থেকে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত শিক্ষা অনুদান দেওয়া হয়েছে।
ব্র্যাকের জেলা সমন্বয়কারী সৈয়দ ফাহিদ হাসান বলেন, কৃষকদের উৎপাদন সক্ষমতা বাড়াতে শুধু ঋণ নয়, আধুনিক কৃষি প্রযুক্তিতে সরাসরি বিনিয়োগই এই কর্মসূচির মূল লক্ষ্য। কৃষি প্রশিক্ষণ ও আধুনিক প্রযুক্তি পৌঁছে দিতে মাঠপর্যায়ে কাজ চলমান রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, জমির উর্বরতা রক্ষা, জৈব বালাইনাশকের ব্যবহার এবং উন্নত জাতের ধান চাষে নিয়মিত প্রশিক্ষণ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। এই উদ্যোগ কুড়িগ্রামের প্রান্তিক মানুষের জীবনমান উন্নয়ন এবং স্থানীয় অর্থনীতিকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।