পবিত্র শবে বরাত উপলক্ষে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে (কুবি) কুরআন অ্যান্ড কালচারাল স্টাডিজ ক্লাবের উদ্যোগে নিসফি শাবান উৎসব ও নাশীদ সন্ধ্যার আয়োজন করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের মুক্তমঞ্চে এ আয়োজন অনুষ্ঠিত হয়।
পবিত্র কুরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়। পরে শবে বরাত উপলক্ষে আয়োজিত নিসফি শাবান উৎসবকে চারটি পর্বে ভাগ করে পালন করা হয়। পর্বগুলোতে ছিল ঐতিহ্যবাহী মুসলিম বাংলার গান, গজল ও নাশীদ পরিবেশনা, পবিত্র কুরআন তেলাওয়াত, কিয়ামুল লাইল এবং মুসলিম রেনেসাঁর কবি ফররুখ আহমদের কবিতা আবৃত্তি।
এছাড়াও অনুষ্ঠানে গজল ও নাশীদ প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। সবশেষে হালুয়া-রুটি বিতরণের মাধ্যমে কর্মসূচির সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়। একই সঙ্গে নিসফি শাবান বা শবে বরাতের রাতে সবাইকে আল্লাহর ইবাদত ও বন্দেগিতে মনোনিবেশ করার আহ্বান জানানো হয়।
অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে কুরআন অ্যান্ড কালচারাল স্টাডিজ ক্লাবের সভাপতি রিফাতুল ইসলাম বলেন, “এই রাতে বাংলার ঘরে ঘরে আলো জ্বলে ওঠে, হালুয়া-রুটির সুবাস ছড়িয়ে পড়ে। মানুষ মানুষকে ডাকে, ক্ষমা চায় ও ক্ষমা করে। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে আমরা অনেক সময় নিসফি শাবানকে কেবল মাসআলার কঠোর তুলাদণ্ডে বিচার করতে গিয়ে এর সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও আত্মিক আবেদন উপেক্ষা করি।”
তিনি আরও বলেন, “যে সংস্কৃতি মানুষকে আল্লাহমুখী করে, তওবার পথে ফেরায় এবং অহংকার ভেঙে মানুষকে নরম করে—তা অস্বীকার করার বিষয় হতে পারে না। সংস্কৃতি তখনই মূল্যহীন হয়ে পড়ে, যখন তা মানুষকে গাফেল করে তোলে।”
তিনি বলেন, “সংস্কৃতি তখনই জীবন্ত থাকে, যখন তা মানুষকে আল্লাহর দিকে ফেরায়। আমরা যদি নিসফি শাবানকে বাংলার নিজস্ব ঐতিহ্য ও আবহমান সংস্কৃতির অংশ হিসেবে সংযম, শালীনতা ও ইসলামের মূলনীতির আলোকে উদযাপন করতে পারি, তাহলে এই রাত আমাদের আত্মপরিচয়ের শক্ত ভিত্তিতে পরিণত হবে। আজকের নাশীদ সন্ধ্যার উদ্দেশ্য হলো নিজেদের শিকড়ে ফিরে যাওয়া এবং সংস্কৃতিকে ইসলামের সৌন্দর্যে আলোকিত করা।”
সবশেষে তিনি এই আয়োজন কবুল করার জন্য আল্লাহ তায়ালার দরবারে দোয়া করেন।